
ফরহাদ রহমান স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার কক্সবাজারের উখিয়ায় জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় এক বাংলাদেশি যুবককে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে সশস্ত্র রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার দুপুরে পালংখালী ইউনিয়নের ১৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-২ ব্লকে এ ঘটনা ঘটে। গুলিতে গুরুতর আহত হন স্থানীয় ব্যবসায়ী ওবাইদুল হক লালু (৩২)। ঘটনার পর ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। স্থানীয় সূত্র জানায়, জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিরা মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় হঠাৎ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, মসজিদের সামনে লালুর সঙ্গে কয়েকজন রোহিঙ্গার কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে অস্ত্রধারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তার ডান পায়ের গোড়ালিতে গুলি লাগে। আহত লালু পালংখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চোরখোলা এলাকার আবুল হোসেন (ভুলু)-এর ছেলে। তাকে প্রথমে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতের বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমার ভাই মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার চাই।” স্থানীয়দের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধ, আর্থিক লেনদেন ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে গুলির প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী মরিয়ম বেগম জানান, “জুমার নামাজের পর হঠাৎ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পরে জানতে পারি একজন বাংলাদেশি যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।” এদিকে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, গুলির ঘটনার পর অস্ত্রধারীরা ক্যাম্পের কাঁটাতারসংলগ্ন এলাকা দিয়ে বাংলাদেশি বসতিপূর্ণ এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ ও এপিবিএনের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। উখিয়া থানার এসআই আরমান আজাদ বলেন, “১৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাঁটাতারের পাশে স্থানীয় এক বাংলাদেশি দোকানদারকে গুলি করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।” ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, “ঘটনার পর ক্যাম্পের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।” পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “ক্যাম্পের ভেতরে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার উদ্বেগজনক। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আরও কঠোর অভিযান প্রয়োজন।” পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবর্ষণের প্রকৃত কারণ উদঘাটন, ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের মধ্যে এখনো উদ্বেগ বিরাজ করছে।
Reporter Name 


















