ঢাকা ০৯:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরকীয়ায় নিঃস্ব সংসার: স্বামী ও প্রেমিক দুজনকেই হারালেন নিলুফা ​

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ২৯ Time View
Print

খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর গলাচিপায় পরকীয়া ও পারিবারিক বিরোধের জেরে ভেঙ্গে গেছে ১৮ বছরের একটি সুখের সাজানো সংসার। স্বামীকে তালাক দিয়ে ও শিশু সন্তানকে ফেলে প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে গিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি দুই সন্তানের জননী নিলুফা বেগমের। বিবাহের মাত্র এক মাসের মাথায় দ্বিতীয় স্বামী অর্থাৎ সেই প্রেমিকের সাথেও বিচ্ছেদ ঘটেছে তার। বর্তমানে স্বামী ও প্রেমিক উভয়কেই হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি। ​ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কল্যাণ কলস গ্রামে। ​অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় ১৮-২০ বছর পূর্বে কল্যাণ কলস গ্রামের মৃত মোবারক হাওলাদারের ছেলে মো. রফিক হাওলাদার (৩৫)-এর সাথে বকুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া গ্রামের শানু হাওলাদারের মেয়ে মোসা. নিলুফা বেগম (৩০)-এর ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী রেজিস্ট্রি কাবিন মূলে বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে ফারজানা (২০) ও ফাতেমা (৮) নামে দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে ফারজানার বিয়ে হওয়ায় তিনি স্বামীর পরিবারে থাকেন। ​সংগ্রামের পর সংসারে সাফল্য এলেও পরবর্তীতে তৈরি হয় ফাটল। জানা যায়, কয়েক বছর পূর্বে পরিবারের অভাব-অনটন কাটাতে রফিক ও নিলুফা দম্পতি ঢাকায় চলে যান। নারায়ণগঞ্জের পাগলা এলাকায় বসবাস শুরু করে, রফিক রিকশা চালিয়ে এবং নিলুফা পোশাক কারখানায় কাজ করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে সংসারে অসচ্ছলতা দূর করেন। কিন্তু এরই মধ্যে নিলুফা শরীয়তপুর জেলার অধিবাসী বাবুল নামে এক ব্যক্তির সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। বাবুল ওই একই এলাকায় ভাড়া থাকতেন। ​পরকীয়ার বিষয়টি জানতে পেরে রফিক স্ত্রীকে একাধিকবার নিষেধ করলেও নিলুফা তা কর্ণপাত করেননি। রফিকের অভিযোগ, তার ছোট ভায়রা এবং গলাচিপার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া গ্রামের মুনসুর পালোয়ানের ছেলে আবদুর রহমান পালোয়ান এই অনৈতিক সম্পর্কে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন। ​অভিযোগে রফিক আরও জানান, স্ত্রীকে শাসন করতে গেলে রহমান ঢাকায় গিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এতে শঙ্কিত হয়ে বড় মেয়ে ফারজানার পরামর্শে রফিক জীবন বাঁচাতে গ্রামে ফিরে আসেন। এই সুযোগে নিলুফা নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে রফিককে তালাক দিয়ে বাসা থেকে জমানো টাকা-পয়সা নিয়ে পালিয়ে গিয়ে বাবুলকে বিয়ে করেন।তালাকের কয়েকদিনের মাথায় আট বছরের ছোট মেয়ে ফাতেমাকে রফিকের বড় বোন আকলিমার বাড়িতে রেখে চলে যান নিলুফা। বর্তমানে রফিক চরম কষ্টের মধ্যে একা হাতে ছোট মেয়েটিকে লালন-পালন করছেন। ​তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। পরকীয়া থেকে বিয়ে হলেও বাবুলের সাথে নিলুফার নতুন সংসার এক মাসের বেশি টেকেনি। নিলুফা বর্তমানে তার ছোট ভগ্নিপতি রহমানের রতনদী তালতলী এলাকার বাসায় বেড়াতে এসেছেন। ​ঘটনার সরেজমিন অনুসন্ধানে গিয়ে নিলুফা বেগমের সাথে কথা বললে তিনি পরকীয়া ও টাকা-পয়সা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেন। নিলুফা দাবী করেন, “রফিকের সাথে দীর্ঘদিনের সাংসারিক বিরোধ এবং প্রতিনিয়ত শারীরিক নির্যাতনের কারণেই আমি তাকে তালাক দিয়েছি। তার কোনো টাকা আমি নেইনি, বরং এনজিও থেকে তোলা আমার ঋণের টাকা রফিক নিজেই ভোগ করেছে।” দ্বিতীয় স্বামী বাবুলকে তালাক দেওয়ার কথা জানতে চাইলে তিনি জানান, সে এক মাসে আমাকে একশোবার মেরেছে এবং সে আরও খারাপ তাই তাকেও তালাক দিয়েছি। নিলুফা আর কোন বিয়ে করবেন কি-না– তা জানতে চাইলে তিনি জানান, ভালো ছেলে পেলে পুনরায় বিয়ে করবেন।   ​হুমকি ও সহযোগিতার বিষয়ে ছোট ভায়রা আবদুর রহমান পালোয়ান বলেন, “আমি ঢাকায় গিয়েছি কিন্তু রফিককে কোনো হুমকি দিইনি এবং নিলুফার পরকীয়ায় আমার কোনো ভূমিকা ছিল না।” ​ছোট বাচ্চার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে রফিক নিলুফার সব দোষ ক্ষমা করে দিলে পুনরায় নিলুফা তার সাথে সংসার করতে রাজি আছেন কি না—এ বিষয়ে নিলুফার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রথমে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে চিন্তা ভাবনা করে জানানোর কথা বললেও শেষ পর্যন্ত রফিকের সাথে পুনরায় সংসার করতে অস্বীকৃতি জানান এবং শিশু সন্তানটিকে নিতেও রাজি হয়নাই। ​বিষয়টি নিশ্চিত হতে নিলুফার দ্বিতীয় স্বামী বাবুলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ​এদিকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাদের বড় মেয়ে ফারজানা জানান, “আমাদের পরিবারে অনেক সুখে-শান্তি ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই মায়ের কারণে সব শেষ হয়ে গেল। রহমান পালোয়ান ক্লাবের ছেলেদের দিয়ে বাবাকে মারার হুমকি দিলে বাবার প্রাণ রক্ষার্থে আমিই তাকে গ্রামে চলে আসতে বলি। এরপর মা, বাবাকে তালাক দিয়ে বাবুলকে বিয়ে করে পুরো সংসারটি ধ্বংস করে দিল।” ​বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

অদ্য ২৮ আগস্ট ২০২৬ খ্রি. তারিখে The Sportiva টার্ফে কলসিন্দুর অনূর্ধ্ব-১৭ মহিলা দল ও উদয়ন ফুটবল একাডেমি অনূর্ধ্ব-১৭ মহিলা দলের মধ্যকার বিশেষ ম্যাচের শুভ উদ্বোধন করেন।

পরকীয়ায় নিঃস্ব সংসার: স্বামী ও প্রেমিক দুজনকেই হারালেন নিলুফা ​

Update Time : ০১:০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
Print

খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর গলাচিপায় পরকীয়া ও পারিবারিক বিরোধের জেরে ভেঙ্গে গেছে ১৮ বছরের একটি সুখের সাজানো সংসার। স্বামীকে তালাক দিয়ে ও শিশু সন্তানকে ফেলে প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে গিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি দুই সন্তানের জননী নিলুফা বেগমের। বিবাহের মাত্র এক মাসের মাথায় দ্বিতীয় স্বামী অর্থাৎ সেই প্রেমিকের সাথেও বিচ্ছেদ ঘটেছে তার। বর্তমানে স্বামী ও প্রেমিক উভয়কেই হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি। ​ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কল্যাণ কলস গ্রামে। ​অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় ১৮-২০ বছর পূর্বে কল্যাণ কলস গ্রামের মৃত মোবারক হাওলাদারের ছেলে মো. রফিক হাওলাদার (৩৫)-এর সাথে বকুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া গ্রামের শানু হাওলাদারের মেয়ে মোসা. নিলুফা বেগম (৩০)-এর ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী রেজিস্ট্রি কাবিন মূলে বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে ফারজানা (২০) ও ফাতেমা (৮) নামে দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে ফারজানার বিয়ে হওয়ায় তিনি স্বামীর পরিবারে থাকেন। ​সংগ্রামের পর সংসারে সাফল্য এলেও পরবর্তীতে তৈরি হয় ফাটল। জানা যায়, কয়েক বছর পূর্বে পরিবারের অভাব-অনটন কাটাতে রফিক ও নিলুফা দম্পতি ঢাকায় চলে যান। নারায়ণগঞ্জের পাগলা এলাকায় বসবাস শুরু করে, রফিক রিকশা চালিয়ে এবং নিলুফা পোশাক কারখানায় কাজ করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে সংসারে অসচ্ছলতা দূর করেন। কিন্তু এরই মধ্যে নিলুফা শরীয়তপুর জেলার অধিবাসী বাবুল নামে এক ব্যক্তির সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। বাবুল ওই একই এলাকায় ভাড়া থাকতেন। ​পরকীয়ার বিষয়টি জানতে পেরে রফিক স্ত্রীকে একাধিকবার নিষেধ করলেও নিলুফা তা কর্ণপাত করেননি। রফিকের অভিযোগ, তার ছোট ভায়রা এবং গলাচিপার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া গ্রামের মুনসুর পালোয়ানের ছেলে আবদুর রহমান পালোয়ান এই অনৈতিক সম্পর্কে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন। ​অভিযোগে রফিক আরও জানান, স্ত্রীকে শাসন করতে গেলে রহমান ঢাকায় গিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এতে শঙ্কিত হয়ে বড় মেয়ে ফারজানার পরামর্শে রফিক জীবন বাঁচাতে গ্রামে ফিরে আসেন। এই সুযোগে নিলুফা নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে রফিককে তালাক দিয়ে বাসা থেকে জমানো টাকা-পয়সা নিয়ে পালিয়ে গিয়ে বাবুলকে বিয়ে করেন।তালাকের কয়েকদিনের মাথায় আট বছরের ছোট মেয়ে ফাতেমাকে রফিকের বড় বোন আকলিমার বাড়িতে রেখে চলে যান নিলুফা। বর্তমানে রফিক চরম কষ্টের মধ্যে একা হাতে ছোট মেয়েটিকে লালন-পালন করছেন। ​তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। পরকীয়া থেকে বিয়ে হলেও বাবুলের সাথে নিলুফার নতুন সংসার এক মাসের বেশি টেকেনি। নিলুফা বর্তমানে তার ছোট ভগ্নিপতি রহমানের রতনদী তালতলী এলাকার বাসায় বেড়াতে এসেছেন। ​ঘটনার সরেজমিন অনুসন্ধানে গিয়ে নিলুফা বেগমের সাথে কথা বললে তিনি পরকীয়া ও টাকা-পয়সা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেন। নিলুফা দাবী করেন, “রফিকের সাথে দীর্ঘদিনের সাংসারিক বিরোধ এবং প্রতিনিয়ত শারীরিক নির্যাতনের কারণেই আমি তাকে তালাক দিয়েছি। তার কোনো টাকা আমি নেইনি, বরং এনজিও থেকে তোলা আমার ঋণের টাকা রফিক নিজেই ভোগ করেছে।” দ্বিতীয় স্বামী বাবুলকে তালাক দেওয়ার কথা জানতে চাইলে তিনি জানান, সে এক মাসে আমাকে একশোবার মেরেছে এবং সে আরও খারাপ তাই তাকেও তালাক দিয়েছি। নিলুফা আর কোন বিয়ে করবেন কি-না– তা জানতে চাইলে তিনি জানান, ভালো ছেলে পেলে পুনরায় বিয়ে করবেন।   ​হুমকি ও সহযোগিতার বিষয়ে ছোট ভায়রা আবদুর রহমান পালোয়ান বলেন, “আমি ঢাকায় গিয়েছি কিন্তু রফিককে কোনো হুমকি দিইনি এবং নিলুফার পরকীয়ায় আমার কোনো ভূমিকা ছিল না।” ​ছোট বাচ্চার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে রফিক নিলুফার সব দোষ ক্ষমা করে দিলে পুনরায় নিলুফা তার সাথে সংসার করতে রাজি আছেন কি না—এ বিষয়ে নিলুফার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রথমে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে চিন্তা ভাবনা করে জানানোর কথা বললেও শেষ পর্যন্ত রফিকের সাথে পুনরায় সংসার করতে অস্বীকৃতি জানান এবং শিশু সন্তানটিকে নিতেও রাজি হয়নাই। ​বিষয়টি নিশ্চিত হতে নিলুফার দ্বিতীয় স্বামী বাবুলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ​এদিকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাদের বড় মেয়ে ফারজানা জানান, “আমাদের পরিবারে অনেক সুখে-শান্তি ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই মায়ের কারণে সব শেষ হয়ে গেল। রহমান পালোয়ান ক্লাবের ছেলেদের দিয়ে বাবাকে মারার হুমকি দিলে বাবার প্রাণ রক্ষার্থে আমিই তাকে গ্রামে চলে আসতে বলি। এরপর মা, বাবাকে তালাক দিয়ে বাবুলকে বিয়ে করে পুরো সংসারটি ধ্বংস করে দিল।” ​বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।