ঢাকা ০১:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গলাচিপায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ: ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:১৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪৬ Time View
Print

খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান, পটুয়াখালী: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর গলাচিপায় দলটির দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সংঘাত ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর দুইটার দিকে পৌর শহরের সদর রোড এলাকায় এই সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়।আহতদের উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল এবং বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘাত চলাকালে স্থানীয় একটি হোটেলে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। ​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষে দলটির সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা হাসান মামুন সমর্থকেরা সকাল থেকেই সিনেমা হল প্রাঙ্গণে এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইখতিয়ার কবির ও জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিপলু খানের সমর্থকেরা উপজেলা দলীয় কার্যালয়ে পৃথকভাবে জড়ো হতে থাকেন। কোনো ধরনের সহিংসতা যেন না ঘটে, সে লক্ষ্যে সময় বেঁধে দিয়ে হাসান মামুন ও শিপলু খানের সমর্থকদের আলাদাভাবে শোভাযাত্রার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সে লক্ষ্যে দুপুর একটার দিকে শিপলু খানের সমর্থনে একটি মিছিল সদর রোড হয়ে মডেল মসজিদের সামনে পৌঁছালে অপর পক্ষের সাথে প্রথম দফায় হাতাহাতি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা সংঘাতে জড়াতে মারমুখী হয়ে উঠলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। ​এর প্রায় আধঘণ্টা পর হাসান মামুনের সমর্থকেরা সিনেমা হল এলাকা থেকে একটি মিছিল নিয়ে সদর রোডের বটতলা এলাকায় পৌঁছালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেরিকেড দিয়ে তাদের গতিপথ খেয়াঘাটের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। ঠিক সেই মুহূর্তেই অপর পক্ষের নেতা-কর্মীরা মিছিলে ঢুকে পড়লে সংঘাত চরম আকার ধারণ করে। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ, এতে উভয় পক্ষের অনেকে রক্তাক্ত ও আহত হন। একপর্যায়ে হাসান মামুনের কিছু সমর্থক আত্মরক্ষার্থে হাইস্কুল সড়কের ‘হাবিব হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট’-এ আশ্রয় নিলে একদল দুষ্কৃতকারী সেখানে ঢুকে তাণ্ডব ও ভাঙচুর চালায়। হোটেলের মালিকপক্ষ দাবি করেন এতে তাদের প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং কর্মচারী আহত হয়েছেন। তবে হামলাকারীরা কোন পক্ষের তা তাৎক্ষণিকভাবে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়নি। ​ঘটনার পর পুলিশ ও র‍্যাবের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে তৎপর ছিল এবং বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোন মামলা দায়ের হয়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ধামরাইয়ে শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের মাসিক মতবিনিময় সভা

গলাচিপায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ: ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

Update Time : ১২:১৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Print

খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান, পটুয়াখালী: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর গলাচিপায় দলটির দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সংঘাত ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর দুইটার দিকে পৌর শহরের সদর রোড এলাকায় এই সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়।আহতদের উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল এবং বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘাত চলাকালে স্থানীয় একটি হোটেলে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। ​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষে দলটির সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা হাসান মামুন সমর্থকেরা সকাল থেকেই সিনেমা হল প্রাঙ্গণে এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইখতিয়ার কবির ও জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিপলু খানের সমর্থকেরা উপজেলা দলীয় কার্যালয়ে পৃথকভাবে জড়ো হতে থাকেন। কোনো ধরনের সহিংসতা যেন না ঘটে, সে লক্ষ্যে সময় বেঁধে দিয়ে হাসান মামুন ও শিপলু খানের সমর্থকদের আলাদাভাবে শোভাযাত্রার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সে লক্ষ্যে দুপুর একটার দিকে শিপলু খানের সমর্থনে একটি মিছিল সদর রোড হয়ে মডেল মসজিদের সামনে পৌঁছালে অপর পক্ষের সাথে প্রথম দফায় হাতাহাতি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা সংঘাতে জড়াতে মারমুখী হয়ে উঠলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। ​এর প্রায় আধঘণ্টা পর হাসান মামুনের সমর্থকেরা সিনেমা হল এলাকা থেকে একটি মিছিল নিয়ে সদর রোডের বটতলা এলাকায় পৌঁছালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেরিকেড দিয়ে তাদের গতিপথ খেয়াঘাটের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। ঠিক সেই মুহূর্তেই অপর পক্ষের নেতা-কর্মীরা মিছিলে ঢুকে পড়লে সংঘাত চরম আকার ধারণ করে। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ, এতে উভয় পক্ষের অনেকে রক্তাক্ত ও আহত হন। একপর্যায়ে হাসান মামুনের কিছু সমর্থক আত্মরক্ষার্থে হাইস্কুল সড়কের ‘হাবিব হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট’-এ আশ্রয় নিলে একদল দুষ্কৃতকারী সেখানে ঢুকে তাণ্ডব ও ভাঙচুর চালায়। হোটেলের মালিকপক্ষ দাবি করেন এতে তাদের প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং কর্মচারী আহত হয়েছেন। তবে হামলাকারীরা কোন পক্ষের তা তাৎক্ষণিকভাবে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়নি। ​ঘটনার পর পুলিশ ও র‍্যাবের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে তৎপর ছিল এবং বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোন মামলা দায়ের হয়নি।