
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁর বদলগাছীতে জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম সংশোধন করতে বিশ হাজার টাকা ঘুষ দাবির করার অভিযোগ,অফিসে উঠেছে বদলগাছী উপজেলা নির্বাচন অফিসে কর্মরত রুবেলের বিরুদ্ধে। জানা যায়, গত ২১/০৮/২০২৬ইং তারিখে মোছাঃ সাগরী বেগম, স্বামীঃ মোঃ মাসুদ রানা, সাং কিসমত পাঁচ ঘরিয়া, ডাকঘরঃ ঐতিহাসিক পাহাড়পুর, থানা- বদলগাছী, জেলা- নওগাঁ তার স্বামীর নামীয় জাতীয় পরিচয়পত্র এর (মোঃ মাসুদ এর স্থলে মোঃ মাসুদ রানা) হবে।সেইলক্ষে নাম সংশোধনের জন্য আবেদন করতে নির্বাচন অফিসে গেলে অভিযুক্ত রুবেল হোসেন তার নিকট (সাগরীর)হতে সকল ডকুমেন্টস (কাগজাদি) গুলো নেন। তারপর তিনি তাদের প্রস্তাবাকারে বলেন এখন অনলাইন আবেদন করতে লাগবে ১২৫০/- টাকা, এরপর আবেদন হয়ে গেলে দিতে হবে বিশ হাজার টাকা। বিশ হাজার টাকা দিলে মোবাইলে এসএমএস যাবে এসএমএস যাওয়ার পর মোবাইল নিয়ে এসে আপনার সংশোধিত জাতীয় পরিচয় পত্র নিয়ে যাবেন। কাগজ পত্র গুলো আমাকে দিয়ে মোবাইল নম্বর দিয়ে যান ফোন করে জেনে নিবো আপনারা কাজ করাবেন কিনা! তবে বিশ হাজার টাকার নিচে এই কাজ করা যাবে না। ভুক্তভোগী সাগরী ও তার ভাই সাগর হোসেন গত ২৩/০৮/২৬ ইং তারিখ বৃহস্পতিবার নির্বাচন অফিসে গিয়ে কাজ করার কথা বললে রুবেল জানান আগে বিশ হাজার টাকা দিতে হবে।সাগরী ও সাগর এত টাকা লাগবে কেন জানতে চান এবং পরবর্তীতে চার হাজার টাকা দিতে চান। কিন্তু রুবেল বিশ হাজার টাকার নিচে এই কাজ করা যাবে না বলে উল্টে তাদের কাগজ পত্র ফিরিয়ে দিয়ে হুমকি সরূপ বলেন, আপনারা কোথায় এবং কেমন করে কাজ করেন সেটা আমি দেখবো। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী সাগরী জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করতে না পেরে গত ২৪/০৮/২৬ ইং তারিখ বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সচেতন মহলে কথা বললে তারা জানান, বর্তমানে জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধনী সরকারি নির্ধারিত ফি সর্বনিন্ম ১১৫/- টাকা হতে সর্ব্বোচ্চ ৫৭৫/- টাকা সেখানে বদলগাছী উপজেলা নির্বাচন অফিসে কর্মরত থেকে রুবেল হোসেন ১২৫০/- টাকা কিসের ফি চান? আর জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন হয়ে গেলে আবারও বিশ হাজার টাকা দিতে হবে। এটা কি সরকারি ফিস নাকি ঘুস। ইতিপূর্বে ও তার বিরুদ্ধে এরূপ অভিযোগ শোনা গিয়েছে। তারা আরও জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়ি জেলার বদলগাছী উপজেলার সদর ইউপির চমচমপুর গ্রামে। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী গণ নিজ উপজেলায় কাজ করেন জানি।তবে অভিযোগ উঠার পরও এই অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজ উপজেলায় কিভাবে কাজ করেন? তার বিরুদ্ধে তদন্ত পূ্র্বক আমরা বিভাগীয় শাস্তির দাবি করছি। জানতে চেয়ে ভুক্তভোগী সাগরীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি নির্বাচন অফিসে আমার স্বামীর জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করতে গিয়েছিলাম সেখানে চাকরি করে রুবেল হোসেন আমার কাজ করে দেবে বলে বিশ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় সে আমার কাগজ পত্র ফিরিয়ে দেয় এবং উল্টে আমাকে হুমকি দেন যে আমার কাজ কে করে দেয় সে নাকি সেটা দেখে নেবে। আবার যেখানে জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করতে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অনলাইন ফি নিন্ম ১১৫ টাকা উচ্চ ৫৭৫/- টাকা সেখানে তিনি আমার কাছ থেকে নিয়েছেন ১২৫০/- টাকা। উপায়ন্তর না পেয়ে আমি বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত রুবেল হোসেন পুরো ঘটনা অস্বীকার করে জানান,আমি ছোট চাকরি করি আমি কি এসব করতে পারি। এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ রকিব উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ও তিনি তার মুঠোফোন টি রিসিভ না করায় তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চেয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহান ছনি জানান, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
Reporter Name 


















