ঢাকা ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী ফ্যাসিবাদ আমলের বিতর্কিত কর্মকর্তার ‘পুনর্বাসন’ চেষ্টা, হাইটেক পার্কে পদায়ন ঘিরে তীব্র ক্ষোভ, কঠোর অবস্থানে ছাত্রদল

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৩ Time View
Print

স্টাফ রিপোর্টার:মনিরুল ইসলাম আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা নেওয়া এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগ ওঠা এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে পদায়নের উদ্যোগ ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনাকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলের বিতর্কিত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন ক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাকর্মীদের একটি অংশ। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ২০০১-২০০৩ মেয়াদের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ওই কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার সুবিধা ভোগ করে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের নিয়োগপত্র লাভ করেন। পরবর্তীতে রাজশাহী পার্ক প্রকল্পের উপপরিচালক (ডিপিডি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আর্থিক অনিয়ম এবং বিতর্কিত সামিট গ্রুপের সঙ্গে বৈষম্যমূলক চুক্তি সম্পাদনে নেপথ্যে ভূমিকা রাখার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হাইটেক পার্কের দুই উপপরিচালক—আতিকুল ইসলাম ও নরোত্তম পাল—বরখাস্ত হলেও তিনি কৌশলে যশোরে বদলি হয়ে দায়িত্বে বহাল থাকেন। সম্প্রতি যশোর থেকে তাকে আবার বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে পদায়নের জন্য অফিস আদেশ জারি হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এতেই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগে আলোচিত একজন কর্মকর্তাকে কেন আবার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে? ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ, সরকার যখন প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার কথা বলছে, তখন অতীতের রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পুনরায় বসানোর উদ্যোগ সরকারের ঘোষিত সংস্কার ও স্বচ্ছতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের ভাষ্য, একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্ত ও নিষ্পত্তির আগেই তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরিয়ে দেওয়া হলে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। একই সঙ্গে এতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে—এমন ধারণাও আরও জোরালো হতে পারে। পদায়নের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর ছাত্রদল এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার সাবেক ও বর্তমান ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। ছাত্রদল নেতারা বলছেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের মাধ্যমে যারা সুবিধা নিয়েছেন, তাদের কোনোভাবেই প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বিঘ্নে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়-দায়িত্ব নির্ধারণের আগে এমন পদায়ন স্থগিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। এদিকে বিষয়টি নিয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ এবং বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ছাত্রদলের বর্তমান নেতৃবৃন্দ। তাদের হুঁশিয়ারি, বিতর্কিত এই পদায়ন বাতিল করা না হলে বিষয়টি তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলের সামনে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরবেন। এখন প্রশ্ন একটাই—বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত বলে অভিযোগ ওঠা কর্মকর্তাদের কি নতুন প্রশাসনে আবারও গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরিয়ে আনা হবে, নাকি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে? এই প্রশ্নের উত্তর এখন সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের কাছ থেকেই প্রত্যাশা করছেন ক্ষুব্ধ রাজনৈতিক ও সচেতন মহল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ধামরাইয়ে শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের মাসিক মতবিনিময় সভা

আওয়ামী ফ্যাসিবাদ আমলের বিতর্কিত কর্মকর্তার ‘পুনর্বাসন’ চেষ্টা, হাইটেক পার্কে পদায়ন ঘিরে তীব্র ক্ষোভ, কঠোর অবস্থানে ছাত্রদল

Update Time : ০১:১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Print

স্টাফ রিপোর্টার:মনিরুল ইসলাম আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা নেওয়া এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগ ওঠা এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে পদায়নের উদ্যোগ ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনাকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলের বিতর্কিত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন ক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাকর্মীদের একটি অংশ। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ২০০১-২০০৩ মেয়াদের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ওই কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার সুবিধা ভোগ করে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের নিয়োগপত্র লাভ করেন। পরবর্তীতে রাজশাহী পার্ক প্রকল্পের উপপরিচালক (ডিপিডি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আর্থিক অনিয়ম এবং বিতর্কিত সামিট গ্রুপের সঙ্গে বৈষম্যমূলক চুক্তি সম্পাদনে নেপথ্যে ভূমিকা রাখার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হাইটেক পার্কের দুই উপপরিচালক—আতিকুল ইসলাম ও নরোত্তম পাল—বরখাস্ত হলেও তিনি কৌশলে যশোরে বদলি হয়ে দায়িত্বে বহাল থাকেন। সম্প্রতি যশোর থেকে তাকে আবার বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে পদায়নের জন্য অফিস আদেশ জারি হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এতেই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগে আলোচিত একজন কর্মকর্তাকে কেন আবার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে? ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ, সরকার যখন প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার কথা বলছে, তখন অতীতের রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পুনরায় বসানোর উদ্যোগ সরকারের ঘোষিত সংস্কার ও স্বচ্ছতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের ভাষ্য, একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্ত ও নিষ্পত্তির আগেই তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরিয়ে দেওয়া হলে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। একই সঙ্গে এতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে—এমন ধারণাও আরও জোরালো হতে পারে। পদায়নের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর ছাত্রদল এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার সাবেক ও বর্তমান ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। ছাত্রদল নেতারা বলছেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের মাধ্যমে যারা সুবিধা নিয়েছেন, তাদের কোনোভাবেই প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বিঘ্নে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়-দায়িত্ব নির্ধারণের আগে এমন পদায়ন স্থগিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। এদিকে বিষয়টি নিয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ এবং বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ছাত্রদলের বর্তমান নেতৃবৃন্দ। তাদের হুঁশিয়ারি, বিতর্কিত এই পদায়ন বাতিল করা না হলে বিষয়টি তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলের সামনে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরবেন। এখন প্রশ্ন একটাই—বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত বলে অভিযোগ ওঠা কর্মকর্তাদের কি নতুন প্রশাসনে আবারও গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরিয়ে আনা হবে, নাকি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে? এই প্রশ্নের উত্তর এখন সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের কাছ থেকেই প্রত্যাশা করছেন ক্ষুব্ধ রাজনৈতিক ও সচেতন মহল।