ঢাকা ০৭:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৫৩:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৩ Time View
Print

‎ ‎শাকিল খান  লাকসাম কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ ‎ ‎​কুমিল্লার ঐতিহাসিক নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকা ওয়াকফ এবং প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ হিসেবে গেজেটভুক্ত জমি জবরদখলের চেষ্টা চালাচ্ছে ভূমিদস্যুরা। কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত গতকাল ক্যাম্পাসের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণকাজে বাধা দেয় একটি প্রভাবশালী মহল। এ সময় তারা জোরপূর্বক বালু ফেলে কলেজ ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে আরএস ২২২২ দাগের ৭১ শতাংশ জায়গা প্লট আকারে ভাগ করে বিক্রির পাঁয়তারা শুরু করে। ‎​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কলেজের দক্ষিণ প্রান্তের এই ৭১ শতাংশ জায়গা ওয়াকফ এস্টেটের অন্তর্ভুক্ত এবং প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ হিসেবে জাদুঘরের সরকারি গেজেটভুক্ত। কলেজ ক্যাম্পাসের ঠিক ভেতরে অবস্থিত এই জমি বেদখল হলে বর্তমান সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন এবং কলেজের নতুন অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়বে ঐতিহাসিক এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমানা ও ভাবমূর্তি। ‎​এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ, ওয়াকফ প্রশাসন এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের চরম উদাসীনতা ও নিষ্ক্রিয়তা দায়ী বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ‎​ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, উপমহাদেশের একমাত্র নারী নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য মোট ২৯৭ একর জমি ওয়াকফ রাহে লিল্লাহ করে দিয়েছিলেন। যার মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ২৯০ একর জমি বিভিন্ন উপায়ে হাতবদল হয়ে গেছে। এর ধারাবাহিকতায় বর্তমানে কলেজ ক্যাম্পাসের পোস্ট অফিসসংলগ্ন ২২১৬ দাগের ১৪ শতক জমিও বেদখলের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ‎​সম্প্রতি লাকসাম উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে প্রস্তুত করা একটি তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, একটি চক্র জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ওয়াকফ এস্টেটের এই সম্পত্তিগুলো নিজেদের নামে ত্রুটিপূর্ণ বিএস খতিয়ান সৃজন করেছে। বর্তমানে তারা এসব জমি অবৈধভাবে দখল ও চড়া মূল্যে বেচাকেনার উৎসবে লিপ্ত রয়েছে। ‎​ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও কলেজ কর্তৃপক্ষ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ধামরাইয়ে শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের মাসিক মতবিনিময় সভা

Update Time : ০৯:৫৩:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Print

‎ ‎শাকিল খান  লাকসাম কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ ‎ ‎​কুমিল্লার ঐতিহাসিক নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকা ওয়াকফ এবং প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ হিসেবে গেজেটভুক্ত জমি জবরদখলের চেষ্টা চালাচ্ছে ভূমিদস্যুরা। কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত গতকাল ক্যাম্পাসের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণকাজে বাধা দেয় একটি প্রভাবশালী মহল। এ সময় তারা জোরপূর্বক বালু ফেলে কলেজ ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে আরএস ২২২২ দাগের ৭১ শতাংশ জায়গা প্লট আকারে ভাগ করে বিক্রির পাঁয়তারা শুরু করে। ‎​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কলেজের দক্ষিণ প্রান্তের এই ৭১ শতাংশ জায়গা ওয়াকফ এস্টেটের অন্তর্ভুক্ত এবং প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ হিসেবে জাদুঘরের সরকারি গেজেটভুক্ত। কলেজ ক্যাম্পাসের ঠিক ভেতরে অবস্থিত এই জমি বেদখল হলে বর্তমান সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন এবং কলেজের নতুন অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়বে ঐতিহাসিক এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমানা ও ভাবমূর্তি। ‎​এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ, ওয়াকফ প্রশাসন এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের চরম উদাসীনতা ও নিষ্ক্রিয়তা দায়ী বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ‎​ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, উপমহাদেশের একমাত্র নারী নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য মোট ২৯৭ একর জমি ওয়াকফ রাহে লিল্লাহ করে দিয়েছিলেন। যার মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ২৯০ একর জমি বিভিন্ন উপায়ে হাতবদল হয়ে গেছে। এর ধারাবাহিকতায় বর্তমানে কলেজ ক্যাম্পাসের পোস্ট অফিসসংলগ্ন ২২১৬ দাগের ১৪ শতক জমিও বেদখলের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ‎​সম্প্রতি লাকসাম উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে প্রস্তুত করা একটি তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, একটি চক্র জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ওয়াকফ এস্টেটের এই সম্পত্তিগুলো নিজেদের নামে ত্রুটিপূর্ণ বিএস খতিয়ান সৃজন করেছে। বর্তমানে তারা এসব জমি অবৈধভাবে দখল ও চড়া মূল্যে বেচাকেনার উৎসবে লিপ্ত রয়েছে। ‎​ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও কলেজ কর্তৃপক্ষ।