
ফয়ছল কাদির, সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো চীফ :: সিলেট নগরীর খাদিমপাড়া এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া দুই কিশোর মাদরাসাছাত্রকে উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯। গত ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের শাহপরান এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। এসআরবি-৯-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উদ্ধার হওয়া দুই কিশোর হলো—মো. সাইদ মাসুদ চৌধুরী নাঈম (১৫) ও মো. তামিম আহমদ (১৫)। তারা সিলেট নগরীর খাদিমপাড়া এলাকার জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ফজরের নামাজের সময় তারা মাদরাসা থেকে বের হয়ে যায়। পরবর্তীতে তারা মাদরাসায় ফিরে না আসায় বিষয়টি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও স্বজনদের নজরে আসে। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান না পেয়ে সিলেটের শাহপরান থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে নিখোঁজ নাঈমের বাবার মোবাইল ফোনের ইমো অ্যাপে একটি নম্বরবিহীন অ্যাকাউন্ট থেকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়। একই দিন সন্ধ্যায় ওই অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও কল আসে। ভিডিও কলে নিখোঁজ নাঈমের মতো দেখতে এক কিশোরকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মারধর করতে দেখা যায় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিষয়টি এসআরবি-৯কে জানানো হলে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-৯-এর সদর কোম্পানি ও সিলেটের একটি গোয়েন্দা দল ১৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে শাহপরানের একটি আবাসিক এলাকার মায়ের দোয়া শাহজালাল রেস্টুরেন্টে অভিযান চালায়। অভিযানে মাদরাসা থেকে নিখোঁজ দুই কিশোরকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া নাঈমের বাড়ি সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় এবং তামিমের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলায় বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার দুই কিশোর জানায়, তারা মাদরাসায় পড়াশোনায় অনাগ্রহী ছিল। তাদের মধ্যে একজন এর আগেও দুবার মাদরাসা থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। গত ১৫ সেপ্টেম্বর মাদরাসা থেকে বের হয়ে তারা নিজেদের ইচ্ছায় সিলেটের জৈন্তাপুর থানাধীন ফতেহপুর ইউনিয়নের হরিপুর বাজারে মায়ের দোয়া শাহজালাল রেস্টুরেন্টে গিয়ে কাজ নেয়। এদিকে, ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে এসআরবি-৯-এর পক্ষ থেকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে উদ্ধার দুই কিশোরকে সিলেটের শাহপরান থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এসআরবি-৯ জানিয়েছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
Reporter Name 


















