ঢাকা ০৮:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরায় গভীর রাতে এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের দাফন সম্পন্ন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৩৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭ Time View
Print

আজহারুল ইসলাম সাদী, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার সাতক্ষীরা -৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার রাত ১১টার দিকে কপোতাক্ষ নদ পেরিয়ে ট্রলারে করে তাঁর মরদেহ শ্যামনগরের গাবুরার সরদারপাড়ায় পৌঁছায়। মরদেহের সঙ্গে ছিলেন মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ, মা, দাদি, নানি, ফুপা, ফুপি ও ছোট চাচা মোতাসিম বিল্লাহসহ স্বজনেরা। লাশ পৌঁছানোর পর রাত ১২ টা ৩৫ মিনিটে গাবুরা পশ্চিম পাড়া সরদার বাড়ি জামে মসজিদের পাশে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন স্থানীয় মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা নুরুল হুদা। এ সময় স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা, স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা এবং শ্যামনগর থানার এসআই অনিরুদ্ধ রায় ও বদিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে স্বজনদের পুরোনো কবরগুলোর পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় মরিয়মকে। এর আগে সোমবার সন্ধ্যার পর থেকেই মরিয়মকে দাফনের সব প্রস্তুতি শেষ করে রাখা হয়েছিল। পারিবারিক কবরস্থানে প্রস্তুত রাখা হয় নতুন কবর। কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধের কিনারা ঘেঁষে ইটের সড়ক ধরে সরদারপাড়ায় মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকের মাতম। বাড়ির সামনে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রতিবেশীরা। মরিয়মের চাচা মিলন সরদার প্রবাসে থাকায় বাড়িতে থেকে দাফনের সব প্রস্তুতি সামলান তাঁর স্ত্রী মুন্নী খাতুন। তিনি জানান, মরদেহবাহী গাড়িটি পদ্মা সেতু পার হয়ে খুলনার কয়রা হয়ে সড়কপথে আসে। এরপর কয়রার কাশিরহাটখোলা খেয়াঘাট থেকে ট্রলারে করে গাবুরার বাড়িতে পৌঁছায়। দাফন শেষে ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা মরিয়মের অকালমৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তাঁর আত্মার মাগফিরাতের জন্য সবার কাছে দোয়া চান। মরিয়মের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াসিন সরদার জানান, ২০০৯ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আইলার পর—যখন মরিয়মের বয়স মাত্র দুই-তিন বছর—তখন থেকেই সে পরিবারসহ ঢাকায় থাকত। একই এলাকার ৮২ বছর বয়সী সাবেক গ্রাম পুলিশ গোলাম রহমান বলেন, ‘মেয়েটি ছোটবেলা থেকেই ঢাকায় থাকত। মাঝে মাঝে শুনতাম সে লেখাপড়া করছে, এসএসসি পরীক্ষাও দিয়েছিল। কিন্তু এত অল্প বয়সে এমন একটি ঘটনা কেন ঘটল, তার কিছুই আমরা বুঝতে পারছি না।’ নাতনির মৃত্যুর খবরে শোকে পাথর হয়ে দাদা ইউনুস সরদার বাড়ির এক কোণে চুপচাপ বসে ছিলেন। উল্লেখ্য, রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গত রোববার সন্ধ্যায় মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর বাবা মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মরিয়মের স্বামী সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে গাজী নজরুল ও মাকসুদাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে এবং অন্য আসামি ওবায়দুর পলাতক রয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

১০ বছরের স্কুলছাত্রীকে লাথি, তিন দাঁত পড়ে যাওয়ার অভিযোগ অভিযুক্ত ফয়সালকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান, মাকে আটক

সাতক্ষীরায় গভীর রাতে এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের দাফন সম্পন্ন

Update Time : ০৭:৩৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Print

আজহারুল ইসলাম সাদী, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার সাতক্ষীরা -৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার রাত ১১টার দিকে কপোতাক্ষ নদ পেরিয়ে ট্রলারে করে তাঁর মরদেহ শ্যামনগরের গাবুরার সরদারপাড়ায় পৌঁছায়। মরদেহের সঙ্গে ছিলেন মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ, মা, দাদি, নানি, ফুপা, ফুপি ও ছোট চাচা মোতাসিম বিল্লাহসহ স্বজনেরা। লাশ পৌঁছানোর পর রাত ১২ টা ৩৫ মিনিটে গাবুরা পশ্চিম পাড়া সরদার বাড়ি জামে মসজিদের পাশে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন স্থানীয় মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা নুরুল হুদা। এ সময় স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা, স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা এবং শ্যামনগর থানার এসআই অনিরুদ্ধ রায় ও বদিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে স্বজনদের পুরোনো কবরগুলোর পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় মরিয়মকে। এর আগে সোমবার সন্ধ্যার পর থেকেই মরিয়মকে দাফনের সব প্রস্তুতি শেষ করে রাখা হয়েছিল। পারিবারিক কবরস্থানে প্রস্তুত রাখা হয় নতুন কবর। কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধের কিনারা ঘেঁষে ইটের সড়ক ধরে সরদারপাড়ায় মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকের মাতম। বাড়ির সামনে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রতিবেশীরা। মরিয়মের চাচা মিলন সরদার প্রবাসে থাকায় বাড়িতে থেকে দাফনের সব প্রস্তুতি সামলান তাঁর স্ত্রী মুন্নী খাতুন। তিনি জানান, মরদেহবাহী গাড়িটি পদ্মা সেতু পার হয়ে খুলনার কয়রা হয়ে সড়কপথে আসে। এরপর কয়রার কাশিরহাটখোলা খেয়াঘাট থেকে ট্রলারে করে গাবুরার বাড়িতে পৌঁছায়। দাফন শেষে ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা মরিয়মের অকালমৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তাঁর আত্মার মাগফিরাতের জন্য সবার কাছে দোয়া চান। মরিয়মের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াসিন সরদার জানান, ২০০৯ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আইলার পর—যখন মরিয়মের বয়স মাত্র দুই-তিন বছর—তখন থেকেই সে পরিবারসহ ঢাকায় থাকত। একই এলাকার ৮২ বছর বয়সী সাবেক গ্রাম পুলিশ গোলাম রহমান বলেন, ‘মেয়েটি ছোটবেলা থেকেই ঢাকায় থাকত। মাঝে মাঝে শুনতাম সে লেখাপড়া করছে, এসএসসি পরীক্ষাও দিয়েছিল। কিন্তু এত অল্প বয়সে এমন একটি ঘটনা কেন ঘটল, তার কিছুই আমরা বুঝতে পারছি না।’ নাতনির মৃত্যুর খবরে শোকে পাথর হয়ে দাদা ইউনুস সরদার বাড়ির এক কোণে চুপচাপ বসে ছিলেন। উল্লেখ্য, রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গত রোববার সন্ধ্যায় মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর বাবা মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মরিয়মের স্বামী সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে গাজী নজরুল ও মাকসুদাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে এবং অন্য আসামি ওবায়দুর পলাতক রয়েছেন।