
মোঃ আতাউর রহমান মুকুল, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় অ্যানথ্রাক্স (তড়কা) রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাপ্ত সরকারি তালিকা অনুযায়ী, উপজেলায় এ পর্যন্ত ৩৭ জন অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু, নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিও রয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের অধিকাংশই উপজেলার কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকার বাসিন্দা। স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। রোগের বিস্তার ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। আক্রান্তের তালিকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তালিকা অনুযায়ী, এলাকাভিত্তিক আক্রান্তের সংখ্যা হলো— বাছহাটি — ২৬ জন আমগঞ্জ — ৪ জন বাজারপাড়া — ৩ জন নিজাম খাঁ — ২ জন শিবরাম — ১ জন বামনজল — ১ জন সর্বমোট — ৩৭ জন। অসুস্থ পশু জবাই না করার আহ্বান অ্যানথ্রাক্স সাধারণত গবাদিপশুর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে। বিশেষ করে আক্রান্ত বা মৃত পশুর রক্ত, মাংস, চামড়া কিংবা দেহাংশের সংস্পর্শে এলে মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে অসুস্থ বা সন্দেহজনক গবাদিপশু জবাই না করার জন্য স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়েছে। হঠাৎ কোনো গবাদিপশু অসুস্থ হয়ে পড়লে কিংবা মারা গেলে সেটির মাংস জবাই, বিক্রি বা খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মৃত পশুর দেহ খালি হাতে না ধরার এবং বিষয়টি দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রাণিসম্পদ কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা জানান, অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হলে ত্বকে অস্বাভাবিক ক্ষত বা ফোসকা, জ্বরসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এ ধরনের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। আক্রান্ত পশুর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি কিংবা সন্দেহজনক উপসর্গ থাকা ব্যক্তিদের বিষয়টি গোপন না রেখে দ্রুত স্বাস্থ্য বিভাগকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আতঙ্ক নয়, সচেতনতার আহ্বান ৩৭ জন আক্রান্তের তথ্য প্রকাশের পর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অ্যানথ্রাক্স নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আক্রান্ত এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্য বিভাগের নজরদারি আরও বাড়ানোর পাশাপাশি গবাদিপশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় টিকাদান এবং জনসচেতনতামূলক প্রচার জোরদার করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা, সন্দেহজনক পশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে অ্যানথ্রাক্সের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
Reporter Name 

















