ঢাকা ০২:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এসআই রোখসানাকে ‘ম্যাডাম’ সম্বোধন করায় যুবক আটক, মুচলেকায় মুক্তি।

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:২৭:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩৬ Time View

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"border":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

Print

নিজস্ব প্রতিবেদক:– বগুড়ার শেরপুর থানায় দায়িত্বরত এক নারী উপপরিদর্শককে (এসআই) ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করাকে কেন্দ্র করে নূর মোহাম্মদ মামুন নামে এক যুবককে প্রায় দেড় ঘণ্টা থানায় আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে ডিউটি অফিসারের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীনের হস্তক্ষেপে মুচলেকা নিয়ে ওই যুবককে স্বজনদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তাদের দাবি, অভিযুক্ত এসআই রোখসানা খাতুনের বিরুদ্ধে আগেও অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

শেরপুর থানার ওসি এস এম মঈনুদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের খন্দকারটোলা গ্রামের পিকআপচালক নূর মোহাম্মদ মামুনের এক বন্ধু একটি মামলায় গ্রেপ্তার হন। ওই বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে তিনি বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে শেরপুর থানায় যান। সে সময় এসআই রোখসানা খাতুন ডিউটি অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন। মামুন সালাম দিয়ে তাঁকে ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করলে তিনি ক্ষুব্ধ হন এবং মামুনকে আটক করে থানার নারী ও শিশু হেল্পডেস্ক কক্ষে রাখেন।

ঘটনাটি জানাজানি হলে মামুনের আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী থানায় ছুটে আসেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ওসি এস এম মঈনুদ্দীনের হস্তক্ষেপে মুচলেকা নিয়ে তাঁকে স্বজনদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দেয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসআই রোখসানা খাতুন (বিপি নম্বর: ৯৫২১২৩৭৮৮৬) ২০২৫ সালের ১৯ এপ্রিল শেরপুর থানায় যোগদান করেন। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে অপেশাদার আচরণের অভিযোগ রয়েছে।

রেজাউল করিম, হাসান ও নাঈম ইসলাম নামে কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, প্রায় তিন মাস আগে তারা ওসির সঙ্গে দেখা করতে থানায় গেলে ডিউটি অফিসার রোখসানা খাতুন তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং ধমক দিয়ে বের করে দেন।

ইমরান হোসেন নামে আরেক ভুক্তভোগী জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাঁর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করলে তিনি বিষয়টি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীনকে মৌখিকভাবে জানান।

ভুক্তভোগীরা এসআই রোখসানা খাতুনকে অন্যত্র বদলি এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শেরপুর থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য অভিযোগ করেন, এসআই রোখসানা খাতুনের আচরণ ও মেজাজের কারণে সহকর্মীরাও অস্বস্তিতে থাকেন। তিনি ডিউটিতে থাকলে কর্মপরিবেশে চাপ সৃষ্টি হয়।

এ প্রসঙ্গে ওসি এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, এসআই রোখসানা খাতুনের বিরুদ্ধে আগেও মৌখিকভাবে কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। ‘ম্যাডাম’ সম্বোধনকে কেন্দ্র করে যুবককে আটকে রাখার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে এসআই রোখসানা খাতুনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ভুক্তভোগী নূর মোহাম্মদ মামুন অভিযুক্ত এসআইয়ের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সামান্য পাওনা ৫ হাজার টাকা চাওয়ায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা

এসআই রোখসানাকে ‘ম্যাডাম’ সম্বোধন করায় যুবক আটক, মুচলেকায় মুক্তি।

Update Time : ১০:২৭:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক:– বগুড়ার শেরপুর থানায় দায়িত্বরত এক নারী উপপরিদর্শককে (এসআই) ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করাকে কেন্দ্র করে নূর মোহাম্মদ মামুন নামে এক যুবককে প্রায় দেড় ঘণ্টা থানায় আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে ডিউটি অফিসারের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীনের হস্তক্ষেপে মুচলেকা নিয়ে ওই যুবককে স্বজনদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তাদের দাবি, অভিযুক্ত এসআই রোখসানা খাতুনের বিরুদ্ধে আগেও অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

শেরপুর থানার ওসি এস এম মঈনুদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের খন্দকারটোলা গ্রামের পিকআপচালক নূর মোহাম্মদ মামুনের এক বন্ধু একটি মামলায় গ্রেপ্তার হন। ওই বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে তিনি বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে শেরপুর থানায় যান। সে সময় এসআই রোখসানা খাতুন ডিউটি অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন। মামুন সালাম দিয়ে তাঁকে ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করলে তিনি ক্ষুব্ধ হন এবং মামুনকে আটক করে থানার নারী ও শিশু হেল্পডেস্ক কক্ষে রাখেন।

ঘটনাটি জানাজানি হলে মামুনের আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী থানায় ছুটে আসেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ওসি এস এম মঈনুদ্দীনের হস্তক্ষেপে মুচলেকা নিয়ে তাঁকে স্বজনদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দেয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসআই রোখসানা খাতুন (বিপি নম্বর: ৯৫২১২৩৭৮৮৬) ২০২৫ সালের ১৯ এপ্রিল শেরপুর থানায় যোগদান করেন। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে অপেশাদার আচরণের অভিযোগ রয়েছে।

রেজাউল করিম, হাসান ও নাঈম ইসলাম নামে কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, প্রায় তিন মাস আগে তারা ওসির সঙ্গে দেখা করতে থানায় গেলে ডিউটি অফিসার রোখসানা খাতুন তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং ধমক দিয়ে বের করে দেন।

ইমরান হোসেন নামে আরেক ভুক্তভোগী জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাঁর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করলে তিনি বিষয়টি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীনকে মৌখিকভাবে জানান।

ভুক্তভোগীরা এসআই রোখসানা খাতুনকে অন্যত্র বদলি এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শেরপুর থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য অভিযোগ করেন, এসআই রোখসানা খাতুনের আচরণ ও মেজাজের কারণে সহকর্মীরাও অস্বস্তিতে থাকেন। তিনি ডিউটিতে থাকলে কর্মপরিবেশে চাপ সৃষ্টি হয়।

এ প্রসঙ্গে ওসি এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, এসআই রোখসানা খাতুনের বিরুদ্ধে আগেও মৌখিকভাবে কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। ‘ম্যাডাম’ সম্বোধনকে কেন্দ্র করে যুবককে আটকে রাখার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে এসআই রোখসানা খাতুনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ভুক্তভোগী নূর মোহাম্মদ মামুন অভিযুক্ত এসআইয়ের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।