ঢাকা ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আটঘরিয়ার গোড়লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪০ শিক্ষার্থীকে এইচপিভি টিকা প্রদান

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৫০:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • ৯ Time View
Print

মোঃ ইব্রাহিম খলিল
পাবনা জেলা প্রতিনিধি:

জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে কিশোরীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)-এর আওতায় পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার গোড়লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪০ জন শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকা প্রদান করা হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই ২০২৬) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ টিকাদান কর্মসূচিতে ১০ বছর বয়সী এবং নির্ধারিত বয়সসীমার কিশোরীদের এক ডোজ করে এইচপিভি টিকা দেওয়া হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত টিকাদান কর্মীরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদান করেন। টিকাদান শেষে সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য শিক্ষার্থীদের কিছু সময় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

টিকাদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সহকারী মো. আমিরুল ইসলাম, পরিবার কল্যাণ সহকারী শারমিন আক্তার, গোড়লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. সেলিনা খাতুন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) সংক্রমণের কারণেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে জরায়ুমুখ ক্যান্সার হয়ে থাকে। নির্ধারিত বয়সে এইচপিভি টিকা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ (ডব্লিউএইচও) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এই টিকা নিরাপদ, কার্যকর এবং বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষিত।

গোড়লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. সেলিনা খাতুন বলেন,
“শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সরকারের এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হয়েছে। অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নির্ধারিত শিক্ষার্থীদের টিকাদান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে।”

স্বাস্থ্য সহকারী মো. আমিরুল ইসলাম বলেন,
“জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকা অত্যন্ত কার্যকর। নির্ধারিত বয়সে টিকা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। তাই সরকারের বিনামূল্যের এ কর্মসূচির আওতায় যোগ্য সব কিশোরীর টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।”

পরিবার কল্যাণ সহকারী শারমিন আক্তার বলেন,
“এইচপিভি টিকা নিয়ে কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে শিশুদের টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানাই।”

এ সময় স্বাস্থ্যকর্মীরা অভিভাবকদের টিকা সম্পর্কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান এবং কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিতে কান না দিয়ে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করে নির্ধারিত সময়ে টিকা গ্রহণের আহ্বান জানান।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের নিয়মিত সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)-এর আওতায় ১০ বছর বয়সী কিশোরীদের বিনামূল্যে এক ডোজ এইচপিভি টিকা প্রদান করা হচ্ছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে ভবিষ্যতে জরায়ুমুখ ক্যান্সারের প্রকোপ কমিয়ে নারীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও সাদর আমন্ত্রণ জানালেন সিনিয়র সহ-সম্পাদক মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার।

আটঘরিয়ার গোড়লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪০ শিক্ষার্থীকে এইচপিভি টিকা প্রদান

Update Time : ০৩:৫০:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
Print

মোঃ ইব্রাহিম খলিল
পাবনা জেলা প্রতিনিধি:

জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে কিশোরীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)-এর আওতায় পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার গোড়লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪০ জন শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকা প্রদান করা হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই ২০২৬) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ টিকাদান কর্মসূচিতে ১০ বছর বয়সী এবং নির্ধারিত বয়সসীমার কিশোরীদের এক ডোজ করে এইচপিভি টিকা দেওয়া হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত টিকাদান কর্মীরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদান করেন। টিকাদান শেষে সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য শিক্ষার্থীদের কিছু সময় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

টিকাদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সহকারী মো. আমিরুল ইসলাম, পরিবার কল্যাণ সহকারী শারমিন আক্তার, গোড়লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. সেলিনা খাতুন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) সংক্রমণের কারণেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে জরায়ুমুখ ক্যান্সার হয়ে থাকে। নির্ধারিত বয়সে এইচপিভি টিকা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ (ডব্লিউএইচও) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এই টিকা নিরাপদ, কার্যকর এবং বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষিত।

গোড়লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. সেলিনা খাতুন বলেন,
“শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সরকারের এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হয়েছে। অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নির্ধারিত শিক্ষার্থীদের টিকাদান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে।”

স্বাস্থ্য সহকারী মো. আমিরুল ইসলাম বলেন,
“জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকা অত্যন্ত কার্যকর। নির্ধারিত বয়সে টিকা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। তাই সরকারের বিনামূল্যের এ কর্মসূচির আওতায় যোগ্য সব কিশোরীর টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।”

পরিবার কল্যাণ সহকারী শারমিন আক্তার বলেন,
“এইচপিভি টিকা নিয়ে কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে শিশুদের টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানাই।”

এ সময় স্বাস্থ্যকর্মীরা অভিভাবকদের টিকা সম্পর্কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান এবং কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিতে কান না দিয়ে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করে নির্ধারিত সময়ে টিকা গ্রহণের আহ্বান জানান।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের নিয়মিত সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)-এর আওতায় ১০ বছর বয়সী কিশোরীদের বিনামূল্যে এক ডোজ এইচপিভি টিকা প্রদান করা হচ্ছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে ভবিষ্যতে জরায়ুমুখ ক্যান্সারের প্রকোপ কমিয়ে নারীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।