ঢাকা ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একদন্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেনকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৫১:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • ৬ Time View

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"border":5,"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

Print

মোঃ ইব্রাহিম খলিল
স্টাফ রিপোর্টার:–

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেনকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় একদন্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।

জানা গেছে, আটঘরিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী একদন্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে হামলা চালিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে একাধিক মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত আফাজ উদ্দিন নছা এবং তার ভাগ্নে সেলিম হোসেন ঘটনার দিন ২৫ থেকে ৩০ জন লোক নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন।

এরপর সেলিম হোসেন ও তার সহযোগীরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা ভয়ভীতি দেখিয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে সেলিম হোসেনের নাম কম্পিউটারে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেন।

ঘটনাটি জানাজানি হলে একদন্ত বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম, ইউপি সদস্য ইউছুফ আলী এবং গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করেন।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সাবেক সভাপতি সেলিম হোসেন নিজেকে সভাপতি করার জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন জানান, তিনি আটঘরিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও একদন্ত ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান রানার শরণাপন্ন হলে তিনি সেলিম হোসেনকে সভাপতি পদ না দেওয়ার পরামর্শ দেন।

অপরদিকে, বিএনপির আরেকটি পক্ষ সভাপতি হিসেবে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কোরবান আলীকে নির্বাচিত করতে চায়। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিএনপির মধ্যে মতবিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন বলেন,
“আমি একজন শিক্ষক হিসেবে সবসময় বিদ্যালয়ের স্বার্থে দায়িত্ব পালন করে আসছি। কিন্তু একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে আমার ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। ঘটনার দিন আমাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে, অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে এবং লাঞ্ছিত করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

অভিভাবকরা বলেন,
“শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে একজন প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপদ পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।”

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন,
“বিদ্যালয় আমাদের শিক্ষা অর্জনের পবিত্র স্থান। সেখানে একজন প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আমরা বিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ চাই।”

অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন ও মর্মাহত। তারা ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

একদন্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেনকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন

একদন্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেনকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন

Update Time : ০১:৫১:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
Print

মোঃ ইব্রাহিম খলিল
স্টাফ রিপোর্টার:–

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেনকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় একদন্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।

জানা গেছে, আটঘরিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী একদন্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে হামলা চালিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে একাধিক মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত আফাজ উদ্দিন নছা এবং তার ভাগ্নে সেলিম হোসেন ঘটনার দিন ২৫ থেকে ৩০ জন লোক নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন।

এরপর সেলিম হোসেন ও তার সহযোগীরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা ভয়ভীতি দেখিয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে সেলিম হোসেনের নাম কম্পিউটারে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেন।

ঘটনাটি জানাজানি হলে একদন্ত বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম, ইউপি সদস্য ইউছুফ আলী এবং গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করেন।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সাবেক সভাপতি সেলিম হোসেন নিজেকে সভাপতি করার জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন জানান, তিনি আটঘরিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও একদন্ত ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান রানার শরণাপন্ন হলে তিনি সেলিম হোসেনকে সভাপতি পদ না দেওয়ার পরামর্শ দেন।

অপরদিকে, বিএনপির আরেকটি পক্ষ সভাপতি হিসেবে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কোরবান আলীকে নির্বাচিত করতে চায়। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিএনপির মধ্যে মতবিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন বলেন,
“আমি একজন শিক্ষক হিসেবে সবসময় বিদ্যালয়ের স্বার্থে দায়িত্ব পালন করে আসছি। কিন্তু একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে আমার ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। ঘটনার দিন আমাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে, অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে এবং লাঞ্ছিত করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

অভিভাবকরা বলেন,
“শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে একজন প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপদ পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।”

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন,
“বিদ্যালয় আমাদের শিক্ষা অর্জনের পবিত্র স্থান। সেখানে একজন প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আমরা বিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ চাই।”

অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন ও মর্মাহত। তারা ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।