ঢাকা ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিক গ্রেফতার আর কত? গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কি কেবল কাগজে-কলমে? — বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের সভাপতি খান সেলিম রহমান

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৪:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ৪৪ Time View
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের সভাপতি খান সেলিম রহমান বলেছেন, “দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা একজন সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের নানাভাবে চাপ, হয়রানি, মামলা এবং অনেক ক্ষেত্রে গ্রেফতারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “প্রশ্ন হলো—সাংবাদিক কি অপরাধী, নাকি জনগণের জানার অধিকার প্রতিষ্ঠার একজন প্রতিনিধি?”
খান সেলিম রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯(২) অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের চিন্তা, বিবেক, বাক্‌স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রেস কাউন্সিল আইন, ১৯৭৪-এর মাধ্যমে গণমাধ্যমের নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো সংবাদ প্রকাশের পর প্রেস কাউন্সিলের প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা অনুসরণ না করে সরাসরি ফৌজদারি মামলার পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “এটি শুধু একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নয়; বরং জনগণের তথ্য জানার সাংবিধানিক অধিকারকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।”
তিনি আরও বলেন, “গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাংবাদিকের কলমে হাতকড়া পরানো যায় না। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, সত্যকে সাময়িকভাবে বন্দী করা গেলেও তাকে পরাজিত করা যায় না। সংবাদপত্র সমাজের আয়না। আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে কেউ অসন্তুষ্ট হলে আয়না ভেঙে ফেললে বাস্তবতার পরিবর্তন হয় না।”
বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে প্রথমে ব্যাখ্যা চাওয়া, জবাবদিহিতার সুযোগ দেওয়া, নোটিশ প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশেও সাংবাদিকতা-সংশ্লিষ্ট অভিযোগ নিষ্পত্তিতে প্রেস কাউন্সিলকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার দাবি দীর্ঘদিনের।
খান সেলিম রহমান প্রশ্ন রেখে বলেন, “কোনো সংবাদ যদি সত্যিই মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর হয়, তবে তার প্রতিকার কি তথ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত, নাকি সাংবাদিককে গ্রেফতার করে?”
তিনি বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর যদি সাংবাদিকদের হয়রানি ও গ্রেফতারের মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা নিরুৎসাহিত হবে। এর ফলে লাভবান হবে দুর্নীতিবাজ চক্র, আর ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাষ্ট্র, গণতন্ত্র এবং সর্বোপরি জনগণের তথ্য জানার অধিকার।”
তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা এবং সংবিধানস্বীকৃত বাক্‌স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

চুয়াডাঙ্গা জেলা হিজলগাড়ী প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি আরিফ হাসান, সাধারণ সম্পাদক

সাংবাদিক গ্রেফতার আর কত? গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কি কেবল কাগজে-কলমে? — বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের সভাপতি খান সেলিম রহমান

Update Time : ১১:৫৪:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের সভাপতি খান সেলিম রহমান বলেছেন, “দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা একজন সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের নানাভাবে চাপ, হয়রানি, মামলা এবং অনেক ক্ষেত্রে গ্রেফতারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “প্রশ্ন হলো—সাংবাদিক কি অপরাধী, নাকি জনগণের জানার অধিকার প্রতিষ্ঠার একজন প্রতিনিধি?”
খান সেলিম রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯(২) অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের চিন্তা, বিবেক, বাক্‌স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রেস কাউন্সিল আইন, ১৯৭৪-এর মাধ্যমে গণমাধ্যমের নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো সংবাদ প্রকাশের পর প্রেস কাউন্সিলের প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা অনুসরণ না করে সরাসরি ফৌজদারি মামলার পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “এটি শুধু একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নয়; বরং জনগণের তথ্য জানার সাংবিধানিক অধিকারকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।”
তিনি আরও বলেন, “গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাংবাদিকের কলমে হাতকড়া পরানো যায় না। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, সত্যকে সাময়িকভাবে বন্দী করা গেলেও তাকে পরাজিত করা যায় না। সংবাদপত্র সমাজের আয়না। আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে কেউ অসন্তুষ্ট হলে আয়না ভেঙে ফেললে বাস্তবতার পরিবর্তন হয় না।”
বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে প্রথমে ব্যাখ্যা চাওয়া, জবাবদিহিতার সুযোগ দেওয়া, নোটিশ প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশেও সাংবাদিকতা-সংশ্লিষ্ট অভিযোগ নিষ্পত্তিতে প্রেস কাউন্সিলকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার দাবি দীর্ঘদিনের।
খান সেলিম রহমান প্রশ্ন রেখে বলেন, “কোনো সংবাদ যদি সত্যিই মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর হয়, তবে তার প্রতিকার কি তথ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত, নাকি সাংবাদিককে গ্রেফতার করে?”
তিনি বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর যদি সাংবাদিকদের হয়রানি ও গ্রেফতারের মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা নিরুৎসাহিত হবে। এর ফলে লাভবান হবে দুর্নীতিবাজ চক্র, আর ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাষ্ট্র, গণতন্ত্র এবং সর্বোপরি জনগণের তথ্য জানার অধিকার।”
তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা এবং সংবিধানস্বীকৃত বাক্‌স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান