
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মোঃ শাকিল খান রাজু
উপকূলীয় জনপদ ভোলার মনপুরায় প্রায় ১১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন টেকসই বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন, ধস ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। যে বাঁধকে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙন থেকে উপকূলবাসীর সুরক্ষার অন্যতম ভরসা হিসেবে নির্মাণ করা হচ্ছে, সেই বাঁধের বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশে মাটি ধসে গেছে, কোথাও ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে, আবার কোথাও বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রাতের অন্ধকারে এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থান আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে বলে জানান তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণকাজ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তাদের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি কিংবা তীব্র জোয়ারের সময় দুর্বল অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করলে লোকালয়, কৃষিজমি ও মানুষের জীবন-সম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে।
জানা গেছে, প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করছে এনবি, ওটিবিএল, জিসিএল, এলএকেএসএসএ, পিডিএল ও ওয়েস্টার্ন এই ছয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) আসফাউদদৌলা বলেন, বেড়িবাঁধের কাজ এখনো চলমান। কাজ সম্পূর্ণ হলে এ ধরনের সমস্যা থাকবে না। ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি নির্মাণকাজের মান যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রায় ১১০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের বিভিন্ন স্থানে কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
মনপুরাবাসীর প্রশ্ন এত বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত টেকসই বেড়িবাঁধ যদি নির্মাণকালেই ভাঙন ও ধসের মুখে পড়ে, তবে ভবিষ্যতে উপকূলবাসীর নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত হবে?
Reporter Name 


















