ঢাকা ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ায় ২৮ পয়েন্টে নদীভাঙন, বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:২৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৩ Time View
Print

মোঃ জহুরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধিঃ
কুষ্টিয়ায় ২৮ পয়েন্টে নদীভাঙন, বিলীন হচ্ছে তিন ফসলি জমি
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ জেলায় পদ্মা ও গড়াই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র আকার ধারণ করেছে নদীভাঙন। জেলার বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের কবলে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে তিন ফসলি জমি, সেই সাথে হুমকির মুখে শতাধিক বসতভিটা। জেলার ২৮টি পয়েন্টে প্রায় ২১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করলেও দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি নদীপাড়ের বাসিন্দাদের।
এ বছর জেলায় সবচেয়ে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের ভুরকাপাড়া ও হাটখোলা এলাকায়। পদ্মার তীব্র স্রোতে নদী ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একইভাবে ভেড়ামারা উপজেলার ফয়জুল্লাপুর, মসলেমপুর, টিকটিকিপাড়া ও মুন্সিপাড়া এলাকাতেও নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। কৃষক ফয়জুল করিম বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে এই জমিতে চাষাবাদ করে সংসার চালাচ্ছি। এখন চোখের সামনে একের পর এক জমি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। বাকি যে সামান্য জমি আছে, সেটাও ভেঙে গেলে পথে বসতে হবে। এভাবে ভাঙন চলতে থাকলে আমার বসতবাড়িও রক্ষা পাবে না।
তখন পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে হবে।’ আরেক কৃষক আজিজ উদ্দিন বলেন, ‘এই জমিতে বছরে তিনবার ফসল আবাদ করি। কিন্তু প্রতি বছরই নদীভাঙনে জমি হারাচ্ছি। এবার যদি অবশিষ্ট জমি আর বসতবাড়িটুকুও নদীতে বিলীন হয়ে যায়, তাহলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কোথায় যাব, তা জানি না। সরকারের কাছে আমার একটাই আবেদন, দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তা না হলে আমার মতো হাজারো পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাবে।’ এদিকে পদ্মার প্রধান শাখা গড়াই নদীতেও ভাঙন বেড়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে হুমকির মুখে খোকসা উপজেলার শহররক্ষা বাঁধও।
এছাড়া কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের ঘোড়াইঘাট এলাকায় প্রায় ৫০ মিটার অস্থায়ী বাঁধ ধসে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা ও গড়াই নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে কুষ্টিয়া জেলার ২৮টি পয়েন্টে প্রায় ২১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, ‘ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হবে।’ তবে নদীপাড়ের মানুষ বলেন, সাময়িক ব্যবস্থা নয়, স্থায়ীভাবে নদীশাসনের উদ্যোগ না নিলে প্রতিবছরই একই দুর্ভোগের মুখে পড়তে হবে। তাদের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হবে এবং শত শত পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়বে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

‘মোবাইল নয়, শিশুদের ফিরতে হবে খেলার মাঠে’- প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

কুষ্টিয়ায় ২৮ পয়েন্টে নদীভাঙন, বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি

Update Time : ০১:২৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
Print

মোঃ জহুরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধিঃ
কুষ্টিয়ায় ২৮ পয়েন্টে নদীভাঙন, বিলীন হচ্ছে তিন ফসলি জমি
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ জেলায় পদ্মা ও গড়াই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র আকার ধারণ করেছে নদীভাঙন। জেলার বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের কবলে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে তিন ফসলি জমি, সেই সাথে হুমকির মুখে শতাধিক বসতভিটা। জেলার ২৮টি পয়েন্টে প্রায় ২১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করলেও দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি নদীপাড়ের বাসিন্দাদের।
এ বছর জেলায় সবচেয়ে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের ভুরকাপাড়া ও হাটখোলা এলাকায়। পদ্মার তীব্র স্রোতে নদী ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একইভাবে ভেড়ামারা উপজেলার ফয়জুল্লাপুর, মসলেমপুর, টিকটিকিপাড়া ও মুন্সিপাড়া এলাকাতেও নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। কৃষক ফয়জুল করিম বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে এই জমিতে চাষাবাদ করে সংসার চালাচ্ছি। এখন চোখের সামনে একের পর এক জমি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। বাকি যে সামান্য জমি আছে, সেটাও ভেঙে গেলে পথে বসতে হবে। এভাবে ভাঙন চলতে থাকলে আমার বসতবাড়িও রক্ষা পাবে না।
তখন পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে হবে।’ আরেক কৃষক আজিজ উদ্দিন বলেন, ‘এই জমিতে বছরে তিনবার ফসল আবাদ করি। কিন্তু প্রতি বছরই নদীভাঙনে জমি হারাচ্ছি। এবার যদি অবশিষ্ট জমি আর বসতবাড়িটুকুও নদীতে বিলীন হয়ে যায়, তাহলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কোথায় যাব, তা জানি না। সরকারের কাছে আমার একটাই আবেদন, দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তা না হলে আমার মতো হাজারো পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাবে।’ এদিকে পদ্মার প্রধান শাখা গড়াই নদীতেও ভাঙন বেড়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে হুমকির মুখে খোকসা উপজেলার শহররক্ষা বাঁধও।
এছাড়া কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের ঘোড়াইঘাট এলাকায় প্রায় ৫০ মিটার অস্থায়ী বাঁধ ধসে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা ও গড়াই নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে কুষ্টিয়া জেলার ২৮টি পয়েন্টে প্রায় ২১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, ‘ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হবে।’ তবে নদীপাড়ের মানুষ বলেন, সাময়িক ব্যবস্থা নয়, স্থায়ীভাবে নদীশাসনের উদ্যোগ না নিলে প্রতিবছরই একই দুর্ভোগের মুখে পড়তে হবে। তাদের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হবে এবং শত শত পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়বে।