ঢাকা ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যক্তিগত পর্যায়ে পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও প্রচারে অসামান্য অবদান রেখে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ‘বৃক্ষকন্যা’ মোসাম্মাৎ সাদিয়া আক্তার (ঈশা)

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২২:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • ৭১ Time View
Print

তাসলিমা শারমিন, স্টাফ রিপোর্টার

পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, বৃক্ষরোপণ, সমাজসেবা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অসামান্য অবদান রেখে ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছেন মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার কৃতি সন্তান ‘বৃক্ষকন্যা’ মোসাম্মাৎ সাদিয়া আক্তার (ঈশা)।
তিনি ১ এপ্রিল ২০০৩ সালে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার রামনগর মনিপুরী (পশ্চিম পাড়া) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা এম. এস. জামান ইয়ামেনী। বর্তমানে তিনি ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। অল্প বয়স থেকেই দেশপ্রেম, মানবসেবা ও পরিবেশ রক্ষার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন।
মাত্র ২০১৪ সাল থেকে নিজ উদ্যোগে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। ব্যক্তিগত টিউশনি, টিফিনের টাকা সঞ্চয়, পুরোনো বই-খাতা, সংবাদপত্র ও ব্যবহৃত মোম বিক্রি, উপহারের অর্থ সংরক্ষণ এবং পরিবারের সহযোগিতায় অর্থ সংগ্রহ করে তিনি সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন।
এ পর্যন্ত তিনি জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও মাদকবিরোধী সচেতনতা বিষয়ে ২০টিরও বেশি লিফলেট প্রকাশ ও বিতরণ করেছেন। এর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রায় ১৫টি লিফলেটের মোট মুদ্রণসংখ্যা এক লক্ষাধিক। পাশাপাশি যুবসমাজকে ধূমপান ও মাদক থেকে দূরে রাখতে বিভিন্ন সেমিনার, সচেতনতামূলক সভা ও প্রচারণার আয়োজন করেছেন।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষের চারা রোপণ ও বিতরণ, হাওর অঞ্চলে পরিবেশবিষয়ক ডিজিটাল ব্যানার স্থাপন, বন্যপ্রাণী শিকারিদের কাছ থেকে প্রাণী উদ্ধার করে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্তকরণসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এছাড়াও অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র, উষ্ণ বস্ত্র, খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা প্রদানেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
সমাজকল্যাণে তাঁর ভূমিকা পরিবেশ রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তিনি দুটি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সফল হয়েছেন। এছাড়া রক্তদান কর্মসূচি, টিকাদান কার্যক্রম, পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করা এবং প্রায় চার বছর একটি বিদ্যালয়ে অবৈতনিক শিক্ষকতা করে মানবসেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
মানবকল্যাণে নিজের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে মৃত্যুর পর নিজের মরদেহ এম. এ. জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজের অ্যানাটমি বিভাগে দান করার সিদ্ধান্তও গ্রহণ করেছেন, যা সমাজে মানবিক মূল্যবোধ ও চিকিৎসা শিক্ষার প্রতি তাঁর গভীর দায়বদ্ধতার পরিচায়ক।
তাঁর সমাজসেবা ও পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত জাতীয় শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতা ২০২০-এ উপজেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন। এছাড়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের শ্রেষ্ঠ জয়িতা সম্মাননা-২০২১, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিলেট বিভাগের বিভাগীয় পরিবেশ পদক-২০২২ (দ্বিতীয় স্থান), গ্লোবাল স্টার উইমেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৫, উইমেন্স পাওয়ার লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০২৬, উইমেন্স ইন্ডিপেন্ডেন্ট অ্যাওয়ার্ড-২০২৬, শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড-২০২৬, স্টার বাংলাদেশ মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড-২০২৬, স্বপ্নজয়ী নারী সম্মাননা-২০২৬, ড. মোহাম্মদ শহিদ উল্ল্যা অ্যাওয়ার্ড-২০২৬, নেলসন ম্যান্ডেলা শান্তি পুরস্কার-২০২৬সহ অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা অর্জন করেছেন।
জাতীয় বীর বীরপ্রতীক মোহাম্মদ ফোরকান উদ্দিন তাঁর বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ‘বৃক্ষকন্যা’ উপাধিতে ভূষিত করেন। বর্তমানে এই পরিচয়েই তিনি দেশজুড়ে অধিক পরিচিত।
সাদিয়া আক্তার (ঈশা) বলেন, “পরিবেশ রক্ষা মানেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিরাপদ পৃথিবী উপহার দেওয়া। আমি যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন বৃক্ষরোপণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, তামাকমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণ, নারী ক্ষমতায়ন, লিঙ্গসমতা এবং মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রাখব, ইনশাআল্লাহ।”
সচেতন মহলের মতে, ব্যক্তিগত উদ্যোগে এত ব্যাপক পরিসরে পরিবেশ ও সমাজ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা বর্তমান প্রজন্মের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তাঁর এই নিরলস প্রচেষ্টা পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করবে এবং একটি সবুজ, নিরাপদ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে নারী সাংবাদিক শারমিন আরা নিজস্ব প্রতিবেদক:

ব্যক্তিগত পর্যায়ে পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও প্রচারে অসামান্য অবদান রেখে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ‘বৃক্ষকন্যা’ মোসাম্মাৎ সাদিয়া আক্তার (ঈশা)

Update Time : ১১:২২:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
Print

তাসলিমা শারমিন, স্টাফ রিপোর্টার

পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, বৃক্ষরোপণ, সমাজসেবা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অসামান্য অবদান রেখে ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছেন মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার কৃতি সন্তান ‘বৃক্ষকন্যা’ মোসাম্মাৎ সাদিয়া আক্তার (ঈশা)।
তিনি ১ এপ্রিল ২০০৩ সালে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার রামনগর মনিপুরী (পশ্চিম পাড়া) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা এম. এস. জামান ইয়ামেনী। বর্তমানে তিনি ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। অল্প বয়স থেকেই দেশপ্রেম, মানবসেবা ও পরিবেশ রক্ষার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন।
মাত্র ২০১৪ সাল থেকে নিজ উদ্যোগে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। ব্যক্তিগত টিউশনি, টিফিনের টাকা সঞ্চয়, পুরোনো বই-খাতা, সংবাদপত্র ও ব্যবহৃত মোম বিক্রি, উপহারের অর্থ সংরক্ষণ এবং পরিবারের সহযোগিতায় অর্থ সংগ্রহ করে তিনি সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন।
এ পর্যন্ত তিনি জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও মাদকবিরোধী সচেতনতা বিষয়ে ২০টিরও বেশি লিফলেট প্রকাশ ও বিতরণ করেছেন। এর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রায় ১৫টি লিফলেটের মোট মুদ্রণসংখ্যা এক লক্ষাধিক। পাশাপাশি যুবসমাজকে ধূমপান ও মাদক থেকে দূরে রাখতে বিভিন্ন সেমিনার, সচেতনতামূলক সভা ও প্রচারণার আয়োজন করেছেন।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষের চারা রোপণ ও বিতরণ, হাওর অঞ্চলে পরিবেশবিষয়ক ডিজিটাল ব্যানার স্থাপন, বন্যপ্রাণী শিকারিদের কাছ থেকে প্রাণী উদ্ধার করে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্তকরণসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এছাড়াও অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র, উষ্ণ বস্ত্র, খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা প্রদানেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
সমাজকল্যাণে তাঁর ভূমিকা পরিবেশ রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তিনি দুটি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সফল হয়েছেন। এছাড়া রক্তদান কর্মসূচি, টিকাদান কার্যক্রম, পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করা এবং প্রায় চার বছর একটি বিদ্যালয়ে অবৈতনিক শিক্ষকতা করে মানবসেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
মানবকল্যাণে নিজের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে মৃত্যুর পর নিজের মরদেহ এম. এ. জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজের অ্যানাটমি বিভাগে দান করার সিদ্ধান্তও গ্রহণ করেছেন, যা সমাজে মানবিক মূল্যবোধ ও চিকিৎসা শিক্ষার প্রতি তাঁর গভীর দায়বদ্ধতার পরিচায়ক।
তাঁর সমাজসেবা ও পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত জাতীয় শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতা ২০২০-এ উপজেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন। এছাড়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের শ্রেষ্ঠ জয়িতা সম্মাননা-২০২১, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিলেট বিভাগের বিভাগীয় পরিবেশ পদক-২০২২ (দ্বিতীয় স্থান), গ্লোবাল স্টার উইমেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৫, উইমেন্স পাওয়ার লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০২৬, উইমেন্স ইন্ডিপেন্ডেন্ট অ্যাওয়ার্ড-২০২৬, শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড-২০২৬, স্টার বাংলাদেশ মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড-২০২৬, স্বপ্নজয়ী নারী সম্মাননা-২০২৬, ড. মোহাম্মদ শহিদ উল্ল্যা অ্যাওয়ার্ড-২০২৬, নেলসন ম্যান্ডেলা শান্তি পুরস্কার-২০২৬সহ অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা অর্জন করেছেন।
জাতীয় বীর বীরপ্রতীক মোহাম্মদ ফোরকান উদ্দিন তাঁর বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ‘বৃক্ষকন্যা’ উপাধিতে ভূষিত করেন। বর্তমানে এই পরিচয়েই তিনি দেশজুড়ে অধিক পরিচিত।
সাদিয়া আক্তার (ঈশা) বলেন, “পরিবেশ রক্ষা মানেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিরাপদ পৃথিবী উপহার দেওয়া। আমি যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন বৃক্ষরোপণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, তামাকমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণ, নারী ক্ষমতায়ন, লিঙ্গসমতা এবং মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রাখব, ইনশাআল্লাহ।”
সচেতন মহলের মতে, ব্যক্তিগত উদ্যোগে এত ব্যাপক পরিসরে পরিবেশ ও সমাজ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা বর্তমান প্রজন্মের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তাঁর এই নিরলস প্রচেষ্টা পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করবে এবং একটি সবুজ, নিরাপদ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।