
মোঃ নেছার উদ্দিন লালমোহন জেলা লালমোহন প্রেসক্লাবের সিনিয়র কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও প্রবীণ সাংবাদিক মাকছুদ উল্যাহ আর নেই। বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুরে এক আত্মীয়ের বাসায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব পরিবার। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার সম্পাদক খান সেলিম রহমান। এক শোকবার্তায় খান সেলিম রহমান বলেন, “সাংবাদিক মাকছুদ উল্যাহ অত্যন্ত সৎ, সাহসী ও পেশাদার সাংবাদিক ছিলেন। শুধু পেশাগত সম্পর্কের জায়গা থেকেই নয়, আমি তাকে অন্তর থেকে ভালোবাসতাম ও শ্রদ্ধা করতাম। তার মতো একজন সহকর্মী ও সহযোদ্ধার আকস্মিক মৃত্যুতে আমি ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে শোকাহত। বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের পুরো পরিবার আজ শোকাহত।” তিনি আরও বলেন, “মাকছুদ উল্যাহ সাংবাদিকতার পেশায় নিষ্ঠা, সততা ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মৃত্যু সাংবাদিক সমাজের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। মহান আল্লাহ তাআলা যেন মরহুমের সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই কঠিন সময় ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করেন। আমি সবাইকে মরহুমের জন্য দোয়া করার আহ্বান জানাচ্ছি।” পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাকছুদ উল্যাহ স্বপরিবারে ছেলে আশিককে সৌদি আরব পাঠানোর উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসেন। শুক্রবার সকালে আশিকের সৌদি আরব যাওয়ার ফ্লাইট নির্ধারিত ছিল। এ উদ্দেশ্যে বুধবার বিকেলে তারা লালমোহন থেকে লঞ্চযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। ঢাকায় পৌঁছে গাজীপুরে এক আত্মীয়ের বাসায় অবস্থানকালে বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মাকছুদ উল্যাহ। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারের সদস্য, স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। বিশেষ করে বিদেশগামী যাত্রী ছোট ছেলে আশিকসহ পরিবারের সদস্যরা বাবাকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে গাজীপুরে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর শুক্রবার সকালে মরদেহ নিজ বাড়ি ভোলার লালমোহনের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হবে। মাকছুদ উল্যাহর মৃত্যুকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক করে তুলেছে আরেকটি বিষয়—শুক্রবার সকালে যখন বাবার মরদেহ লালমোহনের পথে রওনা হবে, ঠিক সেই সময় তার ছেলে আশিক সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে বিমানে উড়াল দেবেন। একদিকে বাবার শেষ যাত্রা নিজ বাড়ির পথে, অন্যদিকে ছেলের নতুন জীবনের উদ্দেশ্যে বিদেশযাত্রা—একই সময়ে বাবা-ছেলের দুই ভিন্ন গন্তব্যের এই নির্মম বাস্তবতা পরিবারটির শোককে আরও ভারী করে তুলেছে। এদিকে মাকছুদ উল্যাহর মৃত্যুতে লালমোহন প্রেসক্লাবের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, সহকর্মী সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সাংবাদিক মহলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাকছুদ উল্যাহ ছিলেন একজন নির্ভীক, দায়িত্বশীল ও মানবিক সাংবাদিক। স্থানীয় মানুষের বিভিন্ন সমস্যা, অন্যায়-অনিয়ম ও জনদুর্ভোগের কথা তিনি সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরতেন। তার মৃত্যুতে স্থানীয় সাংবাদিকতায় যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে মরহুম সাংবাদিক মাকছুদ উল্যাহর রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। দোয়া: হে মহান আল্লাহ, মরহুম সাংবাদিক মাকছুদ উল্যাহর জীবনের সকল গুনাহ ও ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিন, তার কবরকে নূরে ভরিয়ে দিন, কবরের আজাব মাফ করে দিন এবং তাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ স্থান দান করুন। তার পরিবার-পরিজনকে এই অপূরণীয় শোক সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দান করুন। আমিন।
Reporter Name 


















