
খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান, পটুয়াখালী: “মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য… একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না?” বিখ্যাত এই সুরের মতোই আজ এক করুণ বাস্তবতার মুখোমুখি গলাচিপা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রতনপুরের বাসিন্দা সোহরাব হোসেন। পুরো জীবনটাই যার কেটেছে অভাব ও প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে চরম লড়াই করে, সেই মানুষটির জীবনপ্রদীপ আজ ঘোর অনিশ্চয়তার মুখে। আজকের সোহরাব মিয়া আর অতীতের শক্ত-সামর্থ্য সোহরাব এক নন। সময়ের নির্মম কষাঘাতে তিনি আজ সম্পূর্ণ নিঃস্ব ও অসহায়। একসময় পরিবারের অন্নসংস্থানের তাগিদে ভূষামালের আড়তে দিন-রাত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করতেন তিনি। ৪০ কেজি ওজনের ধান-চালের বস্তা অনায়াসেই কাঁধে তুলে নেওয়া সেই অদম্য সাহসী মানুষটি পরে গলাচিপার ঐতিহাসিক রেন্ট্রি গাছের নিচে একটি ছোট চায়ের দোকান দেন। কিন্তু সামান্য আয়ে চার সন্তান আর স্ত্রীর সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে উঠলে তিনি বেছে নেন এক অন্যরকম পথ। নিজের কষ্ট ঢেকে রেখে অপরের মুখে হাসি ফোটাতে তিনি শুরু করেন এক অভিনব পেশা। ভ্যানগাড়িতে মাইক বেঁধে, রঙিন জোকারের পোশাক পরে, গানের তালে তালে গ্রামে গ্রামে ঘুরে আইসক্রিম বিক্রি করতেন সোহরাব। যে মাইকের শব্দ শুনে আনন্দিত শিশুরা ছুটে আসত, আজ সেই কণ্ঠ ও কোলাহল নীরব হয়ে গেছে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে প্রায় এক বছর আগে হঠাৎ ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন তিনি। যে হাত দিয়ে তিনি দিন-রাত পরিশ্রম করে সংসার টানতেন, সেই হাত-পা আজ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে অবশ। পরিবারে যেখানে দুবেলা অন্ন জোটে না, সেখানে চিকিৎসার বিপুল খরচ বহন করা যেন আকাশের চাঁদ ছোঁয়ার শামিল। নিজের সমস্ত আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে, লাঠিতে ভর করে আজ বাজারে বাজারে ঘুরে পরিচিত মানুষের কাছে হাত পাততে বাধ্য হচ্ছেন এই জীবনযোদ্ধা। প্রতিদিনের জীবনরক্ষাকারী ওষুধের টাকাটুকুও আজ তার কাছে অধরা। যে মানুষটি সারা জীবন ঘাম ঝরিয়ে সমাজ ও পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন, তিনি আজ আমাদের মানবিকতার দিকে হাত বাড়িয়ে আছেন। সমাজ ও দেশের বিত্তবান, দানশীল ব্যক্তি এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সোহরাব মিয়ার আকুল আবেদন—চিকিৎসা ও বেঁচে থাকার তাগিদে তার পাশে দাড়ানোর। আমাদের সামান্য সহযোগিতাই পারে একজন হেরে যেতে বসা জীবনযোদ্ধাকে আবার সুস্থ জীবনের আলো দেখাতে। আসুন, মানবিকতার খাতিরে আজ আমরা সবাই মিলে সোহরাব মিয়ার সেই সহায়হীন হাতটি শক্ত করে ধরি।
Reporter Name 



















