ঢাকা ০৩:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বামী বিদেশে থাকতেই অন্তঃসত্ত্বা, পরে গোপন গর্ভপাতের অভিযোগ চিকিৎসা প্রতিবেদনে ‘অসম্পূর্ণ গর্ভপাত’, এফিডেভিটের পর ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২ Time View
Print

স্টাফ রিপোর্টার : মনিরুল ইসলাম জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার চাপারকোনা ইউনিয়নের হাঠবাড়ি এলাকায় বৈশাখী আক্তার সুবর্ণা নামে এক নারীকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। স্বামী প্রায় দুই বছর ধরে বিদেশে অবস্থানকালে অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন এবং পরে বিষয়টি গোপন রাখতে গর্ভপাত করান—এমন অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। গর্ভপাতের পর চিকিৎসা নেওয়ার ঘটনায় উপস্থাপিত আল্ট্রাসনোগ্রাম প্রতিবেদনে ‘অসম্পূর্ণ গর্ভপাত’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে বলেও জানা গেছে। তবে অভিযোগের সবকিছু স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট নারীর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৈশাখী আক্তার সুবর্ণার পৈতৃক বাড়ি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী থানার বালাসুতি এলাকায়। তার বাবা বছির উদ্দিন ও মা বিলকিস বেগম। তিনি বাবা-মায়ের বড় সন্তান। প্রায় ১৬ বছর আগে তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের নয় বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। গত প্রায় দুই বছর ধরে তার স্বামী বিদেশে অবস্থান করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বামী বিদেশে থাকার সুযোগে বৈশাখী আক্তার সুবর্ণা অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে গত ৪ ফেব্রুয়ারি নোটারির মাধ্যমে এফিডেভিট করে স্বামীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটান তিনি। এরপর তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার আশঙ্কায় পরে গোপনে গর্ভপাত করানো হয়। গর্ভপাতের পর শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে গত ৩ জুলাই জামালপুরের এম এ রশিদ হাসপাতালে তার ৪ডি কালার আল্ট্রাসনোগ্রাম ও ট্রান্সভ্যাজাইনাল আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয়। উপস্থাপিত চিকিৎসা প্রতিবেদনে জরায়ুর ভেতরে একটি অংশের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে রেডিওলজিস্টের মন্তব্যে বিষয়টি ‘অসম্পূর্ণ গর্ভপাত’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ রয়েছে। তবে চিকিৎসা প্রতিবেদনের এই পর্যবেক্ষণ থেকে গর্ভপাতের কারণ, সময় বা এর সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। অভিযোগকারীদের দাবি, কথিত সম্পর্ক এবং অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার আশঙ্কায় গোপনে গর্ভপাতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে ওই কথিত সম্পর্কের ব্যক্তির পরিচয়, গর্ভপাতের প্রকৃত স্থান, কার মাধ্যমে চিকিৎসা নেওয়া হয়েছে কিংবা এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না—এসব বিষয়ে নিশ্চিত ও স্বাধীন তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটিকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি বিষয়টি নিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও জানা গেছে। তবে বৈশাখী আক্তার সুবর্ণার পরিবারের সদস্যরা এতে সাড়া দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বর্তমানে বৈশাখী আক্তার সুবর্ণা ঢাকার কোনাবাড়ী-বেলতলী-দেউলিবাড়ী এলাকায় অবস্থান করছেন। তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যও পাওয়া সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদঘাটনে চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি, নোটারির এফিডেভিট, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গর্ভপাতের প্রকৃত ঘটনা, এর সময়কাল এবং কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হতে পারে। অভিযোগের বিষয়ে বৈশাখী আক্তার সুবর্ণার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথ গুরুত্বসহ প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে সেটিও প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত”

স্বামী বিদেশে থাকতেই অন্তঃসত্ত্বা, পরে গোপন গর্ভপাতের অভিযোগ চিকিৎসা প্রতিবেদনে ‘অসম্পূর্ণ গর্ভপাত’, এফিডেভিটের পর ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য

Update Time : ১২:৫৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Print

স্টাফ রিপোর্টার : মনিরুল ইসলাম জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার চাপারকোনা ইউনিয়নের হাঠবাড়ি এলাকায় বৈশাখী আক্তার সুবর্ণা নামে এক নারীকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। স্বামী প্রায় দুই বছর ধরে বিদেশে অবস্থানকালে অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন এবং পরে বিষয়টি গোপন রাখতে গর্ভপাত করান—এমন অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। গর্ভপাতের পর চিকিৎসা নেওয়ার ঘটনায় উপস্থাপিত আল্ট্রাসনোগ্রাম প্রতিবেদনে ‘অসম্পূর্ণ গর্ভপাত’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে বলেও জানা গেছে। তবে অভিযোগের সবকিছু স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট নারীর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৈশাখী আক্তার সুবর্ণার পৈতৃক বাড়ি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী থানার বালাসুতি এলাকায়। তার বাবা বছির উদ্দিন ও মা বিলকিস বেগম। তিনি বাবা-মায়ের বড় সন্তান। প্রায় ১৬ বছর আগে তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের নয় বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। গত প্রায় দুই বছর ধরে তার স্বামী বিদেশে অবস্থান করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বামী বিদেশে থাকার সুযোগে বৈশাখী আক্তার সুবর্ণা অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে গত ৪ ফেব্রুয়ারি নোটারির মাধ্যমে এফিডেভিট করে স্বামীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটান তিনি। এরপর তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার আশঙ্কায় পরে গোপনে গর্ভপাত করানো হয়। গর্ভপাতের পর শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে গত ৩ জুলাই জামালপুরের এম এ রশিদ হাসপাতালে তার ৪ডি কালার আল্ট্রাসনোগ্রাম ও ট্রান্সভ্যাজাইনাল আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয়। উপস্থাপিত চিকিৎসা প্রতিবেদনে জরায়ুর ভেতরে একটি অংশের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে রেডিওলজিস্টের মন্তব্যে বিষয়টি ‘অসম্পূর্ণ গর্ভপাত’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ রয়েছে। তবে চিকিৎসা প্রতিবেদনের এই পর্যবেক্ষণ থেকে গর্ভপাতের কারণ, সময় বা এর সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। অভিযোগকারীদের দাবি, কথিত সম্পর্ক এবং অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার আশঙ্কায় গোপনে গর্ভপাতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে ওই কথিত সম্পর্কের ব্যক্তির পরিচয়, গর্ভপাতের প্রকৃত স্থান, কার মাধ্যমে চিকিৎসা নেওয়া হয়েছে কিংবা এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না—এসব বিষয়ে নিশ্চিত ও স্বাধীন তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটিকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি বিষয়টি নিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও জানা গেছে। তবে বৈশাখী আক্তার সুবর্ণার পরিবারের সদস্যরা এতে সাড়া দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বর্তমানে বৈশাখী আক্তার সুবর্ণা ঢাকার কোনাবাড়ী-বেলতলী-দেউলিবাড়ী এলাকায় অবস্থান করছেন। তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যও পাওয়া সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদঘাটনে চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি, নোটারির এফিডেভিট, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গর্ভপাতের প্রকৃত ঘটনা, এর সময়কাল এবং কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হতে পারে। অভিযোগের বিষয়ে বৈশাখী আক্তার সুবর্ণার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথ গুরুত্বসহ প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে সেটিও প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।