ঢাকা ০৭:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিজের জানাজা-দাফনের খরচ জোগাতে ভিক্ষার টাকা জমাতেন ‘মফুর বাপ’

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:১৭:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪৮ Time View
Print

সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মোঃ শাকিল খান রাজু ভিক্ষা করে পাওয়া টাকা থেকে একটু একটু করে নিজের জানাজা ও দাফনের খরচ জমিয়ে রাখতেন সত্তরোর্ধ্ব এক মানসিক ভারসাম্যহীন ভিক্ষুক। স্থানীয়দের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘মফুর বাপ’ নামে। তার প্রকৃত নাম ওয়াহাব পাটোয়ারী। মৃত্যুর পর দাফনের খরচ জোগাড় না হলে জানাজা ও দাফন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভিক্ষা করে টাকা জমাতেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ভিক্ষা করে পাওয়া টাকা তিনি পুঁটলিতে করে স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদারের কাছে আমানত হিসেবে জমা রাখতেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার কলাতলী ইউনিয়নের কবির বাজারে মেয়ের বাড়িতে মারা যান ওয়াহাব পাটোয়ারী। পরে তার জমানো টাকা দিয়ে দাফনের কাপড় কেনা হয়। জুমার নামাজের আগে মনির বাজার জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে স্থানীয়রা তাকে দাফন করেন। ওয়াহাব পাটোয়ারী উপজেলার মনপুরা ইউনিয়নের আন্দিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়রা জানান, মাথার সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে তিনি পরিবারের সঙ্গে থাকতেন না। সারাদিন বাজারে বাজারে ঘুরে ভিক্ষা করতেন এবং অনেক সময় পথে-ঘাটেই রাত কাটাতেন। ভিক্ষা করে পাওয়া টাকা তিনি পলিথিনে মুড়িয়ে পুঁটলি করে রাখতেন। পরে রাতে সেই টাকা সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদারের কাছে জমা রাখতেন। এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে নিজের মৃত্যুর পরের খরচের জন্য টাকা সঞ্চয় করে আসছিলেন তিনি। ওয়াহাব পাটোয়ারীর মৃত্যুর পর সাবেক চেয়ারম্যানের কাছে আমানত রাখা টাকার পুঁটলি খুলে গণনা করা হলে ৮ হাজার ৯৮৫ টাকা পাওয়া যায়। এরপর সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদার ব্যক্তিগতভাবে ৫ হাজার টাকা, সাবেক উপজেলা যুবদল সভাপতি রাজিব চৌধুরী ৫ হাজার টাকা এবং ব্যবসায়ী শাহীন ২ হাজার টাকা তার আত্মীয়দের হাতে তুলে দেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, মৃত্যুর পর ওয়াহাব পাটোয়ারীর জমানো টাকা ফেরত দিয়ে তার জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করায় বিষয়টি মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদার ও সাবেক উপজেলা যুবদল সভাপতি রাজিব চৌধুরী বলেন, “ওয়াহাব পাটোয়ারী দাদার নিজের দাফনের খরচের জন্য জমানো টাকা ছিল। তার ওসিয়ত অনুযায়ী সবকিছু করা হবে। স্থানীয়দের নিয়ে আয়োজন করে মানুষজনকে খাওয়ানোর ব্যবস্থাও করা হবে। একজন অসহায় মানুষের জীবনের শেষ ইচ্ছা পূরণে স্থানীয়দের এই উদ্যোগকে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন এলাকাবাসী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

দূর্গাপুরে বিভাগীয় কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের মাঝে সনদ, সম্মাননা পদক ও স্মারক তুলে দেওয়া হয়

নিজের জানাজা-দাফনের খরচ জোগাতে ভিক্ষার টাকা জমাতেন ‘মফুর বাপ’

Update Time : ০৫:১৭:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Print

সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মোঃ শাকিল খান রাজু ভিক্ষা করে পাওয়া টাকা থেকে একটু একটু করে নিজের জানাজা ও দাফনের খরচ জমিয়ে রাখতেন সত্তরোর্ধ্ব এক মানসিক ভারসাম্যহীন ভিক্ষুক। স্থানীয়দের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘মফুর বাপ’ নামে। তার প্রকৃত নাম ওয়াহাব পাটোয়ারী। মৃত্যুর পর দাফনের খরচ জোগাড় না হলে জানাজা ও দাফন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভিক্ষা করে টাকা জমাতেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ভিক্ষা করে পাওয়া টাকা তিনি পুঁটলিতে করে স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদারের কাছে আমানত হিসেবে জমা রাখতেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার কলাতলী ইউনিয়নের কবির বাজারে মেয়ের বাড়িতে মারা যান ওয়াহাব পাটোয়ারী। পরে তার জমানো টাকা দিয়ে দাফনের কাপড় কেনা হয়। জুমার নামাজের আগে মনির বাজার জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে স্থানীয়রা তাকে দাফন করেন। ওয়াহাব পাটোয়ারী উপজেলার মনপুরা ইউনিয়নের আন্দিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়রা জানান, মাথার সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে তিনি পরিবারের সঙ্গে থাকতেন না। সারাদিন বাজারে বাজারে ঘুরে ভিক্ষা করতেন এবং অনেক সময় পথে-ঘাটেই রাত কাটাতেন। ভিক্ষা করে পাওয়া টাকা তিনি পলিথিনে মুড়িয়ে পুঁটলি করে রাখতেন। পরে রাতে সেই টাকা সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদারের কাছে জমা রাখতেন। এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে নিজের মৃত্যুর পরের খরচের জন্য টাকা সঞ্চয় করে আসছিলেন তিনি। ওয়াহাব পাটোয়ারীর মৃত্যুর পর সাবেক চেয়ারম্যানের কাছে আমানত রাখা টাকার পুঁটলি খুলে গণনা করা হলে ৮ হাজার ৯৮৫ টাকা পাওয়া যায়। এরপর সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদার ব্যক্তিগতভাবে ৫ হাজার টাকা, সাবেক উপজেলা যুবদল সভাপতি রাজিব চৌধুরী ৫ হাজার টাকা এবং ব্যবসায়ী শাহীন ২ হাজার টাকা তার আত্মীয়দের হাতে তুলে দেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, মৃত্যুর পর ওয়াহাব পাটোয়ারীর জমানো টাকা ফেরত দিয়ে তার জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করায় বিষয়টি মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদার ও সাবেক উপজেলা যুবদল সভাপতি রাজিব চৌধুরী বলেন, “ওয়াহাব পাটোয়ারী দাদার নিজের দাফনের খরচের জন্য জমানো টাকা ছিল। তার ওসিয়ত অনুযায়ী সবকিছু করা হবে। স্থানীয়দের নিয়ে আয়োজন করে মানুষজনকে খাওয়ানোর ব্যবস্থাও করা হবে। একজন অসহায় মানুষের জীবনের শেষ ইচ্ছা পূরণে স্থানীয়দের এই উদ্যোগকে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন এলাকাবাসী।