ঢাকা ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খোকসায় পাটের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:২৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৮ Time View
Print

মোঃ জহুরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধিঃ
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত তদারকির কারণে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। তবে অতিবৃষ্টির কারণে কিছু নিচু জমিতে পানি জমে পাটগাছ লালচে হয়ে যাওয়ায় ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। এ পরিস্থিতিতে উন্নতমানের আঁশ উৎপাদনের জন্য ‘রিবন রেটিং’ বা ছালকরণ পদ্ধতিতে পাট পচানোর পরামর্শ দিয়েছে কৃষি বিভাগ। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৪ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৯৬৮ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৬৩৩ হেক্টর বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে। উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ২৮টি কৃষি ব্লকেই পাটের ফলন আশাব্যঞ্জক। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বদরুদ্দোজা জানান, উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের নিবিড় তদারকির কারণে এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে পাটের আবাদ সম্ভব হয়েছে। তবে কৃষক সুনীল মন্ডল ও আবদুস সাত্তার জানান, কয়েক দফা ভারী বৃষ্টিতে নিচু জমিতে পানি জমে থাকায় কিছু পাটগাছ লালচে হয়ে গেছে। এতে উৎপাদন কিছুটা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন এসেছে। তাই প্রথাগত পদ্ধতির পরিবর্তে ‘রিবন রেটিং’ পদ্ধতিতে পাট পচানো সময়োপযোগী ও কার্যকর। এ পদ্ধতিতে কম পানিতেই পাট পচানো যায়, আঁশের রং হয় উজ্জ্বল ও সোনালি, পাশাপাশি বাজারে ভালো দামও পাওয়া যায়। তিনি জানান, এবার হেক্টরপ্রতি প্রায় ২ দশমিক ৭ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিঘাপ্রতি ৯ মণেরও বেশি। বর্তমান বাজারদর অনুকূলে থাকায় কৃষকরা লাভবান হওয়ার আশা করছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, সরকারের খাল খনন প্রকল্পের সুফল ইতোমধ্যে কৃষকেরা পাচ্ছেন। বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেও এসব খাল পাট ধোয়া ও পচানোর কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কৃষি বিভাগ আশা করছে, অনুকূল বাজার ও আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহারে খোকসার পাটচাষ আরও

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি 🕊️ হিউম্যান এইড ইন্টারন্যাশনাল ও বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব-এর পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করছি আজকের এই শোকাবহ দিনটি।

খোকসায় পাটের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

Update Time : ১২:২৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
Print

মোঃ জহুরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধিঃ
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত তদারকির কারণে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। তবে অতিবৃষ্টির কারণে কিছু নিচু জমিতে পানি জমে পাটগাছ লালচে হয়ে যাওয়ায় ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। এ পরিস্থিতিতে উন্নতমানের আঁশ উৎপাদনের জন্য ‘রিবন রেটিং’ বা ছালকরণ পদ্ধতিতে পাট পচানোর পরামর্শ দিয়েছে কৃষি বিভাগ। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৪ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৯৬৮ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৬৩৩ হেক্টর বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে। উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ২৮টি কৃষি ব্লকেই পাটের ফলন আশাব্যঞ্জক। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বদরুদ্দোজা জানান, উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের নিবিড় তদারকির কারণে এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে পাটের আবাদ সম্ভব হয়েছে। তবে কৃষক সুনীল মন্ডল ও আবদুস সাত্তার জানান, কয়েক দফা ভারী বৃষ্টিতে নিচু জমিতে পানি জমে থাকায় কিছু পাটগাছ লালচে হয়ে গেছে। এতে উৎপাদন কিছুটা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন এসেছে। তাই প্রথাগত পদ্ধতির পরিবর্তে ‘রিবন রেটিং’ পদ্ধতিতে পাট পচানো সময়োপযোগী ও কার্যকর। এ পদ্ধতিতে কম পানিতেই পাট পচানো যায়, আঁশের রং হয় উজ্জ্বল ও সোনালি, পাশাপাশি বাজারে ভালো দামও পাওয়া যায়। তিনি জানান, এবার হেক্টরপ্রতি প্রায় ২ দশমিক ৭ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিঘাপ্রতি ৯ মণেরও বেশি। বর্তমান বাজারদর অনুকূলে থাকায় কৃষকরা লাভবান হওয়ার আশা করছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, সরকারের খাল খনন প্রকল্পের সুফল ইতোমধ্যে কৃষকেরা পাচ্ছেন। বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেও এসব খাল পাট ধোয়া ও পচানোর কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কৃষি বিভাগ আশা করছে, অনুকূল বাজার ও আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহারে খোকসার পাটচাষ আরও