ঢাকা ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওসমানী মেডিকেলের ডেলিভারি ওয়ার্ডে ওয়ার্ড বয় শাহীনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৪৩:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • ২২ Time View
Print

ফয়ছল কাদির, সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো :: সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেলিভারি ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালনকারী এক ওয়ার্ড বয়ের বিরুদ্ধে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী নিয়ে অনিয়মসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় শাহীন মিয়া। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন একই ইউনিটে দায়িত্ব পালনের সুযোগে ডেলিভারি ওয়ার্ডে শাহীনের একটি শক্তিশালী প্রভাববলয় তৈরি হয়েছে। প্রসূতি রোগীদের ট্রলিতে নেওয়া, সিট বরাদ্দসহ বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, দাবিকৃত অর্থ দিতে অনীহা প্রকাশ করলে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। এমনকি সেবা পেতে হয়রানি কিংবা বিলম্বের আশঙ্কায় অনেক পরিবার প্রতিবাদ না করে অর্থ দিতে বাধ্য হন বলেও দাবি করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী নিয়েও অভিযোগ শুধু রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায় নয়, হাসপাতালের সরকারি সরবরাহের ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী নিয়েও শাহীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত কিছু ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী রোগীর নামে ইস্যু করিয়ে তা রোগীকে না দিয়ে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেগুলো বাইরে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বাইরের লোকজন দিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ শাহীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, নিজের প্রভাব ধরে রাখতে হাসপাতালের বাইরের একটি প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, অনিয়মের প্রতিবাদ করলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো কিংবা নানাভাবে হয়রানির আশঙ্কা তৈরি করা হয়। ডেলিভারি ওয়ার্ডে স্বজনকে নিয়ে আসা এক ভুক্তভোগী বলেন, “সরকারি হাসপাতালে সেবা পাওয়ার আশায় এসেছিলাম। কিন্তু বিভিন্ন পর্যায়ে টাকা দাবি করা হয়েছে। টাকা না দিলে কাজ এগোয় না—এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।” তদন্তের দাবি ডেলিভারি ওয়ার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ইউনিটে একজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনরা। তাদের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সচেতন মহল মনে করছে, হাসপাতালের সেবার মান ও ভাবমূর্তি রক্ষায় ডেলিভারি ওয়ার্ডে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, সরকারি ওষুধ-চিকিৎসাসামগ্রী ব্যবস্থাপনা এবং কর্মচারীদের আচরণ—সবকিছুই প্রশাসনিকভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে ওয়ার্ড বয় শাহীন মিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা গেলে তা-ও প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তদন্তই হবে মূল বিষয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সিএমপির বন্দর বিভাগের উদ্যোগে হারানো ও চুরি হওয়া ১২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার; প্রকৃত মালিকদের নিকট হস্তান্তর

ওসমানী মেডিকেলের ডেলিভারি ওয়ার্ডে ওয়ার্ড বয় শাহীনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

Update Time : ০২:৪৩:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
Print

ফয়ছল কাদির, সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো :: সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেলিভারি ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালনকারী এক ওয়ার্ড বয়ের বিরুদ্ধে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী নিয়ে অনিয়মসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় শাহীন মিয়া। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন একই ইউনিটে দায়িত্ব পালনের সুযোগে ডেলিভারি ওয়ার্ডে শাহীনের একটি শক্তিশালী প্রভাববলয় তৈরি হয়েছে। প্রসূতি রোগীদের ট্রলিতে নেওয়া, সিট বরাদ্দসহ বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, দাবিকৃত অর্থ দিতে অনীহা প্রকাশ করলে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। এমনকি সেবা পেতে হয়রানি কিংবা বিলম্বের আশঙ্কায় অনেক পরিবার প্রতিবাদ না করে অর্থ দিতে বাধ্য হন বলেও দাবি করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী নিয়েও অভিযোগ শুধু রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায় নয়, হাসপাতালের সরকারি সরবরাহের ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী নিয়েও শাহীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত কিছু ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী রোগীর নামে ইস্যু করিয়ে তা রোগীকে না দিয়ে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেগুলো বাইরে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বাইরের লোকজন দিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ শাহীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, নিজের প্রভাব ধরে রাখতে হাসপাতালের বাইরের একটি প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, অনিয়মের প্রতিবাদ করলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো কিংবা নানাভাবে হয়রানির আশঙ্কা তৈরি করা হয়। ডেলিভারি ওয়ার্ডে স্বজনকে নিয়ে আসা এক ভুক্তভোগী বলেন, “সরকারি হাসপাতালে সেবা পাওয়ার আশায় এসেছিলাম। কিন্তু বিভিন্ন পর্যায়ে টাকা দাবি করা হয়েছে। টাকা না দিলে কাজ এগোয় না—এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।” তদন্তের দাবি ডেলিভারি ওয়ার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ইউনিটে একজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনরা। তাদের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সচেতন মহল মনে করছে, হাসপাতালের সেবার মান ও ভাবমূর্তি রক্ষায় ডেলিভারি ওয়ার্ডে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, সরকারি ওষুধ-চিকিৎসাসামগ্রী ব্যবস্থাপনা এবং কর্মচারীদের আচরণ—সবকিছুই প্রশাসনিকভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে ওয়ার্ড বয় শাহীন মিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা গেলে তা-ও প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তদন্তই হবে মূল বিষয়।