
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকার আশুলিয়ায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ভাড়ার আড়ালে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে অটোরিকশা আত্মসাৎ, চুরি, ছিনতাই, অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালেও মামলার প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে অভিযোগে নাম থাকা রনি এখনও পলাতক। এদিকে ভুক্তভোগীর দাবি, তার তিনটি অটোরিকশার কোনোটিই এখনো উদ্ধার করা যায়নি।
ভুক্তভোগী আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া জানান, তিনি আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ভাড়ার ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তার অভিযোগ, গত ১৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে রনি ও তরিকুল ইসলাম তারিক ভাড়ার কথা বলে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও একটি ইজিবাইক নিয়ে যায়। নির্ধারিত সময় পার হলেও তারা আর গাড়িগুলো ফেরত দেয়নি। পরে গাড়ি ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা উল্টো তার কাছে টাকা দাবি করে এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরবর্তীতে অপর এক চালকের মাধ্যমে তার আরও একটি অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ফলে বর্তমানে তার মোট তিনটি অটোরিকশা নিখোঁজ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া বলেন, “প্রথমে তারা আমার দুটি গাড়ি ভাড়ায় নিয়ে আর ফেরত দেয়নি। পরে গাড়ি চাইতে গেলে আমার কাছেই টাকা দাবি করে। এরপর আরও একটি অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। আজ পর্যন্ত আমি আমার তিনটি গাড়ির একটিও উদ্ধার করতে পারিনি। আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসনের কাছে আমার দাবি, গাড়িগুলো উদ্ধার করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।”
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তরিকুল ইসলাম তারিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে মামলার অপর প্রধান অভিযুক্ত রনি এখনও পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, গ্রেপ্তার তরিকুল ইসলাম তারিকের স্ত্রী রুপালি খাতুন আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত। এছাড়া স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, রনি ও তরিকুল ইসলাম তারিকের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ঢাকা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশা চুরি, ছিনতাই, অপহরণ এবং ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। এ পর্যন্ত একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং চুরি হওয়া অটোরিকশাগুলো উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
ভুক্তভোগীর দাবি, তার তিনটি অটোরিকশার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও গাড়িগুলো উদ্ধার না হওয়ায় তিনি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, আশুলিয়া ও আশপাশের এলাকায় অটোরিকশা চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন।
Reporter Name 

















