
সাখাওয়াত হোসেন, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি | চাঁদপুর
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৭ নম্বর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার বাড়ি এলাকায় একটি জমি নিয়ে দখলকে কেন্দ্র করে বিরোধের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তাদের দীর্ঘদিনের দখলীয় সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আব্দুল কাদেরের ওয়ারিশদের অভিযোগ, একই এলাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলামের ছেলে বেলায়েত হোসেন বিল্লাল (৫৫) তাদের দখলে থাকা জমি জোরপূর্বক দখল করেছেন। তাদের দাবি, প্রায় ৫০ বছর ধরে আব্দুল কাদের ওই জমির দখলে ছিলেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতেও প্রভাব খাটিয়ে ওই জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে জমিটি পুনরায় আব্দুল কাদেরের ওয়ারিশদের দখলে দেওয়া হয় বলে তারা জানান।
ভুক্তভোগী পরিবারের আরও অভিযোগ, বর্তমানে বিল্লাল পুনরায় প্রভাব বিস্তার করে বিএস ১০৬ নম্বর খতিয়ানের ১৪৯৩ নম্বর দাগভুক্ত ২২ শতক জমি দখল করে সেখানে পুকুর খনন করেছেন। এছাড়া তাদের পূর্বের বসতভিটার ওপর বহুতল ভবন নির্মাণেরও অভিযোগ তোলা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে রেজিস্ট্রিকৃত ১৪৭২ নম্বর দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পর তারা ৯৬৪ নম্বর নামজারি খতিয়ান সম্পন্ন করেন। এরপরও বেলায়েত হোসেন বিল্লাল তাদের হয়রানির উদ্দেশ্যে চাঁদপুর জেলা জজ আদালতে ৫২/২০২৩ নম্বর দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
এছাড়া ২০২৩ সালে সম্পত্তিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা হলে চাঁদপুর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৭২৪/২০২৩ নম্বর মামলাও করা হয়েছিল বলে ভুক্তভোগীরা জানান। তাদের দাবি, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক জমি দখল করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কেউ জোরপূর্বক জমি দখল করতে পারে না। আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি, যাতে আমাদের দখলীয় সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া হয়।”
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দাও দাবি করেন, জমিটি পূর্বে ভুক্তভোগী পরিবারের দখলে ছিল। তাদের অভিযোগ, বর্তমানে বেলায়েত হোসেন বিল্লাল ও তার সহযোগীরা জোরপূর্বক জমি দখল করে রেখেছেন এবং ভুক্তভোগীদের বাগানের গাছপালারও ক্ষতি করছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বেলায়েত হোসেন বিল্লাল মুঠোফোনে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “এগুলো আমাদের বৈধ সম্পত্তি। অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আদালতে বিচারাধীন থাকায় মামলার চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি
Reporter Name 

















