ঢাকা ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লামাবাজারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, মাদক ও অপরাধ দমনে তৎপর এসআই মাইনুল ইসলাম

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৫৫:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ২০ Time View
Print

বদরুল আলম বিশেষ প্রতিনিধি :: সিলেট মহানগরীর লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মাদক, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছেন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) এসএম মাইনুল ইসলাম। তাঁর নেতৃত্বে পুলিশের নিয়মিত টহল, আকস্মিক অভিযান ও অপরাধ দমনে তৎপরতায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লামাবাজার ও আশপাশের এলাকায় একসময় মাদক বেচাকেনা, চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ ছিল। তবে এসআই এসএম মাইনুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। নিয়মিত রাত্রিকালীন টহল, সন্দেহভাজন এলাকায় আকস্মিক অভিযান এবং অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে পুলিশ। বিশেষ করে মাদকবিরোধী অভিযানে কঠোর অবস্থান নিয়েছে লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ি। মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে এলাকায় অপরাধের প্রবণতা আরও কমবে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। কিশোর গ্যাং দমনেও তৎপরতা মাদকবিরোধী কার্যক্রমের পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধেও পুলিশি উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু এলাকায় কিশোরদের সংঘবদ্ধ আড্ডা, ইভটিজিং ও ছোটখাটো সংঘর্ষ জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করছে ফাঁড়ি পুলিশ। অভিযানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করার তথ্যও পাওয়া গেছে। পুলিশের এমন তৎপরতায় অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে কিশোর অপরাধ স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ। ‘টাইগার’ জামাল গ্রেপ্তার, এলাকায় আলোচনা অপরাধ দমনে সাম্প্রতিক অভিযানগুলোর মধ্যে আলোচনায় এসেছে ‘টাইগার’ জামালকে দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তারের ঘটনা। পুলিশ সূত্রের দাবি, জামাল ঘাসিটুলা ও শামীমাবাদ এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, অবৈধ অস্ত্র রাখা, ছিনতাই, মাদক কারবার এবং জোরপূর্বক জমি দখলসহ একাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি কলোনিকে কেন্দ্র করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। জামাল ও তাঁর দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে অপরাধ দমনে পুলিশের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়দের অনেকে। তাঁদের প্রত্যাশা, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে। অপরাধ দমনে আপসহীন থাকার ঘোষণা পুলিশের এ বিষয়ে জানতে চাইলে লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই এসএম মাইনুল ইসলাম বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় আমরা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেছি। অপরাধী বা মাদক ব্যবসায়ী যেই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। লামাবাজার এলাকাকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে আমাদের এই অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।” সংশ্লিষ্টদের মতে, মাদক, ছিনতাই ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের ধারাবাহিক তৎপরতার পাশাপাশি জনসচেতনতা, স্থানীয়দের সহযোগিতা এবং অপরাধের তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানানোর ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। লামাবাজার এলাকায় স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

শাহজাদপুরে  দৈনিক শ্যামল বাংলা চতুর্থ  প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত   

লামাবাজারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, মাদক ও অপরাধ দমনে তৎপর এসআই মাইনুল ইসলাম

Update Time : ০৯:৫৫:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
Print

বদরুল আলম বিশেষ প্রতিনিধি :: সিলেট মহানগরীর লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মাদক, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছেন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) এসএম মাইনুল ইসলাম। তাঁর নেতৃত্বে পুলিশের নিয়মিত টহল, আকস্মিক অভিযান ও অপরাধ দমনে তৎপরতায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লামাবাজার ও আশপাশের এলাকায় একসময় মাদক বেচাকেনা, চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ ছিল। তবে এসআই এসএম মাইনুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। নিয়মিত রাত্রিকালীন টহল, সন্দেহভাজন এলাকায় আকস্মিক অভিযান এবং অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে পুলিশ। বিশেষ করে মাদকবিরোধী অভিযানে কঠোর অবস্থান নিয়েছে লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ি। মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে এলাকায় অপরাধের প্রবণতা আরও কমবে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। কিশোর গ্যাং দমনেও তৎপরতা মাদকবিরোধী কার্যক্রমের পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধেও পুলিশি উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু এলাকায় কিশোরদের সংঘবদ্ধ আড্ডা, ইভটিজিং ও ছোটখাটো সংঘর্ষ জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করছে ফাঁড়ি পুলিশ। অভিযানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করার তথ্যও পাওয়া গেছে। পুলিশের এমন তৎপরতায় অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে কিশোর অপরাধ স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ। ‘টাইগার’ জামাল গ্রেপ্তার, এলাকায় আলোচনা অপরাধ দমনে সাম্প্রতিক অভিযানগুলোর মধ্যে আলোচনায় এসেছে ‘টাইগার’ জামালকে দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তারের ঘটনা। পুলিশ সূত্রের দাবি, জামাল ঘাসিটুলা ও শামীমাবাদ এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, অবৈধ অস্ত্র রাখা, ছিনতাই, মাদক কারবার এবং জোরপূর্বক জমি দখলসহ একাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি কলোনিকে কেন্দ্র করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। জামাল ও তাঁর দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে অপরাধ দমনে পুলিশের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়দের অনেকে। তাঁদের প্রত্যাশা, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে। অপরাধ দমনে আপসহীন থাকার ঘোষণা পুলিশের এ বিষয়ে জানতে চাইলে লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই এসএম মাইনুল ইসলাম বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় আমরা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেছি। অপরাধী বা মাদক ব্যবসায়ী যেই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। লামাবাজার এলাকাকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে আমাদের এই অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।” সংশ্লিষ্টদের মতে, মাদক, ছিনতাই ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের ধারাবাহিক তৎপরতার পাশাপাশি জনসচেতনতা, স্থানীয়দের সহযোগিতা এবং অপরাধের তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানানোর ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। লামাবাজার এলাকায় স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের।