ঢাকা ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তালতলী বিএনপিতে চার বলয়ের দ্বন্দ্ব, অস্ত্র উদ্ধারে উত্তেজনা- নজরে জেলা নেতৃত্ব

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৫২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩১ Time View
Print

জয়নাল আবেদীন রাজু। স্টাফ রিপোর্টার   বরগুনার তালতলী উপজেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন ক্রমেই প্রকাশ্য বিরোধে রূপ নিচ্ছে। নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ, সাংগঠনিক কর্তৃত্ব, ভবিষ্যৎ কমিটিতে পদ-পদবি এবং জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতাকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপিতে একাধিক বলয় সক্রিয় রয়েছে বলে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সেই বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে।   দলীয় সূত্রের দাবি, তালতলী উপজেলা বিএনপির রাজনীতিতে বর্তমানে অন্তত চারটি পৃথক বলয় রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমান আহ্বায়ক মো. শহিদুল ইসলাম, সাবেক সদস্যসচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, সাবেক বিএনপি নেতা আক্কাস মৃধা এবং সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মামুনকে ঘিরে পৃথক অনুসারী গোষ্ঠী সক্রিয়। জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে এসব বলয়ের রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতাও স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।   সম্প্রতি সাবেক সদস্যসচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মামুনের অনুসারীদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গত ১৫ আগস্ট বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীর কর্মসূচিতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লাকে নিয়ে মোস্তাকের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরে নতুন করে অসন্তোষ দেখা দেয়। …..    এর পর দুই পক্ষ পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করলে তালতলী শহরে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে গাবতলী এলাকা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি ও একটি এয়ারগানসহ পাঁচজনকে আটক করে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। পরে মাহবুবুল আলম মামুনের চাচাতো ভাই আল-আমিনের বসতবাড়ি থেকেও একটি এয়ারগান উদ্ধারের কথা জানিয়েছে যৌথ বাহিনী।   অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তালতলীর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সঙ্গে বিএনপির কোনো নির্দিষ্ট বলয় বা নেতার সরাসরি সম্পৃক্ততা তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের অভিযোগ, জেলা বিএনপির প্রকাশ্য মদদে উপজেলা বিএনপির একটি অংশ কয়েকদিন ধরে তাকে ও তার অনুসারীদের হুমকি দিয়ে আসছিল। তাদের কর্মসূচিতে হামলার উদ্দেশ্যে বহিরাগতদের আনা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাহবুবুল আলম মামুন। তার দাবি, প্রশাসনের নির্দেশে তারা কর্মসূচি স্থগিত করেছেন এবং অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।   মাহবুবুল আলম মামুন বলেন, ‘মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক প্রকাশ্য জনসভায় জেলা বিএনপির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম মোল্লার বিরুদ্ধে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ শিষ্টাচারবহির্ভূত। এটি দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী। যতটুকু জেনেছি, এ বিষয়ে তার কোনো অনুশোচনাও নেই। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাংগঠনিক ভিত্তি ঠিক রেখে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা কঠিন।’   এদিকে মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বরগুনা জেলা বিএনপি। গত ১৯ আগস্ট সকালে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এসএম হুমায়ূন হাসান শাহিন স্বাক্ষরিত নোটিশটি তাকে দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।   নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৯ ও ১৫ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লাকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্য দলীয় শৃঙ্খলা ও দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। এ ধরনের বক্তব্যকে দলীয় গণতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে সাত কার্যদিবসের মধ্যে দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।   নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না দিলে কিংবা তিনি উপস্থিত না হলে দলীয় বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।   দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক এর আগে তালতলী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ১২ ফেব্রুয়ারি তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয় বলে দলীয় সূত্র জানায়। এরপর তিনি পুনরায় দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন।   তবে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের কয়েক মাসের মধ্যেই জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাকে নিয়ে তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আবারও দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্ন সামনে এসেছে।   বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এ কারণে দল তাকে বহিষ্কার করেছিল। পরে তার অনুরোধে জাতীয় নির্বাচনের আগে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। দলে ফিরে তিনি মাদকসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। দল অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’   তবে মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের বিরুদ্ধে মাদকসেবনের অভিযোগ স্থানীয়ভাবে রয়েছে। এ বিষয়ে মোস্তাকের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।   তালতলী উপজেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক মো. শহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।   স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তালতলীর বর্তমান সংকটকে শুধু মোস্তাক-মামুনের বিরোধ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি স্পষ্ট হয় না। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা বিএনপির নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কর্তৃত্ব নিয়ে একাধিক পক্ষ

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সিএমপির বন্দর বিভাগের উদ্যোগে হারানো ও চুরি হওয়া ১২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার; প্রকৃত মালিকদের নিকট হস্তান্তর

তালতলী বিএনপিতে চার বলয়ের দ্বন্দ্ব, অস্ত্র উদ্ধারে উত্তেজনা- নজরে জেলা নেতৃত্ব

Update Time : ০৪:৫২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
Print

জয়নাল আবেদীন রাজু। স্টাফ রিপোর্টার   বরগুনার তালতলী উপজেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন ক্রমেই প্রকাশ্য বিরোধে রূপ নিচ্ছে। নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ, সাংগঠনিক কর্তৃত্ব, ভবিষ্যৎ কমিটিতে পদ-পদবি এবং জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতাকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপিতে একাধিক বলয় সক্রিয় রয়েছে বলে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সেই বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে।   দলীয় সূত্রের দাবি, তালতলী উপজেলা বিএনপির রাজনীতিতে বর্তমানে অন্তত চারটি পৃথক বলয় রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমান আহ্বায়ক মো. শহিদুল ইসলাম, সাবেক সদস্যসচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, সাবেক বিএনপি নেতা আক্কাস মৃধা এবং সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মামুনকে ঘিরে পৃথক অনুসারী গোষ্ঠী সক্রিয়। জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে এসব বলয়ের রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতাও স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।   সম্প্রতি সাবেক সদস্যসচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মামুনের অনুসারীদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গত ১৫ আগস্ট বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীর কর্মসূচিতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লাকে নিয়ে মোস্তাকের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরে নতুন করে অসন্তোষ দেখা দেয়। …..    এর পর দুই পক্ষ পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করলে তালতলী শহরে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে গাবতলী এলাকা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি ও একটি এয়ারগানসহ পাঁচজনকে আটক করে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। পরে মাহবুবুল আলম মামুনের চাচাতো ভাই আল-আমিনের বসতবাড়ি থেকেও একটি এয়ারগান উদ্ধারের কথা জানিয়েছে যৌথ বাহিনী।   অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তালতলীর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সঙ্গে বিএনপির কোনো নির্দিষ্ট বলয় বা নেতার সরাসরি সম্পৃক্ততা তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের অভিযোগ, জেলা বিএনপির প্রকাশ্য মদদে উপজেলা বিএনপির একটি অংশ কয়েকদিন ধরে তাকে ও তার অনুসারীদের হুমকি দিয়ে আসছিল। তাদের কর্মসূচিতে হামলার উদ্দেশ্যে বহিরাগতদের আনা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাহবুবুল আলম মামুন। তার দাবি, প্রশাসনের নির্দেশে তারা কর্মসূচি স্থগিত করেছেন এবং অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।   মাহবুবুল আলম মামুন বলেন, ‘মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক প্রকাশ্য জনসভায় জেলা বিএনপির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম মোল্লার বিরুদ্ধে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ শিষ্টাচারবহির্ভূত। এটি দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী। যতটুকু জেনেছি, এ বিষয়ে তার কোনো অনুশোচনাও নেই। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাংগঠনিক ভিত্তি ঠিক রেখে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা কঠিন।’   এদিকে মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বরগুনা জেলা বিএনপি। গত ১৯ আগস্ট সকালে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এসএম হুমায়ূন হাসান শাহিন স্বাক্ষরিত নোটিশটি তাকে দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।   নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৯ ও ১৫ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লাকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্য দলীয় শৃঙ্খলা ও দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। এ ধরনের বক্তব্যকে দলীয় গণতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে সাত কার্যদিবসের মধ্যে দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।   নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না দিলে কিংবা তিনি উপস্থিত না হলে দলীয় বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।   দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক এর আগে তালতলী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ১২ ফেব্রুয়ারি তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয় বলে দলীয় সূত্র জানায়। এরপর তিনি পুনরায় দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন।   তবে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের কয়েক মাসের মধ্যেই জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাকে নিয়ে তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আবারও দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্ন সামনে এসেছে।   বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এ কারণে দল তাকে বহিষ্কার করেছিল। পরে তার অনুরোধে জাতীয় নির্বাচনের আগে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। দলে ফিরে তিনি মাদকসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। দল অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’   তবে মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের বিরুদ্ধে মাদকসেবনের অভিযোগ স্থানীয়ভাবে রয়েছে। এ বিষয়ে মোস্তাকের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।   তালতলী উপজেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক মো. শহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।   স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তালতলীর বর্তমান সংকটকে শুধু মোস্তাক-মামুনের বিরোধ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি স্পষ্ট হয় না। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা বিএনপির নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কর্তৃত্ব নিয়ে একাধিক পক্ষ