
জয়নাল আবেদীন রাজু। স্টাফ রিপোর্টার উপকূলীয় জেলা বরগুনার মানুষের জীবনযাত্রায় নাগরিক দুর্ভোগ যেন নিত্যদিনের বাস্তবতা। জেলা শহর থেকে প্রত্যন্ত ইউনিয়ন-সবখানেই সড়ক, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা, বেড়িবাঁধ, নৌ ও গণপরিবহনসহ নানা সংকটে ভুগছেন সাধারণ মানুষ। বছরের পর বছর নানা প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাসের পরও এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান মেলেনি। যোগাযোগ সংকটের অন্যতম বড় উদাহরণ জেলাজুড়ে থাকা প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ উঁচু করার সময় এসব সড়কের কার্পেটিং তুলে ফেলা হলেও পরে তা আর সংস্কার করা হয়নি। ফলে বরগুনা সদর, তালতলী ও পাথরঘাটা উপজেলার এসব সড়ক বর্ষায় কাদামাটি ও জলাবদ্ধতায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বেড়িবাঁধ এলাকার লক্ষাধিক মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একই হাল বরগুনা পৌর শহরেরও। পৌর প্রকৌশল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শহরের ১০১ কিলোমিটার পাকা সড়কের মধ্যে অন্তত ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পিচ উঠে বড় বড় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে, যা নিয়মিত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ….. অবকাঠামোর পাশাপাশি সেবা খাতের চিত্রও উদ্বেগজনক। চলতি বছরের জুলাইয়ে পল্লী বিদ্যুতের গ্রিড সাবস্টেশনে বিস্ফোরণের পর সদর উপজেলার প্রায় ৬৭ হাজার গ্রাহক দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন ছিলেন। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে ১৮ থেকে ২৩ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগে যায়। অন্যদিকে ২৫০ শয্যার বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১৫০ জন রোগী ভর্তি থাকেন এবং বহির্বিভাগে সেবা নেন ২৫০ থেকে ৩০০ মানুষ। কিন্তু পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় মেঝেই এখন রোগীদের ভরসা। বিশেষ করে শিশুদের ৫০ শয্যার বিপরীতে নিয়মিত প্রায় ৪০ জন শিশু ভর্তি থাকায় মেঝে ও বারান্দায় গাদাগাদি করে তাদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এ ছাড়া উপকূলীয় জেলা হওয়ায় গ্রীষ্ম মৌসুমে পানীয় জলের সুপেয় উৎসের সংকট ও লবণাক্ততা তীব্র আকার ধারণ করে। পৌর শহরের অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে, আর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঠিক প্রয়োগ না থাকায় উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য জমে বাড়ছে মশা-মাছির উপদ্রব। আধুনিক বর্জ্য শোধনাগার তৈরি করা হলেও তা কার্যকর না থাকা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের। স্থানীয়দের মতে, সড়ক সংস্কার না হওয়া, বর্জ্য শোধনাগার চালু না হওয়া কিংবা হাসপাতালে শয্যা বাড়ালেও জনবল না থাকা আন্তঃদপ্তর সমন্বয়হীনতারই প্রমাণ। বরগুনার মানুষের দাবি খুব বেশি নয়-চলাচলের উপযোগী রাস্তা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, সুপেয় পানি, সঠিক চিকিৎসা ও পরিচ্ছন্ন একটি শহর। উন্নয়ন প্রকল্পের সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে সেগুলোর বাস্তব সুফল নিশ্চিত করাই এখন স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
Reporter Name 









