ঢাকা ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরগুনায় বিনামূল্যে চোখ দেখালেন ৪ শতাধিক মানুষ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:০৫:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩০ Time View
Print

জয়নাল আবেদীন রাজু। স্টাফ রিপোর্টার চোখে পানি পড়া, দৃষ্টিতে ঝাপসাভাব কিংবা দীর্ঘদিনের নানা সমস্যা থাকলেও অর্থসংকটে চিকিৎসকের কাছে যেতে পারছিলেন না বরগুনার অনেক মানুষ। তাদের জন্য একদিনের বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন চার শতাধিক নারী-পুরুষ। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ বিনা খরচে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা। শনিবার (২৯ আগস্ট) বরগুনা পৌর শহরের আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ক্যাম্পটি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত রোগীদের চোখ পরীক্ষা ও চিকিৎসা দেন বরিশাল আধুনিক চক্ষু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ও চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. বাসার মাহমুদ। অসহায়, দরিদ্র, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী মানুষের চিকিৎসার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ক্যাম্পটির আয়োজন করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুরাদ খান। ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. হুমায়ূন শাহীন খান।  এ সময় বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান, বরিশাল আধুনিক চক্ষু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. বাসার মাহমুদ, সাংবাদিক আসাদ তালুকদারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। চিকিৎসা নিতে আসা ইউনুস ফিটার জানান, দীর্ঘদিন ধরে তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছিল এবং দৃষ্টিশক্তিও কমে গিয়েছিল। কিন্তু অর্থের অভাবে এতদিন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেননি। তিনি বলেন, “টাকার অভাবে এতদিন ডাক্তার দেখাতে পারিনি। এখানে এসে বিনামূল্যে চোখ দেখাতে পেরেছি। এতে আমি খুব খুশি। যারা এই আয়োজন করেছেন, আল্লাহ তাদের ভালো রাখুন।” ক্যাম্পে আসা অন্য রোগীরাও জানান, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে চোখের বিভিন্ন সমস্যা থাকলেও তারা চিকিৎসা করাতে পারেননি। বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ায় আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা। চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. বাসার মাহমুদ বলেন, আমি পেশায় চিকিৎসক, তবে তার আগে একজন মানুষ। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব। অর্থের অভাবে যারা চোখের চিকিৎসা করাতে পারছেন না, তারা বরিশালে আমার কাছে এলে আমি সাধ্যমতো বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করব। ক্যাম্পের আয়োজক অ্যাডভোকেট মুরাদ খান বলেন, বরগুনার মানুষের ভালোবাসায় আমি এই শহরে বেড়ে উঠেছি। আমার বাবা মো: মোশাররফ হোসেন খান তিন যুগ পৌর কাউন্সিলর থেকে পৌর বাসির সেবা করেছেন। এই শহরের মানুষের কাছে আমার অনেক ঋণ। তাই মানুষের বিপদের সময়ে পাশে দাঁড়ানোকে আমি দায়িত্ব মনে করি। বিশেষ করে অর্থের অভাবে কোনো অসহায় মানুষ যেন চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, এটাই আমার চাওয়া। আজ যারা এখানে চিকিৎসা নিতে এসেছেন, তাদের মুখে স্বস্তির হাসি দেখাটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। মানুষের জন্য কাজ করতে বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। আন্তরিকতাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সামর্থ্য অনুযায়ী ভবিষ্যতেও অসহায় মানুষের জন্য এমন সেবামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চাই। তিনি বলেন, বরগুনার মানুষের পাশে থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। দল-মত, শ্রেণি-পেশার ভেদাভেদ না করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হবে আমার মূল লক্ষ্য। মানুষের ভালোবাসা ও দোয়া নিয়ে যতদিন পারি, ততদিন সেবামূলক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে চাই।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সিএমপির বন্দর বিভাগের উদ্যোগে হারানো ও চুরি হওয়া ১২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার; প্রকৃত মালিকদের নিকট হস্তান্তর

বরগুনায় বিনামূল্যে চোখ দেখালেন ৪ শতাধিক মানুষ

Update Time : ০৫:০৫:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
Print

জয়নাল আবেদীন রাজু। স্টাফ রিপোর্টার চোখে পানি পড়া, দৃষ্টিতে ঝাপসাভাব কিংবা দীর্ঘদিনের নানা সমস্যা থাকলেও অর্থসংকটে চিকিৎসকের কাছে যেতে পারছিলেন না বরগুনার অনেক মানুষ। তাদের জন্য একদিনের বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন চার শতাধিক নারী-পুরুষ। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ বিনা খরচে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা। শনিবার (২৯ আগস্ট) বরগুনা পৌর শহরের আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ক্যাম্পটি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত রোগীদের চোখ পরীক্ষা ও চিকিৎসা দেন বরিশাল আধুনিক চক্ষু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ও চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. বাসার মাহমুদ। অসহায়, দরিদ্র, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী মানুষের চিকিৎসার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ক্যাম্পটির আয়োজন করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুরাদ খান। ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. হুমায়ূন শাহীন খান।  এ সময় বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান, বরিশাল আধুনিক চক্ষু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. বাসার মাহমুদ, সাংবাদিক আসাদ তালুকদারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। চিকিৎসা নিতে আসা ইউনুস ফিটার জানান, দীর্ঘদিন ধরে তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছিল এবং দৃষ্টিশক্তিও কমে গিয়েছিল। কিন্তু অর্থের অভাবে এতদিন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেননি। তিনি বলেন, “টাকার অভাবে এতদিন ডাক্তার দেখাতে পারিনি। এখানে এসে বিনামূল্যে চোখ দেখাতে পেরেছি। এতে আমি খুব খুশি। যারা এই আয়োজন করেছেন, আল্লাহ তাদের ভালো রাখুন।” ক্যাম্পে আসা অন্য রোগীরাও জানান, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে চোখের বিভিন্ন সমস্যা থাকলেও তারা চিকিৎসা করাতে পারেননি। বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ায় আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা। চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. বাসার মাহমুদ বলেন, আমি পেশায় চিকিৎসক, তবে তার আগে একজন মানুষ। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব। অর্থের অভাবে যারা চোখের চিকিৎসা করাতে পারছেন না, তারা বরিশালে আমার কাছে এলে আমি সাধ্যমতো বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করব। ক্যাম্পের আয়োজক অ্যাডভোকেট মুরাদ খান বলেন, বরগুনার মানুষের ভালোবাসায় আমি এই শহরে বেড়ে উঠেছি। আমার বাবা মো: মোশাররফ হোসেন খান তিন যুগ পৌর কাউন্সিলর থেকে পৌর বাসির সেবা করেছেন। এই শহরের মানুষের কাছে আমার অনেক ঋণ। তাই মানুষের বিপদের সময়ে পাশে দাঁড়ানোকে আমি দায়িত্ব মনে করি। বিশেষ করে অর্থের অভাবে কোনো অসহায় মানুষ যেন চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, এটাই আমার চাওয়া। আজ যারা এখানে চিকিৎসা নিতে এসেছেন, তাদের মুখে স্বস্তির হাসি দেখাটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। মানুষের জন্য কাজ করতে বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। আন্তরিকতাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সামর্থ্য অনুযায়ী ভবিষ্যতেও অসহায় মানুষের জন্য এমন সেবামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চাই। তিনি বলেন, বরগুনার মানুষের পাশে থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। দল-মত, শ্রেণি-পেশার ভেদাভেদ না করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হবে আমার মূল লক্ষ্য। মানুষের ভালোবাসা ও দোয়া নিয়ে যতদিন পারি, ততদিন সেবামূলক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে চাই।