ঢাকা ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমতলীতে নদীভাঙন রোধের ব্লকে ব্যবহৃত পাথর

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:০৮:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • ২৯ Time View
Print

জয়নাল আবেদীন রাজু। স্টাফ রিপোর্টার বরগুনার পায়রা নদীর ভয়াবহ ভাঙন ঠেকাতে নির্মাণাধীন ব্লকে নতুন পাথরের পরিবর্তে আগে ব্যবহৃত সিমেন্টমাখা পাথর ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীতীর সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিম্নমানের বা ব্যবহৃত পাথর ব্যবহার করা হলে নির্মিত ব্লকের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। স্থানীয়দের দাবি, বরগুনার আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২০ নম্বর প্যাকেজের আওতায় ব্লক নির্মাণের জন্য সিলেট থেকে আনা প্রায় ১২ হাজার ঘনফুট পাথরের অধিকাংশের গায়ে আগের ব্যবহারের সিমেন্টের আস্তরণ রয়েছে।  এসব পাথর সরিয়ে মানসম্মত নতুন পাথর দিয়ে ব্লক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা। জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পায়রা নদীর ভাঙন রোধে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৪/বি পোল্ডারের আওতায় প্রায় ৩ হাজার মিটার এলাকায় ব্লক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কাজটি ১৩টি প্যাকেজে ভাগ করে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আমতলীর আড়পাঙ্গাশিয়া এলাকার ২০ নম্বর প্যাকেজে ২৫০ মিটার নদীতীর সংরক্ষণে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্লক নির্মাণের কাজ পেয়েছে অ্যাডনোচ বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৫ আগস্ট সিলেট থেকে জাহাজে করে প্রায় ১২ হাজার ঘনফুট পাথর আড়পাঙ্গাশিয়া এলাকায় আনা হয়। পরে নদী তীরের পাশে সেগুলো স্তূপ করে রাখা হয়। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে ওই এলাকায় পাথরের স্তূপ দেখা যায়। স্তূপে থাকা বেশ কিছু পাথরের গায়ে সিমেন্ট জাতীয় আস্তরণও দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা রাকিব, আবুল হোসেন ও মিজান অভিযোগ করেন, আনা পাথরগুলো নতুন নয়। এর আগে অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করার প্রস্তুতি নিয়েছিল। হয়তো সেখানে নিম্মমানের কাজ করতে পারেনি। সেই পাথর ঠিকাদার এখানে কাজ করার জন্য এনেছেন। পাথরের গায়ে সিমেন্টের আস্তরণ থাকায় বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, ব্যবহৃত পাথর দিয়ে ব্লক নির্মাণ করা হলে নদীর প্রবল স্রোত ও ঢেউয়ের চাপ মোকাবিলায় সেগুলোর স্থায়িত্ব কমে যেতে পারে। তাই পরীক্ষার মাধ্যমে মান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এসব পাথর দিয়ে ব্লক নির্মাণ বন্ধ রাখার দাবি জানান তারা। এ বিষয়ে অ্যাডনোচ বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেডের ম্যানেজার মো. বদিরুজ্জামান বলেন, এই পাথরে কী ত্রুটি আছে, তা পানি উন্নয়ন বোর্ড বলতে পারবেন। তবে অধিকাংশ পাথরে সিমেন্ট লাগানো আছে এটি ঠিক। বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যসহকারী মো. আশিকুর রহমান বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন জাহাজ থেকে পাথর খালাসের ভিডিও আমাকে পাঠিয়েছেন। তবে পাথরগুলোর বর্তমান মান সম্পর্কে আমি অবগত নই।  তিনি বলেন, অ্যাডনোচ বাংলাদেশ কোম্পানি গত দুই বছরে প্রায় ২০ হাজার ব্লক নির্মাণ করেছে। এখনো আরো অনেক ব্লক নির্মাণের কাজ বাকি রয়েছে। তখন কোনো অভিযোগ উঠেনি। অভিযোগের বিষয়ে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হান্নান প্রধান গণমাধ্যমকে বলেন, ব্লক নির্মাণের জন্য পাথর আনার বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। পাথরগুলো ল্যাবরেটরি পরীক্ষার জন্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় পাথরের গুণগত মান নির্ধারিত মানদণ্ডে না থাকলে ওই পাথর দিয়ে ব্লক নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সিএমপির বন্দর বিভাগের উদ্যোগে হারানো ও চুরি হওয়া ১২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার; প্রকৃত মালিকদের নিকট হস্তান্তর

আমতলীতে নদীভাঙন রোধের ব্লকে ব্যবহৃত পাথর

Update Time : ০৫:০৮:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
Print

জয়নাল আবেদীন রাজু। স্টাফ রিপোর্টার বরগুনার পায়রা নদীর ভয়াবহ ভাঙন ঠেকাতে নির্মাণাধীন ব্লকে নতুন পাথরের পরিবর্তে আগে ব্যবহৃত সিমেন্টমাখা পাথর ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীতীর সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিম্নমানের বা ব্যবহৃত পাথর ব্যবহার করা হলে নির্মিত ব্লকের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। স্থানীয়দের দাবি, বরগুনার আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২০ নম্বর প্যাকেজের আওতায় ব্লক নির্মাণের জন্য সিলেট থেকে আনা প্রায় ১২ হাজার ঘনফুট পাথরের অধিকাংশের গায়ে আগের ব্যবহারের সিমেন্টের আস্তরণ রয়েছে।  এসব পাথর সরিয়ে মানসম্মত নতুন পাথর দিয়ে ব্লক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা। জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পায়রা নদীর ভাঙন রোধে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৪/বি পোল্ডারের আওতায় প্রায় ৩ হাজার মিটার এলাকায় ব্লক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কাজটি ১৩টি প্যাকেজে ভাগ করে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আমতলীর আড়পাঙ্গাশিয়া এলাকার ২০ নম্বর প্যাকেজে ২৫০ মিটার নদীতীর সংরক্ষণে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্লক নির্মাণের কাজ পেয়েছে অ্যাডনোচ বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৫ আগস্ট সিলেট থেকে জাহাজে করে প্রায় ১২ হাজার ঘনফুট পাথর আড়পাঙ্গাশিয়া এলাকায় আনা হয়। পরে নদী তীরের পাশে সেগুলো স্তূপ করে রাখা হয়। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে ওই এলাকায় পাথরের স্তূপ দেখা যায়। স্তূপে থাকা বেশ কিছু পাথরের গায়ে সিমেন্ট জাতীয় আস্তরণও দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা রাকিব, আবুল হোসেন ও মিজান অভিযোগ করেন, আনা পাথরগুলো নতুন নয়। এর আগে অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করার প্রস্তুতি নিয়েছিল। হয়তো সেখানে নিম্মমানের কাজ করতে পারেনি। সেই পাথর ঠিকাদার এখানে কাজ করার জন্য এনেছেন। পাথরের গায়ে সিমেন্টের আস্তরণ থাকায় বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, ব্যবহৃত পাথর দিয়ে ব্লক নির্মাণ করা হলে নদীর প্রবল স্রোত ও ঢেউয়ের চাপ মোকাবিলায় সেগুলোর স্থায়িত্ব কমে যেতে পারে। তাই পরীক্ষার মাধ্যমে মান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এসব পাথর দিয়ে ব্লক নির্মাণ বন্ধ রাখার দাবি জানান তারা। এ বিষয়ে অ্যাডনোচ বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেডের ম্যানেজার মো. বদিরুজ্জামান বলেন, এই পাথরে কী ত্রুটি আছে, তা পানি উন্নয়ন বোর্ড বলতে পারবেন। তবে অধিকাংশ পাথরে সিমেন্ট লাগানো আছে এটি ঠিক। বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যসহকারী মো. আশিকুর রহমান বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন জাহাজ থেকে পাথর খালাসের ভিডিও আমাকে পাঠিয়েছেন। তবে পাথরগুলোর বর্তমান মান সম্পর্কে আমি অবগত নই।  তিনি বলেন, অ্যাডনোচ বাংলাদেশ কোম্পানি গত দুই বছরে প্রায় ২০ হাজার ব্লক নির্মাণ করেছে। এখনো আরো অনেক ব্লক নির্মাণের কাজ বাকি রয়েছে। তখন কোনো অভিযোগ উঠেনি। অভিযোগের বিষয়ে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হান্নান প্রধান গণমাধ্যমকে বলেন, ব্লক নির্মাণের জন্য পাথর আনার বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। পাথরগুলো ল্যাবরেটরি পরীক্ষার জন্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় পাথরের গুণগত মান নির্ধারিত মানদণ্ডে না থাকলে ওই পাথর দিয়ে ব্লক নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না।