ঢাকা ১০:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“অবহেলায় ঘুমধুমের একমাত্র পশু হাসপাতাল: সেবা থেকে বঞ্চিত খামারিরা, জায়গা দখলের অভিযোগ”

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৫২:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫৬ Time View
Print

#মিজানুল #বশর নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রতিনিধি, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের একমাত্র পশু হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে চরম অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাবে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এতে পশু চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় খামারি ও গবাদিপশু পালনকারীরা। সেবা না পাওয়ায় ক্রমাগত আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে পশু পালনে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকেই। অন্যদিকে, জরাজীর্ণ এই সুযোগে হাসপাতালের জমি একটি প্রভাবশালী চক্র দখল করার চক্রান্ত করছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘুমধুম ইউনিয়নের দক্ষিণ ঘুমধুম ৪নং ওয়ার্ড হেডম্যান পাড়ায় ইউনিয়নের একমাত্র পশু হাসপাতালটি অবস্থিত। পুরো ইউনিয়নের গবাদিপশুর চিকিৎসাসেবার জন্য এই হাসপাতালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বছরের পর বছর ধরে এটি অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে আছে। নিয়মিত তদারকি ও চিকিৎসাসেবা চালু না থাকায় ভবনটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত। ফলে পশু অসুস্থ হলে জরুরি চিকিৎসাসেবা পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্থানীয় খামারিদের। হাসপাতালটি কার্যকর না থাকায় সাধারণ খামারিরা সঠিক সময়ে গবাদিপশুর চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন দিতে পারছেন না। এতে প্রায়ই নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে গবাদিপশু মারা যাচ্ছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন খামারি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, হাসপাতালটি থেকে কোনো ধরণের সরকারি সেবা বা ওষুধপত্র পাওয়া যায় না। নিজের কষ্টের টাকা খরচ করে দূর-দূরান্ত থেকে কিংবা হাতুড়ে ডাক্তার এনে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে পশু খামার গড়তে অনেকে সাহস পাচ্ছেন না, যার ফলে পুরো এলাকায় গবাদিপশু পালনে এক ধরনের অনিহা তৈরি হয়েছে। এদিকে হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকায় এর কোটি টাকার জমি হাতিয়ে নিতে একটি শক্তিশালী ও প্রভাবশালী মহল নানা অপকৌশল অবলম্বন করছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সরকারি এই জায়গাটি আগের তুলনায় এখন অনেকটাই ছোট মনে হচ্ছে। প্রভাবশালী মহলটি কৌশলে সীমানা ঠেলে আস্তে আস্তে হাসপাতালের জমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। স্থানীয় সচেতন জনগণ ও খামারিরা অনতিবিলম্বে সরকারি এই সম্পত্তি থেকে অবৈধ দখলচেষ্টা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে দ্রুত হাসপাতালটি সংস্কার করে প্রয়োজনীয় পশু চিকিৎসক, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করে অবিলম্বে সেবা চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

‘আগে কাজ দেন, তারপর দোকান ভাঙেন

“অবহেলায় ঘুমধুমের একমাত্র পশু হাসপাতাল: সেবা থেকে বঞ্চিত খামারিরা, জায়গা দখলের অভিযোগ”

Update Time : ০৬:৫২:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
Print

#মিজানুল #বশর নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রতিনিধি, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের একমাত্র পশু হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে চরম অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাবে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এতে পশু চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় খামারি ও গবাদিপশু পালনকারীরা। সেবা না পাওয়ায় ক্রমাগত আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে পশু পালনে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকেই। অন্যদিকে, জরাজীর্ণ এই সুযোগে হাসপাতালের জমি একটি প্রভাবশালী চক্র দখল করার চক্রান্ত করছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘুমধুম ইউনিয়নের দক্ষিণ ঘুমধুম ৪নং ওয়ার্ড হেডম্যান পাড়ায় ইউনিয়নের একমাত্র পশু হাসপাতালটি অবস্থিত। পুরো ইউনিয়নের গবাদিপশুর চিকিৎসাসেবার জন্য এই হাসপাতালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বছরের পর বছর ধরে এটি অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে আছে। নিয়মিত তদারকি ও চিকিৎসাসেবা চালু না থাকায় ভবনটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত। ফলে পশু অসুস্থ হলে জরুরি চিকিৎসাসেবা পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্থানীয় খামারিদের। হাসপাতালটি কার্যকর না থাকায় সাধারণ খামারিরা সঠিক সময়ে গবাদিপশুর চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন দিতে পারছেন না। এতে প্রায়ই নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে গবাদিপশু মারা যাচ্ছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন খামারি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, হাসপাতালটি থেকে কোনো ধরণের সরকারি সেবা বা ওষুধপত্র পাওয়া যায় না। নিজের কষ্টের টাকা খরচ করে দূর-দূরান্ত থেকে কিংবা হাতুড়ে ডাক্তার এনে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে পশু খামার গড়তে অনেকে সাহস পাচ্ছেন না, যার ফলে পুরো এলাকায় গবাদিপশু পালনে এক ধরনের অনিহা তৈরি হয়েছে। এদিকে হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকায় এর কোটি টাকার জমি হাতিয়ে নিতে একটি শক্তিশালী ও প্রভাবশালী মহল নানা অপকৌশল অবলম্বন করছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সরকারি এই জায়গাটি আগের তুলনায় এখন অনেকটাই ছোট মনে হচ্ছে। প্রভাবশালী মহলটি কৌশলে সীমানা ঠেলে আস্তে আস্তে হাসপাতালের জমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। স্থানীয় সচেতন জনগণ ও খামারিরা অনতিবিলম্বে সরকারি এই সম্পত্তি থেকে অবৈধ দখলচেষ্টা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে দ্রুত হাসপাতালটি সংস্কার করে প্রয়োজনীয় পশু চিকিৎসক, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করে অবিলম্বে সেবা চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।