ঢাকা ০৯:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেসক্লাবের ‘জগৎশ্রী সম্মান’ পেল কলকাতার স্বাধীনতা দিবস উৎসব উদযাপন সমিতি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৪৯:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৩ Time View
Print

।  বিশেষ প্রতিনিধি :  মহানায়ক উত্তম কুমারের স্মৃতি ও বাংলা চলচ্চিত্রের গৌরবময় ঐতিহ্যকে সামনে রেখে বিশেষ ভাবনায় সেজে উঠেছিল কলকাতার কাঁকুড়গাছি ও সিআইটি মোড়ের সংযোগস্থলে অবস্থিত স্বাধীনতা দিবস উৎসব উদযাপন সমিতির পুজোমণ্ডপ। তাদের এই ব্যতিক্রমী ভাবনার স্বীকৃতিস্বরূপ, ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেসক্লাব ও দৈনিক দুরন্ত বাংলার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সম্মাননা অনুষ্ঠানে সেরা ভাবনা ও প্রতিমার জন্য ‘জগৎশ্রী সম্মান’ প্রদান করা হয় স্বাধীনতা দিবস উৎসব উদযাপন সমিতিকে। এবারের পুজোর মূল ভাবনা ছিল ‘চিরউত্তম’। মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবার্ষিকীকে স্মরণে রেখে তাঁর অভিনীত বিভিন্ন চলচ্চিত্রের স্মৃতি ও জনপ্রিয়তাকে মণ্ডপের ভাবনায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন পুজো উদ্যোক্তারা। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে উত্তম কুমারের অবদান আজও অমলিন। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও কালজয়ী সৃষ্টির প্রতি মানুষের ভালোবাসা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অটুট রয়েছে। সেই ভালোবাসা ও স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই ছিল উদ্যোক্তাদের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেসক্লাব ও দৈনিক দুরন্ত বাংলা বেশ কয়েক দিন ধরে কলকাতার বিভিন্ন পুজোমণ্ডপ পরিদর্শন ও সংবাদ কভারেজের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পুজো কমিটিগুলিকে সম্মানিত করে আসছে। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই স্বাধীনতা দিবস উৎসব উদযাপন সমিতিকে তাদের সৃজনশীল ভাবনা ও প্রতিমার জন্য এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আওরঙ্গজেব কামাল। তিনি বলেন, “ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে স্বাধীন সাংবাদিকতার মাধ্যমে আমরা বিশ্বব্যাপী মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছি। শিল্প, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার যে কোনো ইতিবাচক উদ্যোগকে আমরা সবসময় উৎসাহিত করি। মহানায়ক উত্তম কুমারের স্মৃতিকে ধারণ করে স্বাধীনতা দিবস উৎসব উদযাপন সমিতির এই অসাধারণ আয়োজন বাংলা সংস্কৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ। তাঁদের এই সৃজনশীল প্রয়াসকে সম্মানিত করতে পেরে আমরা গর্বিত।” সম্মাননা গ্রহণের পর স্বাধীনতা দিবস উৎসব উদযাপন সমিতির সদস্য ও কর্মকর্তারা তাঁদের প্রতিক্রিয়ায় জানান, এই স্বীকৃতি পেয়ে তাঁরা অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত। তাঁদের কথায়, মহানায়ক উত্তম কুমারকে যেন বাঙালি কখনও ভুলে না যায় এবং তাঁর অভিনয় ও অবদান যেন মানুষের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান থাকে, সেই লক্ষ্যেই এবারের ভাবনাকে সাজানো হয়েছে। এ বিষয়ে ওয়াল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেসক্লাবের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সমরেশ রায় বলেন, ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেসক্লাব একটি সাংবাদিক সংগঠন নয়। এটা সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের একটি সংগঠন  এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করা একটি সংগঠন। সংগঠনের সভাপতি আওরঙ্গজেব কামালের নেতৃত্বে  আমরা বিশ্বব্যাপী  সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করছি। আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। উদ্যোক্তারা আরও বলেন, উত্তম কুমার তাঁদের কাছে শুধু একজন অভিনেতা নন, তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের এক চিরস্মরণীয় অধ্যায়। তাঁর অভিনীত বিভিন্ন চলচ্চিত্রের অনুপ্রেরণাকে ভাবনার মধ্য দিয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তাঁরা। তাঁদের প্রত্যাশা, উত্তম কুমার চিরকাল ‘চিরউত্তম’ হয়েই বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন। এই সম্মাননা প্রদানের জন্য তাঁরা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেসক্লাব ও দৈনিক দুরন্ত বাংলার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি পুজোপ্রেমী, দর্শক ও শুভানুধ্যায়ীদেরও ধন্যবাদ জানান। আগামী দিনে আরও নতুন ও সৃজনশীল ভাবনার মাধ্যমে দর্শকদের সামনে ব্যতিক্রমী উপস্থাপনা তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা। বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি মহানায়ক উত্তম কুমারের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই ভাবনা এবং তার স্বীকৃতি কলকাতার পুজো সংস্কৃতিতে শিল্প, ঐতিহ্য ও আবেগের এক সুন্দর মেলবন্ধন হিসেবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

‘আগে কাজ দেন, তারপর দোকান ভাঙেন

ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেসক্লাবের ‘জগৎশ্রী সম্মান’ পেল কলকাতার স্বাধীনতা দিবস উৎসব উদযাপন সমিতি

Update Time : ০৬:৪৯:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
Print

।  বিশেষ প্রতিনিধি :  মহানায়ক উত্তম কুমারের স্মৃতি ও বাংলা চলচ্চিত্রের গৌরবময় ঐতিহ্যকে সামনে রেখে বিশেষ ভাবনায় সেজে উঠেছিল কলকাতার কাঁকুড়গাছি ও সিআইটি মোড়ের সংযোগস্থলে অবস্থিত স্বাধীনতা দিবস উৎসব উদযাপন সমিতির পুজোমণ্ডপ। তাদের এই ব্যতিক্রমী ভাবনার স্বীকৃতিস্বরূপ, ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেসক্লাব ও দৈনিক দুরন্ত বাংলার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সম্মাননা অনুষ্ঠানে সেরা ভাবনা ও প্রতিমার জন্য ‘জগৎশ্রী সম্মান’ প্রদান করা হয় স্বাধীনতা দিবস উৎসব উদযাপন সমিতিকে। এবারের পুজোর মূল ভাবনা ছিল ‘চিরউত্তম’। মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবার্ষিকীকে স্মরণে রেখে তাঁর অভিনীত বিভিন্ন চলচ্চিত্রের স্মৃতি ও জনপ্রিয়তাকে মণ্ডপের ভাবনায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন পুজো উদ্যোক্তারা। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে উত্তম কুমারের অবদান আজও অমলিন। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও কালজয়ী সৃষ্টির প্রতি মানুষের ভালোবাসা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অটুট রয়েছে। সেই ভালোবাসা ও স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই ছিল উদ্যোক্তাদের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেসক্লাব ও দৈনিক দুরন্ত বাংলা বেশ কয়েক দিন ধরে কলকাতার বিভিন্ন পুজোমণ্ডপ পরিদর্শন ও সংবাদ কভারেজের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পুজো কমিটিগুলিকে সম্মানিত করে আসছে। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই স্বাধীনতা দিবস উৎসব উদযাপন সমিতিকে তাদের সৃজনশীল ভাবনা ও প্রতিমার জন্য এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আওরঙ্গজেব কামাল। তিনি বলেন, “ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে স্বাধীন সাংবাদিকতার মাধ্যমে আমরা বিশ্বব্যাপী মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছি। শিল্প, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার যে কোনো ইতিবাচক উদ্যোগকে আমরা সবসময় উৎসাহিত করি। মহানায়ক উত্তম কুমারের স্মৃতিকে ধারণ করে স্বাধীনতা দিবস উৎসব উদযাপন সমিতির এই অসাধারণ আয়োজন বাংলা সংস্কৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ। তাঁদের এই সৃজনশীল প্রয়াসকে সম্মানিত করতে পেরে আমরা গর্বিত।” সম্মাননা গ্রহণের পর স্বাধীনতা দিবস উৎসব উদযাপন সমিতির সদস্য ও কর্মকর্তারা তাঁদের প্রতিক্রিয়ায় জানান, এই স্বীকৃতি পেয়ে তাঁরা অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত। তাঁদের কথায়, মহানায়ক উত্তম কুমারকে যেন বাঙালি কখনও ভুলে না যায় এবং তাঁর অভিনয় ও অবদান যেন মানুষের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান থাকে, সেই লক্ষ্যেই এবারের ভাবনাকে সাজানো হয়েছে। এ বিষয়ে ওয়াল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেসক্লাবের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সমরেশ রায় বলেন, ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেসক্লাব একটি সাংবাদিক সংগঠন নয়। এটা সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের একটি সংগঠন  এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করা একটি সংগঠন। সংগঠনের সভাপতি আওরঙ্গজেব কামালের নেতৃত্বে  আমরা বিশ্বব্যাপী  সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করছি। আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। উদ্যোক্তারা আরও বলেন, উত্তম কুমার তাঁদের কাছে শুধু একজন অভিনেতা নন, তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের এক চিরস্মরণীয় অধ্যায়। তাঁর অভিনীত বিভিন্ন চলচ্চিত্রের অনুপ্রেরণাকে ভাবনার মধ্য দিয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তাঁরা। তাঁদের প্রত্যাশা, উত্তম কুমার চিরকাল ‘চিরউত্তম’ হয়েই বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন। এই সম্মাননা প্রদানের জন্য তাঁরা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেসক্লাব ও দৈনিক দুরন্ত বাংলার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি পুজোপ্রেমী, দর্শক ও শুভানুধ্যায়ীদেরও ধন্যবাদ জানান। আগামী দিনে আরও নতুন ও সৃজনশীল ভাবনার মাধ্যমে দর্শকদের সামনে ব্যতিক্রমী উপস্থাপনা তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা। বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি মহানায়ক উত্তম কুমারের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই ভাবনা এবং তার স্বীকৃতি কলকাতার পুজো সংস্কৃতিতে শিল্প, ঐতিহ্য ও আবেগের এক সুন্দর মেলবন্ধন হিসেবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।