ঢাকা ০৪:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরাইল থানায় ওসি-রুমিন ফারহানার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, আপনি বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন, মন্তব্যে তোলপাড়

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪২:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩৪ Time View
Print

। প্রতিবেদন: মোহাম্মদ রাহিম বিশেষ প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে সরাইল থানার ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। থানার ভেতরে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও রাজনৈতিক অতীত নিয়ে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে আলোচনা। ঘটনার সময় ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, দুর্নীতি, মাটি ও বালুর ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ তোলেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। একপর্যায়ে ওসিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন।’ তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া। জানা গেছে, পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় নিরাপত্তা না দেওয়া এবং থানার বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার রাতে সরাইল থানায় যান রুমিন ফারহানা। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি ওসির বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করেন। তবে অভিযোগটি অস্বীকার করে ওসি দাবি করেন, ওই ব্যক্তিকে শিখিয়ে থানায় আনা হয়েছে। এ নিয়ে সংসদ সদস্য ও ওসির মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওসির রাজনৈতিক অতীত নিয়ে মন্তব্য করেন রুমিন ফারহানা। অন্যদিকে, শত শত লোক নিয়ে থানায় এসে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার অভিযোগ তোলেন ওসি। তাঁর দাবি, নিজের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন। অপরদিকে, রুমিন ফারহানার দাবি, ওসির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সঙ্গে ওসি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে প্রশ্ন উঠেছে, ওসির বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ গ্রহণ, চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগের সত্যতা কতটুকু? এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। সরাইল থানার এই ঘটনাকে ঘিরে এখন আলোচনার কেন্দ্রে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হামলা বন্ধের আহ্বান বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের

সরাইল থানায় ওসি-রুমিন ফারহানার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, আপনি বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন, মন্তব্যে তোলপাড়

Update Time : ০১:৪২:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
Print

। প্রতিবেদন: মোহাম্মদ রাহিম বিশেষ প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে সরাইল থানার ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। থানার ভেতরে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও রাজনৈতিক অতীত নিয়ে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে আলোচনা। ঘটনার সময় ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, দুর্নীতি, মাটি ও বালুর ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ তোলেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। একপর্যায়ে ওসিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন।’ তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া। জানা গেছে, পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় নিরাপত্তা না দেওয়া এবং থানার বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার রাতে সরাইল থানায় যান রুমিন ফারহানা। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি ওসির বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করেন। তবে অভিযোগটি অস্বীকার করে ওসি দাবি করেন, ওই ব্যক্তিকে শিখিয়ে থানায় আনা হয়েছে। এ নিয়ে সংসদ সদস্য ও ওসির মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওসির রাজনৈতিক অতীত নিয়ে মন্তব্য করেন রুমিন ফারহানা। অন্যদিকে, শত শত লোক নিয়ে থানায় এসে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার অভিযোগ তোলেন ওসি। তাঁর দাবি, নিজের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন। অপরদিকে, রুমিন ফারহানার দাবি, ওসির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সঙ্গে ওসি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে প্রশ্ন উঠেছে, ওসির বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ গ্রহণ, চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগের সত্যতা কতটুকু? এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। সরাইল থানার এই ঘটনাকে ঘিরে এখন আলোচনার কেন্দ্রে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।