ঢাকা ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টঙ্গীতে সাংবাদিক মহিউদ্দিন রিপনকে অপহরণ, নির্যাতন ও এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ: বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:২৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৪ Time View
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় দৈনিক কালবেলার গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মহিউদ্দিন রিপনকে অপহরণ, শারীরিক নির্যাতন, এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C.)। সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন গণমাধ্যমকর্মীকে অপহরণ, নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো গুরুতর অভিযোগ স্বাধীন সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের নিরাপত্তা এবং আইনের শাসনের জন্য উদ্বেগজনক। প্রাপ্ত অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে গাজীপুরের টঙ্গী সেনাকল্যাণ শপিং কমপ্লেক্সের সামনে থেকে সাংবাদিক মহিউদ্দিন রিপনকে অপহরণ করা হয়। ভুক্তভোগী সাংবাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী, সংবাদ সংগ্রহের কাজে টঙ্গী সেনাকল্যাণ শপিং কমপ্লেক্সের সামনে শাহ সিমেন্টের ম্যানেজার আসিফ মাহমুদের সঙ্গে কাজ শেষে অবস্থান করছিলেন তিনি। এ সময় মোটরসাইকেলসহ ৪০ থেকে ৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁর চোখ-মুখ বেঁধে জোরপূর্বক একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে তাঁর কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। পাশাপাশি মাদকসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে তাঁকে অন্য একটি স্থানে নিয়ে এক নারীর সঙ্গে জোরপূর্বক আপত্তিকর ও নগ্ন ভিডিও ধারণ করা হয়। ভবিষ্যতে হাজীর মাজার বস্তি এলাকার মাদক ও সন্ত্রাসসংক্রান্ত বিষয়ে ফেসবুক লাইভ বা সংবাদ প্রকাশ করলে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা নির্যাতনের একপর্যায়ে সাংবাদিক মহিউদ্দিন রিপন জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাঁকে অজ্ঞাত স্থানে ফেলে রেখে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর জ্ঞান ফিরে আসে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে শাহ সিমেন্টের জেনারেল ম্যানেজার আসিফ মাহমুদ জানান, তিনি সাংবাদিক রিপনের সঙ্গে অবস্থানকালে একদল অপরিচিত ব্যক্তি তাঁকে জোরপূর্বক অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ঘটনার বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে।” বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি খান সেলিম রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার এক প্রতিবাদী বক্তব্যে সাংবাদিক মহিউদ্দিন রিপনের ওপর হামলা, অপহরণ, নির্যাতন ও চাঁদা দাবির অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি, মাদক ও অপরাধের চিত্র তুলে ধরে জনস্বার্থে কাজ করেন। সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে অপহরণ, নির্যাতন, চাঁদা দাবির মাধ্যমে হয়রানি কিংবা ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের অপরাধের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তাঁরা আরও বলেন, “সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। একজন সাংবাদিকের ওপর এমন গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ওঠার পরও যদি অপরাধীরা আইনের আওতার বাইরে থাকে, তাহলে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও অপরাধবিরোধী সংবাদ প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হবে। আমরা অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, ভুক্তভোগীর চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছি।” বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাংবাদিক মহিউদ্দিন রিপনের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ধারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা আপত্তিকর ভিডিও যেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন, হুমকি ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে সংগঠনটি সবসময় সোচ্চার থাকবে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ইয়ুথ টেলিভিশনের ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছা বাণী।

টঙ্গীতে সাংবাদিক মহিউদ্দিন রিপনকে অপহরণ, নির্যাতন ও এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ: বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

Update Time : ১২:২৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় দৈনিক কালবেলার গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মহিউদ্দিন রিপনকে অপহরণ, শারীরিক নির্যাতন, এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C.)। সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন গণমাধ্যমকর্মীকে অপহরণ, নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো গুরুতর অভিযোগ স্বাধীন সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের নিরাপত্তা এবং আইনের শাসনের জন্য উদ্বেগজনক। প্রাপ্ত অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে গাজীপুরের টঙ্গী সেনাকল্যাণ শপিং কমপ্লেক্সের সামনে থেকে সাংবাদিক মহিউদ্দিন রিপনকে অপহরণ করা হয়। ভুক্তভোগী সাংবাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী, সংবাদ সংগ্রহের কাজে টঙ্গী সেনাকল্যাণ শপিং কমপ্লেক্সের সামনে শাহ সিমেন্টের ম্যানেজার আসিফ মাহমুদের সঙ্গে কাজ শেষে অবস্থান করছিলেন তিনি। এ সময় মোটরসাইকেলসহ ৪০ থেকে ৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁর চোখ-মুখ বেঁধে জোরপূর্বক একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে তাঁর কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। পাশাপাশি মাদকসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে তাঁকে অন্য একটি স্থানে নিয়ে এক নারীর সঙ্গে জোরপূর্বক আপত্তিকর ও নগ্ন ভিডিও ধারণ করা হয়। ভবিষ্যতে হাজীর মাজার বস্তি এলাকার মাদক ও সন্ত্রাসসংক্রান্ত বিষয়ে ফেসবুক লাইভ বা সংবাদ প্রকাশ করলে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা নির্যাতনের একপর্যায়ে সাংবাদিক মহিউদ্দিন রিপন জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাঁকে অজ্ঞাত স্থানে ফেলে রেখে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর জ্ঞান ফিরে আসে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে শাহ সিমেন্টের জেনারেল ম্যানেজার আসিফ মাহমুদ জানান, তিনি সাংবাদিক রিপনের সঙ্গে অবস্থানকালে একদল অপরিচিত ব্যক্তি তাঁকে জোরপূর্বক অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ঘটনার বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে।” বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি খান সেলিম রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার এক প্রতিবাদী বক্তব্যে সাংবাদিক মহিউদ্দিন রিপনের ওপর হামলা, অপহরণ, নির্যাতন ও চাঁদা দাবির অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি, মাদক ও অপরাধের চিত্র তুলে ধরে জনস্বার্থে কাজ করেন। সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে অপহরণ, নির্যাতন, চাঁদা দাবির মাধ্যমে হয়রানি কিংবা ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের অপরাধের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তাঁরা আরও বলেন, “সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। একজন সাংবাদিকের ওপর এমন গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ওঠার পরও যদি অপরাধীরা আইনের আওতার বাইরে থাকে, তাহলে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও অপরাধবিরোধী সংবাদ প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হবে। আমরা অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, ভুক্তভোগীর চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছি।” বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাংবাদিক মহিউদ্দিন রিপনের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ধারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা আপত্তিকর ভিডিও যেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন, হুমকি ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে সংগঠনটি সবসময় সোচ্চার থাকবে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।