ঢাকা ০৯:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও আলো পায়নি মনপুরা, দেড় লাখ মানুষের ভরসা জেনারেটর, ২৪ ঘণ্টার প্রতিশ্রুতির বিপরীতে মিলছে মাত্র দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ, জেনারেটরের বরাদ্দকৃত জ্বালানি নিয়েও তেলেসমাতি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৩২:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৯ Time View
Print

মোঃ শাকিল খান রাজু সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও বিদ্যুতের আলোয় পুরোপুরি আলোকিত হয়নি ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরা। দেড় লাখের বেশি মানুষের এই উপজেলায় এখনো পৌঁছেনি জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ। জেনারেটরের মাধ্যমে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে এলাকাভিত্তিক ভাগ করে দৈনিক প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সরকারের আমলে মনপুরায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রত্যাশার বিপরীতে বর্তমানে মাত্র দুই ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে গ্রাহকদের মধ্যে। বিদ্যুৎ না পেলেও নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের। মনপুরা বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ৬৫০ কেভিএ, ৫০০ কেভিএ ও ৫০০ কেভিএ ক্ষমতার তিনটি জেনারেটর রয়েছে। এর মধ্যে একটি বর্তমানে বিকল। সচল দুটি জেনারেটর দিয়ে পার্টটাইম ও এলাকাভিত্তিক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এর আগে ১ হাজার কেভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। সেটিও বিকল হয়ে যাওয়ার পর সংকট আরও তীব্র হয়। পরে পুরোনো তিনটি জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে এর একটি বিকল থাকায় বর্তমানে সচল দুটি মেশিনের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য জ্বালানি বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ গ্রাহক ও ব্যবসায়ী মো. সুমন, মো. রফিক, মুজাম্মেল ও আব্দুল কাদির বলেন, আমরা ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাই না। অথচ প্রতিমাসে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হয়। বর্তমানে রাতে প্রায় দুই ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ পাই। বিদ্যুতের অভাবে দোকানের ফ্রিজসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে। তাদের প্রশ্ন, আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য জ্বালানি বরাদ্দ থাকলে বাস্তবে কেন মাত্র দুই ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে। বাকি জ্বালানি কোথায় যাচ্ছে, সে বিষয়ে স্বচ্ছতা প্রয়োজন বলেও দাবি করেন তারা। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব না হলে বরাদ্দের অব্যবহৃত জ্বালানি ফেরত দেওয়া হয় অথবা পরবর্তী মাসের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় কপি বাতি, হারিকেন ও সৌরবাতির আলোয় পড়াশোনা করতে হচ্ছে তাদের। হাজিরহাট সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারিয়া আক্তার সানিয়া বলেন, কপি বাতির আলোতে খুব কষ্ট করে পড়ালেখা করছি। আমরা মনপুরায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ চাই। একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. শাফায়াত রহমান বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে হারিকেনের আলোয় পড়াশোনা করতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, বিদ্যুতের অভাবে আমাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। তারা রাতে ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। আমরা দ্রুত এই অবস্থার পরিবর্তন চাই এবং জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ চাই। বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানের ফ্রিজ, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। সন্ধ্যার পর অনেক দোকানে সৌরবাতি মোম বাতি ও চার্জার লাইটের সাহায্যে বেচাকেনা করতে দেখা যায়। বিদ্যুৎ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে সরকারি দপ্তরের কার্যক্রমও। মনপুরা বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের তিনটি মেশিনের একটি নষ্ট হয়ে গেছে। দুটি মেশিন দিয়ে পার্টটাইম ও এলাকাভিত্তিক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। নষ্ট মেশিনটি মেরামতের কাজ চলছে। জ্বালানি বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বিদ্যুৎ দিতে না পারলে বরাদ্দের জ্বালানি অব্যবহৃত থাকে। সেটি ফেরত দিতে হয় অথবা পরবর্তী মাসের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। তিনি আরও বলেন, জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহ ছাড়া মনপুরার চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব নয়। মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবিব বলেন, একটি উপজেলার উন্নয়ন অনেকাংশে বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করে। বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের অফিসের কার্যক্রম চালাতেও সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, মনপুরা-চরফ্যাশনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নও বিষয়টি নিয়ে চেষ্টা করছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি—জেনারেটরনির্ভর সীমিত বিদ্যুৎ নয়, দ্রুত জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে হবে। তাদের মতে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত না হলে দ্বীপ উপজেলা মনপুরার শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা, প্রশাসন ও সামগ্রিক উন্নয়ন কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগিয়ে নেওয়া কঠিন। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও একটি উপজেলার দেড় লাখের বেশি মানুষকে যদি বিদ্যুতের জন্য জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের আলো মনপুরাবাসীর ঘরে কবে পৌঁছাবে এ প্রশ্নই এখন স্থানীয়দের।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সড়াবাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুস সামাদ মাস্টারের ইন্তেকাল

স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও আলো পায়নি মনপুরা, দেড় লাখ মানুষের ভরসা জেনারেটর, ২৪ ঘণ্টার প্রতিশ্রুতির বিপরীতে মিলছে মাত্র দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ, জেনারেটরের বরাদ্দকৃত জ্বালানি নিয়েও তেলেসমাতি

Update Time : ০৮:৩২:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Print

মোঃ শাকিল খান রাজু সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও বিদ্যুতের আলোয় পুরোপুরি আলোকিত হয়নি ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরা। দেড় লাখের বেশি মানুষের এই উপজেলায় এখনো পৌঁছেনি জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ। জেনারেটরের মাধ্যমে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে এলাকাভিত্তিক ভাগ করে দৈনিক প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সরকারের আমলে মনপুরায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রত্যাশার বিপরীতে বর্তমানে মাত্র দুই ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে গ্রাহকদের মধ্যে। বিদ্যুৎ না পেলেও নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের। মনপুরা বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ৬৫০ কেভিএ, ৫০০ কেভিএ ও ৫০০ কেভিএ ক্ষমতার তিনটি জেনারেটর রয়েছে। এর মধ্যে একটি বর্তমানে বিকল। সচল দুটি জেনারেটর দিয়ে পার্টটাইম ও এলাকাভিত্তিক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এর আগে ১ হাজার কেভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। সেটিও বিকল হয়ে যাওয়ার পর সংকট আরও তীব্র হয়। পরে পুরোনো তিনটি জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে এর একটি বিকল থাকায় বর্তমানে সচল দুটি মেশিনের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য জ্বালানি বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ গ্রাহক ও ব্যবসায়ী মো. সুমন, মো. রফিক, মুজাম্মেল ও আব্দুল কাদির বলেন, আমরা ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাই না। অথচ প্রতিমাসে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হয়। বর্তমানে রাতে প্রায় দুই ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ পাই। বিদ্যুতের অভাবে দোকানের ফ্রিজসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে। তাদের প্রশ্ন, আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য জ্বালানি বরাদ্দ থাকলে বাস্তবে কেন মাত্র দুই ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে। বাকি জ্বালানি কোথায় যাচ্ছে, সে বিষয়ে স্বচ্ছতা প্রয়োজন বলেও দাবি করেন তারা। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব না হলে বরাদ্দের অব্যবহৃত জ্বালানি ফেরত দেওয়া হয় অথবা পরবর্তী মাসের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় কপি বাতি, হারিকেন ও সৌরবাতির আলোয় পড়াশোনা করতে হচ্ছে তাদের। হাজিরহাট সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারিয়া আক্তার সানিয়া বলেন, কপি বাতির আলোতে খুব কষ্ট করে পড়ালেখা করছি। আমরা মনপুরায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ চাই। একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. শাফায়াত রহমান বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে হারিকেনের আলোয় পড়াশোনা করতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, বিদ্যুতের অভাবে আমাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। তারা রাতে ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। আমরা দ্রুত এই অবস্থার পরিবর্তন চাই এবং জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ চাই। বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানের ফ্রিজ, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। সন্ধ্যার পর অনেক দোকানে সৌরবাতি মোম বাতি ও চার্জার লাইটের সাহায্যে বেচাকেনা করতে দেখা যায়। বিদ্যুৎ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে সরকারি দপ্তরের কার্যক্রমও। মনপুরা বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের তিনটি মেশিনের একটি নষ্ট হয়ে গেছে। দুটি মেশিন দিয়ে পার্টটাইম ও এলাকাভিত্তিক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। নষ্ট মেশিনটি মেরামতের কাজ চলছে। জ্বালানি বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বিদ্যুৎ দিতে না পারলে বরাদ্দের জ্বালানি অব্যবহৃত থাকে। সেটি ফেরত দিতে হয় অথবা পরবর্তী মাসের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। তিনি আরও বলেন, জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহ ছাড়া মনপুরার চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব নয়। মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবিব বলেন, একটি উপজেলার উন্নয়ন অনেকাংশে বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করে। বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের অফিসের কার্যক্রম চালাতেও সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, মনপুরা-চরফ্যাশনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নও বিষয়টি নিয়ে চেষ্টা করছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি—জেনারেটরনির্ভর সীমিত বিদ্যুৎ নয়, দ্রুত জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে হবে। তাদের মতে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত না হলে দ্বীপ উপজেলা মনপুরার শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা, প্রশাসন ও সামগ্রিক উন্নয়ন কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগিয়ে নেওয়া কঠিন। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও একটি উপজেলার দেড় লাখের বেশি মানুষকে যদি বিদ্যুতের জন্য জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের আলো মনপুরাবাসীর ঘরে কবে পৌঁছাবে এ প্রশ্নই এখন স্থানীয়দের।