
মোঃ ইমন মিয়া রিপোর্টার রাজধানীর মিরপুরে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা চার্জিং এবং সড়কে অনিয়ম করে চলাচলকারী রিকশার বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে ট্রাফিক পুলিশ ও ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো)। অভিযানে বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ শনাক্ত করে বিচ্ছিন্ন করা হয়। একই সঙ্গে অনুমোদনহীন রিকশা ও অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার চার্জিং ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। এতে একদিকে বিদ্যুৎ চুরির ঘটনা ঘটছে, অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তার ও অপরিকল্পিত সংযোগের কারণে অগ্নিকাণ্ডসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। অভিযানকালে ডেসকোর কর্মকর্তারা বিভিন্ন রিকশা চার্জিং পয়েন্টে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ সংযোগ পরীক্ষা করেন। অবৈধ সংযোগ শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়। পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশ সড়কে চলাচলকারী রিকশা ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের বৈধতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং চলাচলের অনুমোদন যাচাই করে। অভিযান সংশ্লিষ্ট এক ট্রাফিক কর্মকর্তা বলেন, “রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। অনুমোদনহীন ও নিয়মবহির্ভূত যানবাহনের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “সড়কের নির্ধারিত নিয়ম না মেনে যেখানে-সেখানে রিকশা দাঁড় করানো, যাত্রী ওঠানামা এবং চার্জিংয়ের কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। চালক ও মালিকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে এসব অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।” ট্রাফিক পুলিশের আরেক কর্মকর্তা বলেন, “শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। রিকশার মালিক, চালক এবং চার্জিং পয়েন্ট পরিচালনাকারীদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। নগরবাসীর নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক যান চলাচলের স্বার্থে সবাইকে আইন মেনে চলতে হবে।” ডেসকোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, “অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে রিকশা বা অটোরিকশা চার্জিং করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এতে বিদ্যুৎ চুরি হয় এবং একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট, অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হয়। অবৈধ সংযোগ শনাক্ত হলে তা বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, “বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের বৈধ সংযোগ গ্রহণ করতে হবে এবং অনুমোদিত লোডের মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হবে। কেউ অবৈধভাবে সংযোগ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করলে তার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।” ডেসকোর আরেক কর্মকর্তা বলেন, “অনেক সময় দেখা যায়, একটি সংযোগ থেকে একাধিক স্থানে তার টেনে রিকশা চার্জ দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ শুধু বিদ্যুৎ চুরিই নয়, আশপাশের মানুষের জীবন ও সম্পদের জন্যও হুমকি। তাই অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।” স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “আবাসিক এলাকা ও সড়কের পাশে অপরিকল্পিতভাবে রিকশা চার্জিং পয়েন্ট গড়ে ওঠায় যানজট বাড়ছে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক তারগুলো অনেক সময় এলোমেলোভাবে পড়ে থাকে। এতে শিশু ও পথচারীদের জন্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। নিয়মিত অভিযান চালানো হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।” আরেক বাসিন্দা বলেন, “অনেক জায়গায় সন্ধ্যার পর রাস্তার পাশে একসঙ্গে অনেক রিকশা চার্জে দেওয়া হয়। এতে রাস্তা সংকুচিত হয়ে যায় এবং স্বাভাবিক চলাচলে সমস্যা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত নিরাপদ ও অনুমোদিত স্থানে রিকশা চার্জিংয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।” রিকশাচালকদের পক্ষ থেকেও নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। এক রিকশাচালক বলেন, “আমরা চাই বৈধভাবে ব্যবসা করতে। তবে চার্জ দেওয়ার জন্য নিরাপদ ও অনুমোদিত জায়গা থাকলে চালকদেরও সুবিধা হবে। একই সঙ্গে যারা অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।” অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ, বিদ্যুৎ চুরি, অনুমোদনহীন রিকশা এবং অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে অভিযান পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার না করা, বৈধ সংযোগ গ্রহণ, অনুমোদিত স্থানে রিকশা চার্জিং এবং সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ট্রাফিক আইন ও বিধিমালা মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ট্রাফিক পুলিশ ও বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থার সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকলে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার, ঝুঁকিপূর্ণ চার্জিং পয়েন্ট এবং সড়কে রিকশাজনিত অনিয়ম অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
Reporter Name 



















