ঢাকা ০৩:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রায়পুরে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন সুষ্ঠু তদন্ত ও সাংবাদিক হয়রানি বন্ধের দাবি, প্রয়োজনে দেশব্যাপী কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪৭:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ Time View
Print

আবদুর রহমান, রায়পুর উপজেলা প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে মিথ্যা, সাজানো ও হয়রানিমূলক দাবি করে তা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন সাংবাদিকেরা। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর জেলা ও সব উপজেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে দুই ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মামলার শিকার দুই সাংবাদিক হলেন দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকার রায়পুর প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুন ও দৈনিক সবুজ বিপ্লবের সাংবাদিক মিজানুর রহমান। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, যথাযথ তদন্ত ও তথ্যপ্রমাণ যাচাই ছাড়াই দুই সাংবাদিককে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতেই এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। বক্তারা বলেন, সাংবাদিকেরা সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অন্যায়ের চিত্র তুলে ধরেন। অথচ সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় তাঁদের মিথ্যা মামলা, হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের প্রধান সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রফিক এবং সংগঠনটির পরিচালক (আইন ও মানবাধিকার) মোহাম্মদ আলী আবির। মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন, “সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও সাজানো মামলা দিয়ে তাঁদের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একজন সাংবাদিক যখন সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরেন, তখন তাঁকে হয়রানি না করে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অথচ দুঃখজনকভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে একের পর এক হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠছে।” তিনি আরও বলেন, “লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অবিলম্বে তাঁদের মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। একই সঙ্গে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা দায়েরের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।” তিনি বলেন, “সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ কোনো নিরপরাধ সাংবাদিকের ওপর অন্যায়, নির্যাতন কিংবা হয়রানি মেনে নেবে না। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় আমাদের সংগঠন সব সময় সোচ্চার থাকবে। একজন সাংবাদিকের ওপর অন্যায় আঘাত এলে আমরা সম্মিলিতভাবে তার প্রতিবাদ করব। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা বন্ধ না হলে প্রয়োজনে দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি গড়ে তোলা হবে।” প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে খায়রুল আলম রফিক বলেন, “সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। কোনো নিরপরাধ সাংবাদিক যেন ব্যক্তিগত আক্রোশ বা প্রভাবশালী মহলের স্বার্থের কারণে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রশাসনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।” সংগঠনটির পরিচালক (আইন ও মানবাধিকার) মোহাম্মদ আলী আবির বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত করা জরুরি। কোনো সাংবাদিককে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হলে আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁর অধিকার রক্ষায় সংগঠনটি ভূমিকা রাখবে। মানববন্ধনে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা শাখার নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা অংশ নেন। কর্মসূচি থেকে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে তাঁদের মামলা থেকে অব্যাহতি, সাংবাদিক হয়রানি বন্ধ এবং স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

টঙ্গীতে সাংবাদিক মহিউদ্দিন রিপনকে অপহরণ, নির্যাতন ও এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ: বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

রায়পুরে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন সুষ্ঠু তদন্ত ও সাংবাদিক হয়রানি বন্ধের দাবি, প্রয়োজনে দেশব্যাপী কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

Update Time : ১১:৪৭:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
Print

আবদুর রহমান, রায়পুর উপজেলা প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে মিথ্যা, সাজানো ও হয়রানিমূলক দাবি করে তা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন সাংবাদিকেরা। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর জেলা ও সব উপজেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে দুই ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মামলার শিকার দুই সাংবাদিক হলেন দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকার রায়পুর প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুন ও দৈনিক সবুজ বিপ্লবের সাংবাদিক মিজানুর রহমান। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, যথাযথ তদন্ত ও তথ্যপ্রমাণ যাচাই ছাড়াই দুই সাংবাদিককে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতেই এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। বক্তারা বলেন, সাংবাদিকেরা সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অন্যায়ের চিত্র তুলে ধরেন। অথচ সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় তাঁদের মিথ্যা মামলা, হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের প্রধান সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রফিক এবং সংগঠনটির পরিচালক (আইন ও মানবাধিকার) মোহাম্মদ আলী আবির। মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন, “সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও সাজানো মামলা দিয়ে তাঁদের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একজন সাংবাদিক যখন সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরেন, তখন তাঁকে হয়রানি না করে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অথচ দুঃখজনকভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে একের পর এক হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠছে।” তিনি আরও বলেন, “লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অবিলম্বে তাঁদের মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। একই সঙ্গে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা দায়েরের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।” তিনি বলেন, “সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ কোনো নিরপরাধ সাংবাদিকের ওপর অন্যায়, নির্যাতন কিংবা হয়রানি মেনে নেবে না। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় আমাদের সংগঠন সব সময় সোচ্চার থাকবে। একজন সাংবাদিকের ওপর অন্যায় আঘাত এলে আমরা সম্মিলিতভাবে তার প্রতিবাদ করব। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা বন্ধ না হলে প্রয়োজনে দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি গড়ে তোলা হবে।” প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে খায়রুল আলম রফিক বলেন, “সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। কোনো নিরপরাধ সাংবাদিক যেন ব্যক্তিগত আক্রোশ বা প্রভাবশালী মহলের স্বার্থের কারণে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রশাসনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।” সংগঠনটির পরিচালক (আইন ও মানবাধিকার) মোহাম্মদ আলী আবির বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত করা জরুরি। কোনো সাংবাদিককে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হলে আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁর অধিকার রক্ষায় সংগঠনটি ভূমিকা রাখবে। মানববন্ধনে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা শাখার নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা অংশ নেন। কর্মসূচি থেকে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে তাঁদের মামলা থেকে অব্যাহতি, সাংবাদিক হয়রানি বন্ধ এবং স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।