ঢাকা ১২:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিরপুরের দিয়াবাড়িতে ফল ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা কোথায়? মারধর, সংবাদ সম্মেলনে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৫৮:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৭ Time View
Print

সুমন খান: রাজধানীর মিরপুরের দারুস সালাম থানাধীন দিয়াবাড়ি সংলগ্ন শাহ আলী ফল ভান্ডার আড়তে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে এক ফল ব্যবসায়ীকে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনেও হামলার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, সংবাদ সম্মেলন চলাকালে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতেই একদল ব্যক্তি হামলা চালায়। এ সময় সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ, দুটি ক্যামেরা ভাঙচুর, কয়েকজনকে আহত করা, তিন নারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানি এবং একটি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।পরপর এসব ঘটনার অভিযোগে দিয়াবাড়ি এলাকার ফল ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবির অভিযোগের প্রতিবাদ জানাতেও যদি হামলার শিকার হতে হয়, তাহলে তাঁরা নিরাপদে ব্যবসা পরিচালনা করবেন কীভাবে?চাঁদা দাবির প্রতিবাদ করায় ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শাহ আলী ফল ভান্ডার আড়তের ব্যবসায়ী মো. আইয়ুব আলী (৪০), পিতা মৃত ইয়াকুব আলী মুন্সী, চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ সময় আইয়ুব আলীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে রুবেল চৌধুরী নামের আরও এক ব্যক্তি আহত হন বলেও অভিযোগ রয়েছে।এ ঘটনায় জহির, সুমন, লিটন, শুক্কুর আলী ও আলমগীরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। আইয়ুব আলী এ ঘটনায় দারুস সালাম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।প্রতিবাদী সংবাদ সম্মেলনেও হামলার অভিযোগ,ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ঘটনার পরদিন শাহ আলী ফল ভান্ডার আড়তে তাঁরা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেখানে নিজেদের ওপর হামলা, চাঁদা দাবির অভিযোগ এবং ব্যবসায়িক নিরাপত্তাহীনতার বিষয়গুলো সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরছিলেন তাঁরা।অভিযোগ অনুযায়ী, সংবাদ সম্মেলন চলাকালে জহির, আলমগীর ও সুমনসহ একদল ব্যক্তি মিছিল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে হামলা চালায়। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে থাকা সাংবাদিকেরাও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে।ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ করে এবং দুটি ক্যামেরা ভাঙচুর করে। এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন। এ ছাড়া হাসি খুশি বাবুসহ তিন নারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগও করেছেন তাঁরা। ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।সংবাদ সম্মেলনের মতো প্রকাশ্যে আয়োজিত একটি কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ শুধু ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নয়, সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। তবে হামলার প্রকৃত ঘটনা, কারা এতে অংশ নিয়েছেন এবং কার কী ভূমিকা ছিল, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ।একই ঘটনায় আড়ত ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিনের দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এতে তাঁর ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিরোধের জেরে তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জীবিকার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাঁরা জানান, এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শ্রমিক, কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। তবে দোকান থেকে কী পরিমাণ মালামাল লুট হয়েছে, কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো প্রত্যক্ষদর্শী বা সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।পুরো আড়ত কি চাঁদাবাজির চাপে?স্থানীয় ফল ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দিয়াবাড়ি সংলগ্ন ফলের আড়ত ও আশপাশের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবির ঘটনা তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাঁদের দাবি, ফলের আড়ত, অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বড় যানবাহন থেকেও চাঁদা দাবি করা হয়।ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, তাঁরা কোনো ধরনের হুমকি, ভয়ভীতি কিংবা অবৈধ আর্থিক চাপ ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করতে চান। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে জিম্মি হয়ে ব্যবসা করতে রাজি নন তাঁরা।তবে এসব অভিযোগের ব্যাপকতা, চাঁদা দাবির ধরন, অর্থ লেনদেনের প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করতে ভুক্তভোগীদের বক্তব্যের পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শী, নথিপত্র, ভিডিও ফুটেজ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য সংগ্রহ করা জরুরি।রাজনৈতিক পরিচয় ঘিরেও বিরোধের আলোচনা ,স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শাহ আলী থানা কৃষক দলের সভাপতি হিসেবে পরিচিত জহির এবং সাধারণ সম্পাদক লিটনকে ঘিরেও রাজনৈতিক অনুসারী ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তার নিয়ে আলোচনা রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা সোলায়মান দেওয়ান ও এসএ সিদ্দিকী সাজুর অনুসারী হওয়ার দাবি করা হয়েছে।অন্যদিকে, দিয়াবাড়ি কাঁচাবাজার ফল পট্টির সভাপতি ও বিএনপি নেতা জামাল হোসেনের পক্ষের লোকজনের সঙ্গে অপর পক্ষের বিরোধ রয়েছে বলেও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।তবে এসব রাজনৈতিক পরিচয়, সাংগঠনিক সম্পর্ক এবং বিরোধের সঙ্গে হামলার ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নির্ভরযোগ্য তথ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক পরিচয়কে অপরাধের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।এ ছাড়া আলমগীরের বিরুদ্ধে অতীতে আওয়ামী লীগের পদে থাকার এবং ছাত্রহত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার যে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে করা হয়েছে, তারও স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন। যথাযথ যাচাই ছাড়া এসব অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহের অধিকার সংবাদ সম্মেলনে হামলা এবং ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণের অভিযোগ বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে। সাংবাদিকেরা কোনো ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হলে তা শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য নয়, জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশের পরিবেশের জন্যও উদ্বেগজনক।সাংবাদিকদের ক্যামেরা ভাঙচুরের অভিযোগের পাশাপাশি হামলায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বের করে আনা জরুরি।এ ক্ষেত্রে সংবাদ সংগ্রহে থাকা সাংবাদিকদের পরিচয়, তাঁদের ধারণ করা ভিডিও, ভাঙচুর হওয়া সরঞ্জামের তথ্য এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা ব্যবসায়ীদের ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ তদন্ত করা এবং ফলের আড়তে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।তাঁদের দাবি, দারুস সালাম থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যেন অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে। একই সঙ্গে চাঁদা দাবির অভিযোগ, ব্যবসায়ীকে মারধর, সংবাদ সম্মেলনে হামলা, সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ, ক্যামেরা ভাঙচুর, নারী নির্যাতনের অভিযোগ এবং দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাগুলো পৃথকভাবে যাচাই করা হোক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

গোমস্তাপুরের বাংগাবাড়ী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মেসবাউল আলম বুলেটের নির্বাচনী প্রচারণা ও জনসভা

মিরপুরের দিয়াবাড়িতে ফল ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা কোথায়? মারধর, সংবাদ সম্মেলনে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

Update Time : ০৮:৫৮:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
Print

সুমন খান: রাজধানীর মিরপুরের দারুস সালাম থানাধীন দিয়াবাড়ি সংলগ্ন শাহ আলী ফল ভান্ডার আড়তে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে এক ফল ব্যবসায়ীকে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনেও হামলার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, সংবাদ সম্মেলন চলাকালে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতেই একদল ব্যক্তি হামলা চালায়। এ সময় সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ, দুটি ক্যামেরা ভাঙচুর, কয়েকজনকে আহত করা, তিন নারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানি এবং একটি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।পরপর এসব ঘটনার অভিযোগে দিয়াবাড়ি এলাকার ফল ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবির অভিযোগের প্রতিবাদ জানাতেও যদি হামলার শিকার হতে হয়, তাহলে তাঁরা নিরাপদে ব্যবসা পরিচালনা করবেন কীভাবে?চাঁদা দাবির প্রতিবাদ করায় ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শাহ আলী ফল ভান্ডার আড়তের ব্যবসায়ী মো. আইয়ুব আলী (৪০), পিতা মৃত ইয়াকুব আলী মুন্সী, চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ সময় আইয়ুব আলীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে রুবেল চৌধুরী নামের আরও এক ব্যক্তি আহত হন বলেও অভিযোগ রয়েছে।এ ঘটনায় জহির, সুমন, লিটন, শুক্কুর আলী ও আলমগীরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। আইয়ুব আলী এ ঘটনায় দারুস সালাম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।প্রতিবাদী সংবাদ সম্মেলনেও হামলার অভিযোগ,ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ঘটনার পরদিন শাহ আলী ফল ভান্ডার আড়তে তাঁরা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেখানে নিজেদের ওপর হামলা, চাঁদা দাবির অভিযোগ এবং ব্যবসায়িক নিরাপত্তাহীনতার বিষয়গুলো সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরছিলেন তাঁরা।অভিযোগ অনুযায়ী, সংবাদ সম্মেলন চলাকালে জহির, আলমগীর ও সুমনসহ একদল ব্যক্তি মিছিল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে হামলা চালায়। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে থাকা সাংবাদিকেরাও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে।ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ করে এবং দুটি ক্যামেরা ভাঙচুর করে। এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন। এ ছাড়া হাসি খুশি বাবুসহ তিন নারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগও করেছেন তাঁরা। ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।সংবাদ সম্মেলনের মতো প্রকাশ্যে আয়োজিত একটি কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ শুধু ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নয়, সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। তবে হামলার প্রকৃত ঘটনা, কারা এতে অংশ নিয়েছেন এবং কার কী ভূমিকা ছিল, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ।একই ঘটনায় আড়ত ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিনের দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এতে তাঁর ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিরোধের জেরে তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জীবিকার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাঁরা জানান, এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শ্রমিক, কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। তবে দোকান থেকে কী পরিমাণ মালামাল লুট হয়েছে, কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো প্রত্যক্ষদর্শী বা সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।পুরো আড়ত কি চাঁদাবাজির চাপে?স্থানীয় ফল ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দিয়াবাড়ি সংলগ্ন ফলের আড়ত ও আশপাশের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবির ঘটনা তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাঁদের দাবি, ফলের আড়ত, অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বড় যানবাহন থেকেও চাঁদা দাবি করা হয়।ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, তাঁরা কোনো ধরনের হুমকি, ভয়ভীতি কিংবা অবৈধ আর্থিক চাপ ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করতে চান। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে জিম্মি হয়ে ব্যবসা করতে রাজি নন তাঁরা।তবে এসব অভিযোগের ব্যাপকতা, চাঁদা দাবির ধরন, অর্থ লেনদেনের প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করতে ভুক্তভোগীদের বক্তব্যের পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শী, নথিপত্র, ভিডিও ফুটেজ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য সংগ্রহ করা জরুরি।রাজনৈতিক পরিচয় ঘিরেও বিরোধের আলোচনা ,স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শাহ আলী থানা কৃষক দলের সভাপতি হিসেবে পরিচিত জহির এবং সাধারণ সম্পাদক লিটনকে ঘিরেও রাজনৈতিক অনুসারী ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তার নিয়ে আলোচনা রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা সোলায়মান দেওয়ান ও এসএ সিদ্দিকী সাজুর অনুসারী হওয়ার দাবি করা হয়েছে।অন্যদিকে, দিয়াবাড়ি কাঁচাবাজার ফল পট্টির সভাপতি ও বিএনপি নেতা জামাল হোসেনের পক্ষের লোকজনের সঙ্গে অপর পক্ষের বিরোধ রয়েছে বলেও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।তবে এসব রাজনৈতিক পরিচয়, সাংগঠনিক সম্পর্ক এবং বিরোধের সঙ্গে হামলার ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নির্ভরযোগ্য তথ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক পরিচয়কে অপরাধের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।এ ছাড়া আলমগীরের বিরুদ্ধে অতীতে আওয়ামী লীগের পদে থাকার এবং ছাত্রহত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার যে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে করা হয়েছে, তারও স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন। যথাযথ যাচাই ছাড়া এসব অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহের অধিকার সংবাদ সম্মেলনে হামলা এবং ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণের অভিযোগ বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে। সাংবাদিকেরা কোনো ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হলে তা শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য নয়, জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশের পরিবেশের জন্যও উদ্বেগজনক।সাংবাদিকদের ক্যামেরা ভাঙচুরের অভিযোগের পাশাপাশি হামলায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বের করে আনা জরুরি।এ ক্ষেত্রে সংবাদ সংগ্রহে থাকা সাংবাদিকদের পরিচয়, তাঁদের ধারণ করা ভিডিও, ভাঙচুর হওয়া সরঞ্জামের তথ্য এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা ব্যবসায়ীদের ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ তদন্ত করা এবং ফলের আড়তে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।তাঁদের দাবি, দারুস সালাম থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যেন অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে। একই সঙ্গে চাঁদা দাবির অভিযোগ, ব্যবসায়ীকে মারধর, সংবাদ সম্মেলনে হামলা, সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ, ক্যামেরা ভাঙচুর, নারী নির্যাতনের অভিযোগ এবং দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাগুলো পৃথকভাবে যাচাই করা হোক।