ঢাকা ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মনপুরায় কলাতলী ইউপি ভবন আবাসন বাজারে স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:১৩:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪৯ Time View
Print

মোঃ শাকিল খান রাজু সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার ৫ নম্বর কলাতলী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন আবাসন বাজারে নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আবাসন বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইউনিয়নের ১, ২, ৪, ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় দেড় হাজার পরিবারের মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ শুধু একটি প্রশাসনিক ভবন নয়, এটি সাধারণ মানুষের নাগরিক সেবা পাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হয়। তাই পরিষদ ভবনের স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট এলাকার স্বার্থকে প্রাধান্য না দিয়ে ইউনিয়নের সব এলাকার মানুষের যাতায়াতের সুবিধা ও ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, আবাসন বাজারে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ করা হলে ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলোর বিপুলসংখ্যক মানুষ সহজে সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি যাতায়াতের দুর্ভোগও কমবে। মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবদুল হামিদ বলেন, মনপুরার মতো বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চলে যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষকে সরকারি সেবা পেতে বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, নারী, অসুস্থ মানুষ ও দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের দূরে গিয়ে সেবা গ্রহণ করা অনেক সময় কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তাই ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের স্থান নির্ধারণে সাধারণ মানুষের সুবিধা-অসুবিধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। স্থানীয় বাসিন্দা মো. এরশাদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ জনগণের সেবা পাওয়ার জায়গা। তাই ভবন নির্মাণের স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনসাধারণের মতামত, যাতায়াতের সুবিধা এবং সব ওয়ার্ডের মানুষের স্বার্থ বিবেচনা করতে হবে। আবাসন বাজারে পরিষদ ভবন নির্মাণ করা হলে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে বলে তাঁরা আশা করেন। স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলাউদ্দিন খলিফা বলেন, “আবাসন বাজারে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ করা হলে সরকারি অনুদানের জন্য বরাদ্দকৃত মালামাল পরিবহনের খরচ অনেকাংশে কমে যাবে।” মানববন্ধন থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে আবাসন বাজারে কলাতলী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক। এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবিব বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের জন্য প্রায় ৮০ শতক জমির প্রয়োজন। তবে পরিষদ ভবন নির্মাণের জন্য নিজস্ব জমি না থাকায় স্থান নির্ধারণ নিয়ে কিছুটা দ্বিধা ছিল। তিনি বলেন, বর্তমানে মনির বাজারের স্থানীয় বাসিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের জন্য বিনামূল্যে জমি দিতে সম্মত হয়েছেন। এ ছাড়া মনির বাজারে সরকারি সেন্টার থাকায় সেখানে পরিষদ ভবন নির্মাণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইউএনও আরও বলেন, পরিষদ ভবন নির্মাণের জন্য আমাদের পছন্দের তালিকায় দুটি স্থান রয়েছে। যে স্থানে তুলনামূলকভাবে বেশি পরিমাণ জমি পাওয়া যাবে এবং ভবন নির্মাণের জন্য উপযুক্ত হবে, সেখানেই ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, তাঁদের দাবির যথাযথ মূল্যায়ন করে এমন একটি স্থান নির্বাচন করা হবে, যেখানে ইউনিয়নের সব এলাকার মানুষ সহজে নাগরিক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন এবং সরকারি সেবা পেতে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তির শিকার হবেন না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

এসএমপিতে পদোন্নতিপ্রাপ্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে র‍্যাংক ব্যাজ পরালেন কমিশনার

মনপুরায় কলাতলী ইউপি ভবন আবাসন বাজারে স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন

Update Time : ০৯:১৩:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
Print

মোঃ শাকিল খান রাজু সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার ৫ নম্বর কলাতলী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন আবাসন বাজারে নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আবাসন বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইউনিয়নের ১, ২, ৪, ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় দেড় হাজার পরিবারের মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ শুধু একটি প্রশাসনিক ভবন নয়, এটি সাধারণ মানুষের নাগরিক সেবা পাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হয়। তাই পরিষদ ভবনের স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট এলাকার স্বার্থকে প্রাধান্য না দিয়ে ইউনিয়নের সব এলাকার মানুষের যাতায়াতের সুবিধা ও ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, আবাসন বাজারে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ করা হলে ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলোর বিপুলসংখ্যক মানুষ সহজে সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি যাতায়াতের দুর্ভোগও কমবে। মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবদুল হামিদ বলেন, মনপুরার মতো বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চলে যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষকে সরকারি সেবা পেতে বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, নারী, অসুস্থ মানুষ ও দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের দূরে গিয়ে সেবা গ্রহণ করা অনেক সময় কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তাই ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের স্থান নির্ধারণে সাধারণ মানুষের সুবিধা-অসুবিধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। স্থানীয় বাসিন্দা মো. এরশাদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ জনগণের সেবা পাওয়ার জায়গা। তাই ভবন নির্মাণের স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনসাধারণের মতামত, যাতায়াতের সুবিধা এবং সব ওয়ার্ডের মানুষের স্বার্থ বিবেচনা করতে হবে। আবাসন বাজারে পরিষদ ভবন নির্মাণ করা হলে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে বলে তাঁরা আশা করেন। স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলাউদ্দিন খলিফা বলেন, “আবাসন বাজারে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ করা হলে সরকারি অনুদানের জন্য বরাদ্দকৃত মালামাল পরিবহনের খরচ অনেকাংশে কমে যাবে।” মানববন্ধন থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে আবাসন বাজারে কলাতলী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক। এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবিব বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের জন্য প্রায় ৮০ শতক জমির প্রয়োজন। তবে পরিষদ ভবন নির্মাণের জন্য নিজস্ব জমি না থাকায় স্থান নির্ধারণ নিয়ে কিছুটা দ্বিধা ছিল। তিনি বলেন, বর্তমানে মনির বাজারের স্থানীয় বাসিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের জন্য বিনামূল্যে জমি দিতে সম্মত হয়েছেন। এ ছাড়া মনির বাজারে সরকারি সেন্টার থাকায় সেখানে পরিষদ ভবন নির্মাণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইউএনও আরও বলেন, পরিষদ ভবন নির্মাণের জন্য আমাদের পছন্দের তালিকায় দুটি স্থান রয়েছে। যে স্থানে তুলনামূলকভাবে বেশি পরিমাণ জমি পাওয়া যাবে এবং ভবন নির্মাণের জন্য উপযুক্ত হবে, সেখানেই ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, তাঁদের দাবির যথাযথ মূল্যায়ন করে এমন একটি স্থান নির্বাচন করা হবে, যেখানে ইউনিয়নের সব এলাকার মানুষ সহজে নাগরিক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন এবং সরকারি সেবা পেতে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তির শিকার হবেন না।