ঢাকা ১২:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গলাচিপায় পৌরকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের জমকালো উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৪৩:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৫ Time View
Print

​খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান (পটুয়াখালী): উপকূলীয় জনপদ পটুয়াখালীর গলাচিপায় ক্রীড়ামোদী হাজারো মানুষের উল্লাস ও উৎসবমুখর পরিবেশে শুভ উদ্বোধন হলো বহু প্রতীক্ষিত পৌরকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল তিনটায় গলাচিপা হাইস্কুল মাঠে এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক এমপি। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় সংগীতের সুমধুর সুর ও ক্রীড়া পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মূল কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ঐতিহ্যবাহী এই মাঠে খেলাধুলা করে বিদায় নেওয়া প্রয়াত খেলোয়াড়দের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনায় মাঠে উপস্থিত সবাই এক মিনিটের নীরবতা পালন করেন। ​গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা ক্রীড়া কমিটির সভাপতি আবুজর মো. ইজাজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইমতিয়াজ আহমেদ, পটুয়াখালী জেলা যুব অধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি ও ক্রীড়া কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিবুল্লাহ এনিম, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মো. হাফিজুর রহমান ও সদস্য সচিব মো. জাকির হোসেন মুন্সীসহ গণঅধিকার পরিষদের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, গলাচিপার প্রবীণ সাবেক খেলোয়াড়বৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ। ​অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে ক্রীড়া সম্পাদক মহিবুল্লাহ এনিম বলেন, “যুব সমাজ যাতে মাদকের ভয়াল থাবায় ধ্বংস না হয়ে সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যায়, সে লক্ষ্যেই আমাদের এই আয়োজন। টুর্নামেন্টটি যেন উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সফলভাবে সম্পন্ন করা যায়, সেজন্য দলমত নির্বিশেষে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।” আইনশৃঙ্খলা ও পরিবেশ রক্ষার সার্বিক বিষয়ের ওপর জোর দিয়ে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইমতিয়াজ আহমেদ সতর্ক বার্তা দিয়ে বলেন, “খেলা মানেই আনন্দ ও সুন্দর বিনোদন। আনন্দ উপভোগ করতে এসে কেউ যদি কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করে, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।” ​ক্রীড়াসুলভ মনোভাব ও সুসংহত আচরণের গুরুত্ব তুলে ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক আগত দর্শক ও খেলোয়ারদের উদ্দেশ্যে বলেন, “খেলার মাঠে খেলোয়াড় ও দর্শকদের একটি কথাই মনে রাখতে হবে—দুটি দলের মধ্যে যেকোনো একটি দল জিতবে এবং অন্যটি হারবে। আমাদের যেন সেই পরাজয়কে সহজভাবে মেনে নেওয়ার উদারতা থাকে। আসুন, আমরা হাড় মেনে নেওয়ার প্রতিজ্ঞা করি এবং সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রেখে খেলি।” তিনি প্রদীপ্ত যুবসমাজ ও কিশোর-কিশোরীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, “মাদক ছেড়ে আপনারা মাঠের সবুজ ঘাসে ফিরে আসুন, সুস্থ ধারার ক্রীড়া চর্চায় নিজেদের আত্মনিয়োগ করুন।” ​প্রধান অতিথির গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক এমপি ক্রীড়াবান্ধব সরকারের উন্নয়নমূলক ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন, “বর্তমান সরকার একটি সুস্থ, সবল ও আদর্শ আগামী প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারিভাবে খেলাধুলায় ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের অন্যান্য পেশার মতো নিয়মিত বেতনের আওতায় আনা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দেরও বেতনের সুবিধার আওতায় আনা হবে।” খেলাধুলার ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে তিনি আরও বলেন, “আজকের এই টুর্নামেন্ট উপলক্ষে আমরা সবাই যেমন এক হয়েছি, ঠিক তেমনি খেলাধুলা আমাদের পারস্পরিক বৈষম্য, বিভাজন ও সংঘাত দূর করে সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে তোলে। তবে আবেগের বশে যেন এই খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর সংঘাত না হয়, সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।” আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের পরিচ্ছন্নতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “আমরা দেখেছি আন্তর্জাতিক খেলায় জাপানি দর্শকেরা খেলা শেষে গ্যালারির কাগজের টুকরো ও ময়লা নিজ হাতে তুলে পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখে। আমাদেরও তাদের মতো শৃঙ্খলা, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখতে হবে। তা ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য আমাদের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিকল্প নেই।” ​বক্তব্য পর্ব শেষে রেফারির বাঁশির সুরে মাঠে বল গড়ালে পুরো মাঠ গ্যালারি করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। বর্ণিল সাজে সজ্জিত মাঠ, দর্শকদের কোলাহল আর খেলোয়াড়দের নৈপুণ্যে গলাচিপা হাইস্কুল মাঠ যেন এক প্রাণের মেলায় পরিণত হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

এসএমপিতে পদোন্নতিপ্রাপ্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে র‍্যাংক ব্যাজ পরালেন কমিশনার

গলাচিপায় পৌরকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের জমকালো উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক

Update Time : ১০:৪৩:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
Print

​খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান (পটুয়াখালী): উপকূলীয় জনপদ পটুয়াখালীর গলাচিপায় ক্রীড়ামোদী হাজারো মানুষের উল্লাস ও উৎসবমুখর পরিবেশে শুভ উদ্বোধন হলো বহু প্রতীক্ষিত পৌরকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল তিনটায় গলাচিপা হাইস্কুল মাঠে এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক এমপি। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় সংগীতের সুমধুর সুর ও ক্রীড়া পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মূল কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ঐতিহ্যবাহী এই মাঠে খেলাধুলা করে বিদায় নেওয়া প্রয়াত খেলোয়াড়দের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনায় মাঠে উপস্থিত সবাই এক মিনিটের নীরবতা পালন করেন। ​গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা ক্রীড়া কমিটির সভাপতি আবুজর মো. ইজাজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইমতিয়াজ আহমেদ, পটুয়াখালী জেলা যুব অধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি ও ক্রীড়া কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিবুল্লাহ এনিম, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মো. হাফিজুর রহমান ও সদস্য সচিব মো. জাকির হোসেন মুন্সীসহ গণঅধিকার পরিষদের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, গলাচিপার প্রবীণ সাবেক খেলোয়াড়বৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ। ​অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে ক্রীড়া সম্পাদক মহিবুল্লাহ এনিম বলেন, “যুব সমাজ যাতে মাদকের ভয়াল থাবায় ধ্বংস না হয়ে সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যায়, সে লক্ষ্যেই আমাদের এই আয়োজন। টুর্নামেন্টটি যেন উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সফলভাবে সম্পন্ন করা যায়, সেজন্য দলমত নির্বিশেষে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।” আইনশৃঙ্খলা ও পরিবেশ রক্ষার সার্বিক বিষয়ের ওপর জোর দিয়ে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইমতিয়াজ আহমেদ সতর্ক বার্তা দিয়ে বলেন, “খেলা মানেই আনন্দ ও সুন্দর বিনোদন। আনন্দ উপভোগ করতে এসে কেউ যদি কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করে, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।” ​ক্রীড়াসুলভ মনোভাব ও সুসংহত আচরণের গুরুত্ব তুলে ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক আগত দর্শক ও খেলোয়ারদের উদ্দেশ্যে বলেন, “খেলার মাঠে খেলোয়াড় ও দর্শকদের একটি কথাই মনে রাখতে হবে—দুটি দলের মধ্যে যেকোনো একটি দল জিতবে এবং অন্যটি হারবে। আমাদের যেন সেই পরাজয়কে সহজভাবে মেনে নেওয়ার উদারতা থাকে। আসুন, আমরা হাড় মেনে নেওয়ার প্রতিজ্ঞা করি এবং সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রেখে খেলি।” তিনি প্রদীপ্ত যুবসমাজ ও কিশোর-কিশোরীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, “মাদক ছেড়ে আপনারা মাঠের সবুজ ঘাসে ফিরে আসুন, সুস্থ ধারার ক্রীড়া চর্চায় নিজেদের আত্মনিয়োগ করুন।” ​প্রধান অতিথির গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক এমপি ক্রীড়াবান্ধব সরকারের উন্নয়নমূলক ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন, “বর্তমান সরকার একটি সুস্থ, সবল ও আদর্শ আগামী প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারিভাবে খেলাধুলায় ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের অন্যান্য পেশার মতো নিয়মিত বেতনের আওতায় আনা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দেরও বেতনের সুবিধার আওতায় আনা হবে।” খেলাধুলার ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে তিনি আরও বলেন, “আজকের এই টুর্নামেন্ট উপলক্ষে আমরা সবাই যেমন এক হয়েছি, ঠিক তেমনি খেলাধুলা আমাদের পারস্পরিক বৈষম্য, বিভাজন ও সংঘাত দূর করে সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে তোলে। তবে আবেগের বশে যেন এই খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর সংঘাত না হয়, সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।” আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের পরিচ্ছন্নতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “আমরা দেখেছি আন্তর্জাতিক খেলায় জাপানি দর্শকেরা খেলা শেষে গ্যালারির কাগজের টুকরো ও ময়লা নিজ হাতে তুলে পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখে। আমাদেরও তাদের মতো শৃঙ্খলা, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখতে হবে। তা ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য আমাদের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিকল্প নেই।” ​বক্তব্য পর্ব শেষে রেফারির বাঁশির সুরে মাঠে বল গড়ালে পুরো মাঠ গ্যালারি করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। বর্ণিল সাজে সজ্জিত মাঠ, দর্শকদের কোলাহল আর খেলোয়াড়দের নৈপুণ্যে গলাচিপা হাইস্কুল মাঠ যেন এক প্রাণের মেলায় পরিণত হয়।